প্রমত্তা পদ্মা গিলে খাচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স!

আগের সংবাদ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু

পরের সংবাদ

কোন্দলে জর্জরিত আ.লীগ, স্বস্তিতে নেই বিএনপিও

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ , ১২:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বেশ জোরেশোরেই বইছে ভোটের হাওয়া। জেলার বৃহত্তম উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত বিএনপির দাপট থাকলেও এখন তা আগের মতো নেই। যদিও এ আসনকে বিএনপি তাদের ঘাঁটি মনে করে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দলটির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সরব রয়েছেন। অন্যদিকে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের কর্মী, সমর্থক আর ভোটার থাকলেও দলীয় বিরোধে বারবার পরাজয় জুটেছে প্রার্থীদের কপালে। এবারো সেই বিরোধ তুঙ্গে। বর্তমান ও সাবেক এমপির কর্মীদের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক। এ অবস্থায় এবার নতুন মুখ দেখতে চান দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দুই বড় দলের বাইরের ছোট দলগুলোর প্রার্থীরাও সরব হচ্ছেন নির্বাচনের মাঠে।
সর্বশেষ হিসাব মতে, এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৫১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩২ হাজার ৬১০ এবং মহিলা ১ লাখ ৪০ হাজার ২৫১ জন। স্বাধীনতার পর এ আসনে ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট আজিজুর রহমান আক্কাস নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির আহসানুল হক পচা মোল্লা এমপি নির্বাচতি হন। আহসানুল হক মোল্লার মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। ২০১৪ সালের
নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী প্রবীণ নেতা আফাজ উদ্দিনের সঙ্গে টক্কর দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন রেজাউল হক। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন আফাজ উদ্দিন।
স্থানীয় নেতারা জানান, এ আসনে আওয়ামী লীগের সমর্থক বেশি থাকলেও দলীয় কোন্দলের কারণে বারবার আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়েছে।
১৯৭৩ সালে এ আসনটি জিতেছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে এ আসনটি লাভ করে জাতীয় পার্টি। আর ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপির দখলে যায়। তবে এখানে আওয়ামী লীগের অবস্থাও নড়বড়ে নয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, আফাজ উদ্দিনের সঙ্গে রেজাউল হকসহ দলের বড় একটি অংশের নেতাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের সঙ্গেও তার কিছুটা দূরত্ব রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে কুষ্টিয়া-১ আসনে মনোনয়নের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন হানিফ। এ নিয়ে আফাজের লোকজনের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। হানিফের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয় সে সময়।
এমপি রেজাউল হক চৌধুরী জানান, তার সঙ্গে সাবেক এমপি আফাজের কোনো বিরোধ নেই। তিনি সব সময় তার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। আর নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনি তাকেই সমর্থন দেবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন রিমন বলেন, আফাজ উদ্দিনকে মানুষ দেখেছেন, এখন রেজাউল হককেও দেখছেন। দুজনের প্রতিই নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটা খারাপ ধারণা আছে। তবে রেজাউল হক থেকে আফাজ উদ্দিনকে অনেকে মন্দের ভালো বলেন। আর নেত্রী হুট করে কাউকে মনোনয়ন দেবেন বলে আমি মনে করি না। কারণ, ১৯৭৫ সালের পর ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত শুধুমাত্র সমন্বয়হীনতার কারণে এখানে দলের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এখনো দুই নেতার মধ্যে সমস্যা আছে। তবে রেজাউল হক মনোনয়ন পাবেন বলে মনে হয় না। সে ক্ষেত্রে নতুন কোনো প্রার্থীকে দেখা যেতেই পারে।
এদিকে জেলার কোনো কোনো নেতা মনে করেন, আগামী নির্বাচনে এ আসনের জন্য বিকল্প প্রার্থী খোঁজা হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের অন্যতম সদস্য বীর-মুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলমের নাম। রশিদুল আলম আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মাহবুব-উল আলম হানিফের মেজ ভাই। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও অত্যন্ত কাছের মানুষ তিনি। দলে রশিদুল আলমের কমবেশি প্রভাব রয়েছে। তাই দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, এ আসনে রশিদুল আলম মনোনয়ন পেলে দল সুসংগঠিত হবে অন্যদিকে এলাকারও উন্নয়ন হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি রবিউল ইসলাম বলেন, দৌলতপুরে আফাজ উদ্দিনের সঙ্গে রেজাউলের সম্পর্কের কিছুটা ঘাটতি আছে। আফাজ উদ্দিন মনোনয়ন পেলে রেজাউল হক চৌধুরী কাজ করবেন না। আর রেজাউল হক পেলে আফাজের লোকজন কাজ করবেন না। দুই নেতার মধ্যে বৈরী ভাব থাকায় সে ক্ষেত্রে নেত্রী বিকল্প হিসেবে রশিদুল আলমকে প্রার্থী করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, রশিদুল আলম মনোনয়ন পেলে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে বাধ্য হবেন।
অপরদিকে নির্বাচনের আগে সরব হচ্ছেন সদ্য অবসরে যাওয়া অতিরিক্ত সচিব আনসার আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরোয়ার জাহান বাদশা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বায়েজিদ আক্কাস ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ড. মোফাজ্জেল হক। তারাও দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজ উদ্দিন বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য তিনি মাঠে কাজ করছেন। প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, নেত্রী যাকে নৌকা দেবেন তার পক্ষেই কাজ করব। তবে যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি করেন তিনি।
এদিকে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিতেও প্রার্থী নিয়ে জট দেখা দিতে পারে বলে জানা গেছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে দলের একক প্রার্থী মনে করেন বেশির ভাগ নেতাকর্মী। তবে ২০০৮ সালে মনোনয়ন পাওয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি আলতাফ হোসেন শেষ পর্যন্ত বাচ্চু মোল্লার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার মঙ্গল ও বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা আলতাফ হোসেন, এডভোকেট রমজান আলীও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদ সরকার মঙ্গল বলেন, আমার বাপ-দাদারা বিএনপি করেছেন। আমি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আমি মাঠে আছি। নেত্রীর কাছে মনোনয়ন চাইব। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার হয়ে কাজ করব।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, দল নির্বাচনে অংশ নিলে অবশ্যই মনোনয়ন চাইব। অনেক অত্যাচার-নির্যাতনের পরও দলকে সুসংগঠিত রেখেছি। এখন পর্যন্ত মাঠে আমি একাই আছি। যারা দুয়েকজন বাইরে ছিলেন তারাও এখন আমার সঙ্গে।
বড় দুই দলের বাইরে জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী কোরবান আলীর ছেলে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফারিয়ার জামিল জুয়েল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ ছাড়া উপজেলা জাসদের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামও নির্বাচন করবেন। এ উপজেলায় জামায়াতের ভোট নেই বললেই চলে।