সড়কে নৈরাজ্য চলছেই দুর্ভোগে যাত্রীরা

আগের সংবাদ

শিল্পকলায় মঞ্চায়ন ‘দ্রৌপদী পরম্পরা’

পরের সংবাদ

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

৯৫ ভাগ আত্মহত্যাকারী মানসিক রোগে ভোগেন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ , ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে পুরুষের আত্মহত্যার হার বেশি হলেও বাংলাদেশে এই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে নারীরা বেশি আত্মহত্যা করেন। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে যে হিসাব পাওয়া যায় বাস্তবে এর সংখ্যা তার চেয়েও বেশি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা এ দেশে সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে কীটনাশক বা বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের তথ্যমতে, রাজধানীতে আত্মহত্যাজনিত কারণে প্রতি মাসে গড়ে ২১ জন মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ নারী। যাদের বয়স ২৫-এর নিচে। বাকি ৩০ শতাংশ পুরুষ ও ৫ শতাংশ শিশু।
দেশে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক সমস্যার কারণে ৪১ শতাংশ, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ, বৈবাহিক সমস্যায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ, ভালোবাসায় কষ্ট পেয়ে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ, বিবাহবহিভর্‚ত গর্ভধারণ ও যৌন সম্পর্কের কারণে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ, স্বামীর নির্যাতনে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অর্থকষ্টের কারণে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, হতাশা ও বিষন্নতাই আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান কারণ। যারা আত্মহত্যা করেন তাদের ৯৫ ভাগই কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ছয় জনে একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত। আক্রান্তদের তিন চতুর্থাংশ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দানকারীর কাছে যান না।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আ ম সেলিম রেজা বলেন, দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণে দেখেছি মেয়েদের মধ্যেই বিশেষ করে কিশোরী ও তরুণীদের মাঝে আত্মহননের প্রবণতা বেশি। কেননা, মেয়েরা আবেগী হয় বেশি। আর দেখা যায় মেয়েরা যেসব কারণে আত্মহত্যা করে তার পেছনে আবেগটাই বেশি কাজ করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সালাহ

উদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, দেশজুড়ে আত্মহত্যা নিয়ে কোনো গবেষণা এখনো হয়নি। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এ বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেই ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (আইএএসপি) বা আত্মহত্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। ২০০৩ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সহায়তায় দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
নারীরা কেন বেশি আত্মহত্যা করে এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহা দিবা বলেন, আত্মহত্যা এমন একটি বিষয়, বলতে গেলে বিজ্ঞানও তার পুরোপুরি ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এখনো নারীবান্ধব নয়। নারীর ওপর সামাজিক চাপ বেশি। মানসম্মান রক্ষার দায় যেন শুধুমাত্র নারীরই। যে মেয়েটি ধর্ষণ বা যৌন হয়রানির শিকার হয় সমাজ তাকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করে দেয়। খারাপ বলে। মূলত এ কারণেই নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। তবে কাউন্সেলিং করা গেলে অনেক আত্মহত্যা ঠেকানো যায়।