শহিদুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ

আগের সংবাদ

গঞ্জেরাজের মালিক ও চালকের জামিন, ক্ষুব্ধ আকিফার বাবা

পরের সংবাদ

শিল্পকলায় উদীচীর ‘বৌ-বসন্তি’ মঞ্চস্থ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ , ১:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ১:১৬ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগের অন্যতম জনপ্রিয় প্রযোজনা ‘বৌ-বসন্তি’র ৫৬তম পরিবেশনা হলো শিল্পকলায়। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় নাটকটি। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি বিশিষ্ট নাট্যকার অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী রচিত এবং নাট্যজন আজাদ আবুল কালাম নির্দেশিত নাটকটির সময়কাল ১৯৭১ সাল, যে সময়টায় পূর্ব পাকিস্তানে নাটকের আরম্ভ আর বাংলাদেশে এসে সমাপ্তি। যখন পূর্ব পাকিস্তান ছিল তখনো স্বাধিকার প্রমত্ত বাঙালি ছিল। আর যখন বাংলাদেশ তখনো বাঙালির মধ্যে লুকিয়ে আছে কতিপয় স্বাধীনতাবিরোধী। এই রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে কোনো এক গ্রামীণ জনপদের জীবন বৈচিত্র্য প্রকাশ পেয়েছে ‘বৌ-বসন্তি’ নাটকে।
নাটকটির গল্প ঘুরপাক খায় গ্রামের চোর বদর ও মনুর জীবনের নানা কর্মকান্ডকে কেন্দ্র করে। বদর একই গ্রামের ভিক্ষুকের মেয়েকে ভালোবাসলেও তাতে প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে সালিশে গ্রামছাড়া হয়ে গঞ্জে গিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করলেও নতুন বউয়ের নানা বায়না মেটাতে হিমশিম খায় সে। একপর্যায়ে তার সেই স্ত্রীও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মদতকারী ধূর্ত প্রতারক মঈনের হাত ধরে পালিয়ে যায়। এই সম্পর্কের টানাপড়েনের পাশাপাশি নাটকটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা ঘটনাচিত্র খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় শহর ছেড়ে মানুষের গ্রামে ছুটে চলা, বাজারে নিত্যপণ্যের হাহাকার, রাজাকারদের নানা কর্মকান্ড ফুটিয়ে তোলা ছাড়াও দেখানো হয়েছে কীভাবে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে নানা ক‚টকৌশলে বিভ্রান্ত করা হতো।
নাটকের মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনা করেছেন মো. সাইফুল ইসলাম, সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন রাহুল আনন্দ, পোশাক পরিকল্পনা করেছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন, আঞ্চলিক ভাষা প্রয়োগে সহযোগিতা করেছেন ফাহমিদা হক কলি এবং মুখোশ নির্মাণ করেছেন মছিহুদ্দৌলা আজাদ।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রতন দেব, আনোয়ারুল হক, মারুফ রহমান, শহিদুল আলম দিপু, আলমগীর হোসেন, হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, জামিল উদ্দিন খান রতন, বাবু, তপন, রিফাত, ফাহমিদা হক কলি, আশরাফুন্নাহার মালা প্রমুখ।