দক্ষিণ সুদানে বিমান বিধ্বস্তে ১৯ জন নিহত

আগের সংবাদ

৯৫ ভাগ আত্মহত্যাকারী মানসিক রোগে ভোগেন

পরের সংবাদ

সড়কে নৈরাজ্য চলছেই দুর্ভোগে যাত্রীরা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ , ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর সড়কে নৈরাজ্য ঠেকানো যাচ্ছে না। পুলিশ, বিআরটিএ কঠোর হওয়ার পরেও সড়ক নিরাপত্তায় সার্বিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। উপরন্তু গণপরিবহনের প্রবল সংকটের পরেও হিউম্যান হলার ও লেগুনা বন্ধের মতো কিছু হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে নগরবাসীর ভোগান্তি আরো বেড়েছে। অন্যদিকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানান উদ্যোগ নেয়ার পরেও জনগণের মধ্যে সচেতনতা ফিরে আসেনি। পথচারী ও গাড়িচালকদের অধিকাংশই সড়ক আইন মানছেন না। সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পুলিশের পাশাপাশি রোভার স্কাউটসহ স্বেচ্ছাসেবকদের কথাও কেউ কর্ণপাত করছেন না। গত কয়েক দিন সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে অনিয়ম ও নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেছে।
বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে বাসগুলো আগের মতোই এলোপাতাড়িভাবে পার্কিং করে যাত্রী উঠানামা করাচ্ছে, বাসের গেট বন্ধ রাখা হচ্ছে না, বাসের ভেতরে চালকের ছবি ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি ঝুলিয়ে রাখা হয়নি। এখনো বেপরোয়া গতিতেই চলছে গাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়িগুলোও রাস্তার পাশে যত্রতত্র পার্কিং করা হচ্ছে, সড়ক পারাপারে যাত্রীরা জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছে না। বন্ধ ঘোষণার পরেও অনেক জায়গায় হিউম্যান হলার ও লেগুনা চলছে। নগরীর মোহাম্মদপুর, মহাখালী, ফার্মগেট, পল্টন, কাকরাইল, মালিবাগ, মৌচাক এলাকায় আগের মতোই যানবাহনগুলো ইচ্ছেমতো চলছে। চালকদের মধ্যে নিয়ম মানার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই। গতকাল দুপুরে শান্তিনগর মোড়ে গাজীপুর পরিবহনের একটি বাস ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে বেপরোয়া গতিতেই মালিবাগের দিকে চলে যায়। কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
নগরীর ফার্মগেট থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলোকে বাংলামোটর পর্যন্ত গেট বন্ধ রাখতে দেখা যায়নি। সব বাসের চালকই নিজের ইচ্ছেমতো থেমে থেমে যাত্রী উঠানামা করিয়েছে। ফার্মগেট থেকে মৌচাক হয়ে রামপুরা-সায়েদাবাদ রুটে চলাচলরত লাব্বাইক ও স্বাধীন পরিবহনেও হরহামেশা যাত্রী উঠানামা বন্ধ হয়নি।
সড়ক নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানের ব্যাপারে পুলিশের প্রচারণা থাকলেও বাস্তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইন প্রয়োগে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট বেড়েছে। তবে আরোহীদের অনেকেই হেলমেট ব্যবহার করছেন না। মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচলেও পরিবর্তন আসেনি। অনেকেই ফুটপাতে মোটরসাইকেল তুলে দিচ্ছেন। রুহুল, মাহফুজুর রহমান, কামাল হোসেনসহ কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্ট জানান, গত দুই মাসে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। পাঠাও সার্ভিস চালুর পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক যুবক ঢাকায় এসে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। এদের অনেকেই ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে চলে যায়।
অন্যদিকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানান উদ্যোগ নেয়ার পরেও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা ফেরেনি। শাহবাগসহ নগরীর কোথাও কোথাও সড়ক সচেতনতা বাড়াতে পুলিশ, রোভার স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ তদারকির পরেও কাজ হচ্ছে না। গতকাল বাংলামোটর, ফার্মগেট, শাহবাগ এলাকায় ফুটওভার ব্রিজের পরিবর্তে পথচারীরা সরাসরি রাস্তার ওপর দিয়েই চলাচল করেছেন।
রাজধানীর ফুটপাতসংলগ্ন সড়ক থেকে এখনো অবৈধ দোকানপাট সরানো হয়নি। ফলে যানজট আরো বাড়ছে। প্রেসক্লাব থেকে পল্টন হয়ে গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলা, শাপলা চত্বর এলাকার ফুটপাতের একটি বিশাল অংশজুড়ে অবৈধ দোকান রয়েছে। এর পাশাপাশি রাস্তার একটি বড় অংশই গাড়ি পার্কিংয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব কারণে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।