পটুয়াখালীতে যে কোন সময় ঘটতে পারে মারাত্নক বিদ্যুৎ বিপর্যয়

আগের সংবাদ

রাজধানীর শ্যামপুরে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে দিনমজুরের মৃত্যু

পরের সংবাদ

বিএনপি নির্বাচনে এলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ , ২:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮, ১:৪৫ অপরাহ্ণ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, মানিকগঞ্জ-১ আসনে নমিনেশনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে গেছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে এলে এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করেন অনেকেই।

৮ম জাতীয় সংসদ পর্যন্ত জেলায় সংসদীয় আসন ৪টি থাকলেও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে একটি আসন কর্তনের ফলে বর্তমানে আসন রয়েছে ৩টি। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত মানিকগঞ্জে কোনো আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেনি। তবে জেলার তিনটি আসনই পর পর দুবার দখলে থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে গোছানো আওয়ামী লীগ রয়েছে এখন ফুরফুরে মেজাজে। যোগ্য অনেক নেতা বাদ পড়ার অভিযোগ থাকার পরও মানিকগঞ্জ জেলাসহ ওয়ার্ড পর্যায়েও দলটির রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

অপরদিকে নেতৃত্বের কোন্দলে এখনো অগোছালো জেলা বিএনপি। প্রায় চার বছর আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি দলটি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিভাজন ছাড়াও আরো কয়েকটি উপদলীয় বিভক্তি রয়েছে। যে কারণে সভাপতি উপজেলা কমিটি গঠন করলেও অন্য পক্ষগুলো তা মেনে নেয়নি। ১৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সব সদস্যকে নিয়ে এ পর্যন্ত একটি মিটিংও করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি রয়েছে সাংগঠনিক সংকটে। আর নির্বাচন মনোনয়ন নিয়ে এই সংকট আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন দলটির নেতকর্মীরা।

শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসন। আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দখলে ছিল। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব এডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেন পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন এখান থেকে। ৯ম সংসদ নির্বাচনে তাকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এ বি এম আনোয়ারুল হক। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আগামী নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন চাইবেন এই সাবেক ক্রিকেটার। তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতা। জানা গেছে, এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদ, আগেরবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হক ও মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কমিশনার সুভাষ চন্দ্র সরকার। সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আনোয়ারুল হক তার পুরনো কাজের ওপর জোর দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। সুভাষ সরকার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

এখন পর্যন্ত নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে মাঠে রয়েছেন এস এম জাহিদ। দুজনকেই প্রায় প্রতিদিন এলাকায় জনসংযোগে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। নাঈমুর রহমান দুর্জয় যেভাবে জনগণের মাঝে গিয়ে সরকারি অনুদান দিচ্ছেন, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই এস এম জাহিদ। তাই তৃণমূল নেতারা মনে করছেন যদি নাঈমুর রহমান দুর্জয় মনোনয়ন না পান, সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এস এম জাহিদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৬ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্র্রীয় নির্বাহী সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, বিএনপির সাবেক মহাসচিব এডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে এডভোকেট খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা, সাবেক যুবদল সভাপতি ইকবাল হোসেন খান মুক্তা। আফরোজা খান রিতা মানিকঞ্জের সব আসন থেকেই নমিনেশন চাইছেন।