ভিসা পেলেন সুজন ও নান্নু

আগের সংবাদ

সালমান শাহ’র জন্মদিনে ইমরানের উপহার

পরের সংবাদ

আ.লীগ ও বিএনপির কোন্দলের সুযোগ নিতে চায় জাতীয় পার্টি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ , ৫:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮, ৫:১৬ অপরাহ্ণ

রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত কুমিল্লা উত্তর জেলার হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসন। এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ারের মৃত্যুর পর দলটিতে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। আর এ আসনে আগে থেকেই কোন্দলে বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ। তবে সব কোন্দল নিরসন করে এবার আসনটি উদ্ধার করার মিশনে নেমেছেন নিটল-নিলয় গ্রæপের কর্ণধার ও বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ মেরী। তার সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ার মতো। এদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কলহকে এবারো কাজে লাগাতে চায় জাতীয় পার্টি। এ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আমির হোসেন ভ‚ঁইয়া উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে নির্বাচনী এলাকার হাটে-মাঠে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় হোমনায় বিরাজ করছে আগাম নির্বাচনী আমেজ।
আগামী নির্বাচনে দলের একটি অংশ এম কে আনোয়ারের বড় ছেলে কায়জারকে চাইলেও অপর একটি অংশ হোমনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লাকে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে চাইছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে দলে দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাজে লাগাতে চান জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ আমির হোসেন ভূঁইয়া এমপি। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন নিটল-নিলয় গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ মেরী। এ
ছাড়া হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. ছিদ্দিকুর রহমান আবুলও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। আবুল দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে হোমনায় দলের হাল ধরে রেখেছেন। দুর্দিনে মামলা-হামলা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৃর্ণমূল নেতাকর্মীরা। এদিকে জাতীয় পার্টির এমপি আমির হোসেন ভ‚ঁইয়া এবারো নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গত ৪ বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি জনগণের সামনে তুলে ধরছেন। এ ছাড়া গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশসহ সাংগঠনিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দলের মজবুত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। এ আসনে অতীতে জাতীয় পার্টির তেমন অবস্থান না থাকলেও আমির হোসেন ভূঁইয়া এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর হোমনা ও তিতাসে জাতীয় পার্টিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন। তিনি এ দুই উপজেলায় জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন করেছেন। আগামী নির্বাচনে মহাজোট থেকে তাকে মনোনয়ন দিলেই এ আসনে জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে এমপি আমির হোসেন ভ‚ঁইয়া বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর গত ৪ বছরে আমি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উন্নযন কাজ করেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও অবকাঠামো নির্মাণ-সংস্কারসহ ব্যাপক উন্নয়ন করে এ দুই উপজেলার চিত্র বদলে দিয়েছি। তিনি বলেন, বিগত দিনে এমপি-মন্ত্রী হয়েও ২ উপজেলার অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ গোমতী নদীর ওপর গৌরীপুর জিয়ারকান্দি ব্রিজ, মৌটুপী ব্রিজ, শিবপুর ব্রিজ, হাদিরখাল ব্রিজ কেউ নির্মাণ করতে পারেনি। কিন্তু এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এ দাবি ও প্রত্যাশা আমি পূরণ করতে পেরেছি। ২ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ৩টি কলেজ সরকারিকরণ করেছি। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার করে শিক্ষার আধুনিক পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছি। সব মসজিদ, মাদ্রাসা, গির্জা, মন্দির, কবরস্থান ও ঈদগাহ মাঠে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। ২ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এনেছি। রাস্তাঘাটের আমূল পরিবর্তন করেছি। সাইক্লোন ভবন, সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে হোমনা-গৌরীপুর সড়ক সংস্কার করেছি। প্রতিনিয়তই আমার হাতে ফুল দিয়ে শত শত নেতাকর্মী জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছেন। আশা করি, আগামী নির্বাচনে মহাজোট আমার এ ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করবে। এদিকে এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী নিটল-নিলয় গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও নারী উদ্যোক্তা সেলিমা আহমাদ মেরী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজ, নারী ও তরুণ সমাজকে নিয়ে এলাকায় আওয়ামী লীগের দুর্গ গড়তে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নেত্রী শেখ হাসিনাকে এ আসন উপহার দিতে তার দৌড়ঝাঁপও চোখে পড়ার মতো। তিনি বলেন, হোমনায় দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে আমার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেমে আমি হোমনা-তিতাসের সর্বস্তরের জনগণের বিপুল সাড়া সমর্থন পাচ্ছি। সম্প্রতি আমি হোমনায় ২০টি দলীয় অফিস নির্মাণ করেছি। এসব অফিস থেকে সরকারের উন্নয়ন ও দলীয় প্রচারসহ নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে হোমনা উপজেলাকে যুক্ত করতে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আধুনিক হোমনা-তিতাস প্রতিষ্ঠা করাই আমার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে আমি কাজ করব। ইতোপূর্বে ৪৭ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে আমি ট্রেনিং দিয়েছি। দেশের উন্নয়নে আমাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। নিটল-নিলয় গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে বিপুলসংখ্যক জনশক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। আমার বিশ্বাস আমি উন্নয়ন করতে পারব। তিনি বলেন, তিতাস আমার মায়ের বাড়ি হোমনা আমার বাবার বাড়ি। এ দুই উপজেলার বাসিন্দারা অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করবেন। হোমনা-তিতাস আওয়ামী লীগে কোনো মতবিরোধ থাকবে না, সবাইকে কাছে টেনে নিয়ে আমি ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ গঠন করব এবং আগামী নির্বাচনে নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমি এ আসনটি উপহার দেব। তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের বিজয় সহজ হবে বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।