ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণপিটুনিতে নিহত ১

আগের সংবাদ

শুভ জন্মদিন কনকচাঁপা

পরের সংবাদ

কোন্দলের সুযোগ নিয়ে আ.লীগের দুর্গে আঘাত হানতে চায় বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ , ১:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮, ১:৫২ অপরাহ্ণ

জামালপুর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে জামালপুর-৫ আসন গঠিত। আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে একাধারে চারবার নির্বাচিত হন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ রেজাউল করিম হীরা এমপি। এ আসনে আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে দলীয় কোন্দল না থাকলেও মনোনয়ন নিয়ে দলে বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ রয়েছেন প্রায় ডজনখানেক সম্ভাব্য প্রার্থী।
অপরদিকে প্রধান বিরোধীদল বিএনপিতেও একাধিক প্রার্থীর পাশাপাশি রয়েছে চরম কোন্দল। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের সাধারণ সম্পাদক দুবারের নির্বাচিত জামালপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন দলীয় কোন্দল থেকে বেরিয়ে আসনটি উদ্ধারের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সুসংগঠিত করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন শক্তিশালী একজন প্রার্থী হিসেবে। বরাবর আওয়ামী লীগের অনুক‚লে থাকলেও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দ্বন্দ্বের সুযোগে আওয়ামী লীগের এ দুর্গে বিএনপি এবার আঘাত হানতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। প্রার্থিতার ওপর নির্ভর করছে এ আসনের ভবিষ্যৎ। জামালপুর সদর আসনে আওয়ামী লীগের ১০, বিএনপির ৩ ও জাতীয় পার্টির ১ জনসহ মোট ১৪ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভ‚মিমন্ত্রী ও বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ রেজাউল করিম হীরা এমপি, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, জেলা বারের একাধিকবার নির্বাচিত সভাপতি কবি ও সাহিত্যিক এডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য বিশিষ্ট আইনজীবী এইচ আর জাহিদ আনোয়ার, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও এফবিসিসিআই পরিচালক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রেজনু (সিআইপি), আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপি, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিজন কুমার চন্দ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ব ম জাফর ইকবাল জাফু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আব্দুল মান্নান। এদের মধ্যে আলহাজ রেজাউল করিম হীরা এমপির এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি একাধারে চারবার এমপি নির্বাচিত হন এবং একবার ভ‚মিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি মন্ত্রী থাকাকালে এলাকায় বেশ উন্নয়ন করেছেন। দলমত নির্বিশেষে মানুষের কাজ করায় তিনি সাধারণ মানুষের মনের কোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন বলে মনে করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। এ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে হীরার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।
আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলেন, এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হলে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নেয়ার পাশাপাশি দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একাধিক ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এ অবস্থার সৃষ্টি হলে এতে বিএনপির লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন তারা।
অপরদিকে দেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির প্রার্থীরাও বসে নেই। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় বিএনপির নেতাদের মধ্যে মাঠে কাজ করছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দুবারের নির্বাচিত জামালপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিরাজুল হক ও সাবেক মহিলা এমপি নিলোফার চৌধুরী মণি। তবে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি পরপর দুবার জামালপুর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে অনেক আগে থেকেই গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের কান্ডারি হিসেবে দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে তিনি দলকে সুসংগঠিত করেছেন। তার নেতৃত্বে চলছে বিএনপি ও সব অঙ্গসংগঠন। তিনি মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারবেন বলে দাবি দলের নেতাকর্মীদের। তবে দলের সাবেক আহবায়ক তার দুলাভাই সাবেক উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক ও আরেক সাবেক আহবায়ক ও জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন মল্লিক এবং সাবেক মহিলা এমপি নিলোফার চৌধুরী মণির সঙ্গে রয়েছে তার চরম বিরোধ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দলের এই কোন্দল নিরসনের কেন্দ্রের কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানিয়েছেন মামুন বিরোধীরা। তবে মামুন অনুসারী নেতাকর্মীরা বলেন, জামালপুর সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১২ ওয়ার্ডের গুটিকয়েক নেতাকর্মী ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় জনপ্রিয়তাও রয়েছে মামুনের। সব কিছু মিলিয়ে তিনি মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে মোকাবেলা করে বিজয়ী হওয়ার আশা করছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।
এ আসনে জাতীয় পার্টির তেমন কোনো কর্মকান্ড না থাকলেও জেলা জাপার নেতার জাকির হোসেন খান দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি আওয়ামী লীগ ধরে রাখতে চাইলে, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মিটিয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী দিয়ে তার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যথায় একানব্বইয়ের নির্বাচনের মতো আওয়ামী লীগের দুর্গে আঘাত হানাতে পারে বিএনপি, এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।