খালেদার মুক্তি দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন

আগের সংবাদ

আফ্রিকায় ওয়ালটনের নতুন রপ্তানি বাজার

পরের সংবাদ

চলতি অর্থবছরেও কমতে পারে রপ্তানি আয়

ধসের মুখে চামড়া অর্থনীতি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ , ২:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮, ২:১১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিমুখী খাত চামড়া। অবস্থানটা ঠিক তৈরি পোশাক খাতের পরেই। গত বছর ‘চামড়াকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিল সরকার। অথচ ধারাবাহিকভাবে কমছে এ খাতের রপ্তানি আয়। গত তিন বছরে চামড়া রপ্তানি আয় কমেছে অর্ধেকের বেশি। পাশাপাশি গত জানুয়ারি থেকে কমতে শুরু করেছে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চামড়া অর্থনীতি ধসের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রপ্তানি আয়ের দিক দিয়ে পোশাক খাতের পরেই রয়েছে চামড়া খাত। কিন্তু গত (২০১৭-১৮) অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি আয় কমেছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ইপিবি) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় চামড়া রপ্তানি আয় কমেছে ১৪৯ মিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চামড়ার রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ২৩৪ মিলিয়ন ডলার। সেটা বিবেচনায় রেখে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৮০ মিলিয়ন ডলার। তবে গত অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কম হয়েছে ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ মিলিয়ন ডলার।
ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে চামড়া রপ্তানি আয় কমেছে গতবারের চেয়ে ২১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই মাসে চামড়া রপ্তানি আয় ছিল ১১৬ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলার, আর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে তা দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার। সাধারণত কোরবানির ঈদকে ধরা হয় কাঁচা চামড়া আহরণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। দেশের উৎপাদিত চামড়ার ৬০ শতাংশ সংগ্রহ হয় কোরবানি ঈদে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে চামড়া। ছয় বছর আগে গরুর লবণযুক্ত যে চামড়ার দাম ছিল ৮৫-৯০ টাকা বর্গফুট, তা এবার বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকায়। আর লবণবিহীন চামড়ার দাম ছিল আরো কম। বাণিজ্যমন্ত্রী চামড়ার দাম কমিয়ে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম, এ জন্য চামড়ার দাম না কমিয়ে উপায় নেই। এর বাইরে আরো কিছু কারণ তুলে ধরেন তিনি।
তবে ঈদ-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ জানান, চামড়া শিল্প রক্ষায় বদ্ধপরিকর সরকার। কাঁচা চামড়া রপ্তানি করলে ধ্বংস হয়ে যাবে চামড়া খাত। তাই কাঁচা চামড়া রপ্তানির কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের। এ দিকে চলতি অর্থবছর চামড়া রপ্তানি আয় আরো কমবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ। ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, দেশের চামড়া খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সাভারের অধিকাংশ ট্যানারি এখনো চালু হয়নি। মাত্র ৪০-৪৫টি ট্যানারি উৎপাদনে গেছে। রাস্তাঘাট, অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব রয়েছে। সেখানকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারও চালু হয়নি। প্লটের মালিকরা জমির মালিকানার দলিল পাননি। পুরো ইন্ডাস্ট্রি কমপ্লায়েন্স করার বিষয়টি অসম্পূর্ণ রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে চামড়া রপ্তানি আয় কমতে থাকবে।
এ ছাড়া বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন যথেষ্ট মন্দা। এক সময় আমাদের চামড়ার বড় ক্রেতা ছিল নন-ব্রান্ডেড চায়না কোম্পানিগুলো। তারা এখন চামড়া কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এখানে অবশ্য চীন-আমেরিকা বাণিজ্যযুদ্ধের একটা প্রভাব আছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কমেছে। বিশে^র অন্যতম প্রধান চামড়া উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, স্পেনের চামড়ার বাজারেও দরপতন চলছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের (বিটিএ) তথ্য অনুযায়ী, লবণের দাম বাড়ার কারণে চামড়া প্রক্রিয়াকরণে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। সংগৃহীত চামড়ার প্রায় ২০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে রপ্তানিতে। এ অবস্থা থেক উত্তরণে বিটিএ সভাপতি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব চামড়া খাতে একটি টেকসই পলিসি গ্রহণ করা উচিত। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে ট্যানারি পল্লীকে কমপ্লায়েন্স করতে হবে। জমি রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা মিটিয়ে ফেলতে হবে।
তিনি জানান, ছোটখাটো নন-বন্ডেড কেমিক্যালস ফ্যাক্টরিগুলো ৩০-৩৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে টিকতে পারছে না বন্ডেড ফ্যাক্টরিগুলোর সঙ্গে। এ ব্যাপারেও সমতা আনতে হবে।
দেশের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চামড়া খাতকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে মুখ থুবড়ে পড়বে এ খাত। এর জন্য দরকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয়। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে চামড়া খাতে। সাভারে বরাদ্দ পাওয়া প্লটের মালিকানা দ্রুত বুঝিয়ে দিতে হবে। তা না হলে ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে দেশের সম্ভাবনাময় এ খাত।