ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গেলেন নওয়াজপত্নী কুলসুম

আগের সংবাদ

আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু!

পরের সংবাদ

নগরবাসীর নিরাপত্তায় ডিজিটাল মনিটরিং

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ , ৮:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ৮:০০ অপরাহ্ণ

রাজধানীতে অপরাধী শনাক্তকরণে সিসি ক্যামেরা সহায়ক হয়েছে এমন উদাহরণও রয়েছে। সিসি ক্যামেরা বসালেই যে অপরাধ বন্ধ হয়ে যাবে বা এর মাধ্যমে শতভাগ ঘটনায় অপরাধী শনাক্ত হয়ে যাবে- তার নিশ্চয়তা হয়তো নেই। তবে যথাযথভাবে পরিচালিত হলে এর কিছু সুফল নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।

অপরাধ দমনে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় আসছে পুরো রাজধানী। ‘ঢাকা সিটি ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ নামে নতুন করে ডিএমপি ১৬ হাজার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকালের ভোরের কাগজে এ খবর জানিয়ে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এগুলো জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সহায়ক হবে।

রাজধানীতে মহানগর পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা এর আগেই নেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ডিএমপির সিসি ক্যামেরা প্রকল্পের নাজুক পরিণতি এবং অর্থের অপচয় নিয়ে পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে বিগত সময়ে। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে আগে স্থাপিত ১৫৫টি ক্যামেরার প্রায় সবকটি। বিকল ৩১টি ইলেক্ট্রনিক ট্রাফিক মেসেজ ডিসপ্লে বোর্ড। পুলিশ কর্তৃপক্ষ এগুলো বুঝে না নেয়ায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায় ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি। এ হলো পুলিশের সিসি ক্যামেরা প্রকল্প বিষয়ক আমাদের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা। আবার নতুন করে ডিএমপি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ২০৫টি ক্রাইম পয়েন্ট, ৩৩৫টি ট্রাফিক পয়েন্ট, ৪১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, ১১০টি চেক পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়। যানজট এলাকার জন্য চিহ্নিত হয় ২৬০টি পয়েন্ট। এ জন্য মোট ৪ হাজার ১২৪টি স্পটে ১৬ হাজার ২৪৬টি ক্যামেরা বসানো হবে। এর মধ্যে অপরাধ চিহ্নিতের জন্য থাকবে ১৩ হাজার ৩০টি ক্যামেরা। সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩০৭টি ক্যামেরা থাকবে গুলশান এলাকায়। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫ হাজার কোটি টাকা। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগবে দুই বছর। চীনের হুয়াশিন কনসালিং কোম্পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০১৯ সালে এই প্রকল্প যাত্রা শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো কাজই শুরু হয়নি। তাই নতুন টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ সাল। বলা হচ্ছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আব্দুল গনি রোডের ১৪তলা ভবনের কন্ট্রোল রুমে বসে রাজধানীর সব রাস্তার সার্বিক চিত্র নজরদারি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর অর্থ, পরিকল্পনা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সায় পেয়ে কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। আগের নেতিবাচক অভিজ্ঞতায় অনেকে নতুন প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ তুলছেন। এটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা আশাবাদীও হতে চাই। রাজধানীতে অপরাধী শনাক্তকরণে সিসি ক্যামেরা সহায়ক হয়েছে এমন উদাহরণও রয়েছে। সিসি ক্যামেরা বসালেই যে অপরাধ বন্ধ হয়ে যাবে বা এর মাধ্যমে শতভাগ ঘটনায় অপরাধী শনাক্ত হয়ে যাবে- তার নিশ্চয়তা হয়তো নেই। তবে যথাযথভাবে পরিচালিত হলে এর কিছু সুফল নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। ডিএমপির সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এর পূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশিক্ষিত লোকবল দিয়ে এর সিস্টেম সচল ও আপডেটেড রাখতে হবে, প্রাপ্ত তথ্যেরও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।