পবিত্র আশুরা ২১ সেপ্টেম্বর

আগের সংবাদ

আফগানিস্তানে তালেবানের হামলায় ৫৭ সেনা-পুলিশ নিহত

পরের সংবাদ

১০ টাকার চাল আত্মসাতের অভিযোগ, লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ , ৯:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮, ৯:১১ অপরাহ্ণ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক ডিলারের বিরুদ্ধে হতদরিদ্রদের ১০ টাকা দরে চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওই ডিলার ৩০ কেজি করে ৬৬০ জন হতদরিদ্র কার্ডধারীর প্রতি বস্তা থেকে চার থেকে ছয় কেজি চাল খুলে রেখে কম দিয়ে আত্মসাত করেছেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। বলেন, ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে চাল আত্মসাতের অভিযোগে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করেছি এবং ওই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

রবিবার কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। হতদরিদ্রদের চাল কম দেয়ায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে ডিলার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে ৬৬০ জন কার্ডধারীর নামে ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

ওই ইউনিয়নের ডিলার কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন হাওলাদারের ভাই অলিউর রহমান হাওলাদার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছ থেকে ডেলিভারি অর্ডার নিয়ে ৩০ কেজি করে ৬৬০ বস্তা চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে বুঝে নেন।

গত রবিবার ডিলারের ভাই অলিউর রহমান হাওলাদার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ী বাজারে তার নিজস্ব গুদাম থেকে হতদরিদ্রদের মাঝে তিন শত টাকা নিয়ে ৩০ কেজির ১ বস্তা চাল বিতরণের কাজ শুরু করেন। কার্ডধারীরা ৩০ কেজির চালের বস্তা হাতে পেয়ে বস্তার মুখ খোলা দেখতে পায়। এ সময় বিতরণ প্রতিটি চালের বস্তা আলাদাভাবে ওজন দিয়ে ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৩ থেকে ২৬ কেজি করে চাল দেখতে পায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে জনতার মাঝে হট্টগোল শুরু হলে ওই ইউনিয়নের ডিলার রুহুল আমিন হাওলাদারের ভাই অলিউর রহমান হাওলাদার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পীড়ারবাড়ী গ্রামের হতদরিদ্র কার্ডধারী তামিজ বালা, আরতি বৈদ্য, শান্ত বিশ্বাস, লখণ্ডা গ্রামের ফুলমালা মল্লিক, লক্ষ্মী বাড়ৈ জানান, ৩০ কেজি চালের বস্তার মুখ খোলা পেয়ে আমরা মাপ দিয়ে দেখি আমাদের বস্তায় ২৪ থেকে ২৬ কেজি করে চাল আছে।

এ ঘটনার পর সাদুল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ভিম চন্দ্র বাড়ৈ ওই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উপজেো নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাবি জানান।

পরে এ ঘটনায় কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবিবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ডিলারের নিজস্ব খাদ্য গুদামে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন এবং তার লাইসেন্সটি বাতিল করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডিলার রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার ভাই অলিউর রহমান হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কোটালীপাড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহাবুদ্দিন আকন্দ জানান, চাল আত্মসাতের ঘটনায় ওই ডিলারেরর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোটালীপাড়া থানায় মামলা করা হয়েছে।