মেয়রের হয়ে কারাগারে আত্মীয়, ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

আগের সংবাদ

অপারেশন জ্যাকপট নিয়ে ইতিহাস বিকৃত কেন?

পরের সংবাদ

মেহেদী হত্যা

কিশোর গ্যাং সম্পর্কে ভাবুন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ , ৭:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮, ৭:৪২ অপরাহ্ণ

গোটা সমাজেই শিশু-কিশোরদের সুস্থ-সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্কুল কারিকুলামের বাইরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট করা এবং যুক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। কিশোর অপরাধ রুখতে ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। যারা ইতোমধ্যে অপরাধ চক্রে জড়িয়ে গেছে, তাদের জন্য উপযুক্ত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

কিশোর অপরাধ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক ও জাতীয় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে কিশোর-তরুণরা বিভিন্ন গ্যাংয়ের মাধ্যমে অপরাধ করছে। সর্বশেষ কিশোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের পরিণতিতে প্রাণ হারায় রাজধানীর দক্ষিণখান চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার মেহেদী হাসান শুভ (১৭)। গত ৩১ আগস্ট তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। গত শনিবার এ হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৮ জনকে মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞাসাবাদে ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পেশাদার সন্ত্রাসী-গডফাদার চক্রের মতো করে কিশোরদেরও রয়েছে গ্যাং। একেক গ্যাং একেক এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কিশোর সন্ত্রাস নতুন একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আবিভর্‚ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পুলিশ প্রদত্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১০ সালে রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সক্রিয় কিশোর সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল পুলিশ, তাতে ৫১৬ জনের নাম ছিল। ঢাকার উত্তরা, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, তুরাগ, নিউমার্কেট ও গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় সক্রিয় ছিল গ্রুপগুলো। এরপর সাত বছর পেরিয়ে গেছে। এ সময় কেবল অপরাধের সংখ্যাই বৃদ্ধি পেয়েছে তা নয়, অপরাধের ধরনও পাল্টেছে। গত বছর জানুয়ারি মাসে রাজধানীর উত্তরায় এ রকম একটি কিশোর গ্রুপের হাতে খুন হয় আদনান নামের এক কিশোর। পুলিশের তথ্য মতেই গত ১০ বছরে রাজধানীর আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগই কিশোর অপরাধীদের হাতে ঘটেছে। এটি খুবই ভয়ঙ্কর তথ্য। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও অর্ধশত কিশোর গ্যাং দখলবাজি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার খবর রয়েছে। এদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে খুনের ঘটনাও। বন্দর নগরীর ১৬ থানা এলাকায় প্রায় অর্ধশত কিশোর গ্যাংচক্রের তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে কিংবা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুচর হিসেবে কাজ করছে অনেক কিশোর। বিভিন্ন মহল্লায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি থেকে শুরু করে ছিনতাই-রাহাজানির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে এরা। কিশোর বয়সটাই বেপরোয়া ও আগ্রাসী একটা বয়স। কিশোর বয়সীরা থাকে অতিমাত্রায় এডভেঞ্চারপ্রবণ। কোনো বাধা-নিষেধ না মানার দিকেই থাকে তাদের ঝোঁক। হাতের নাগালে উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত অর্থ, বেশি স্বাধীনতা তাদের নানা দিকে অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দেয়। কৌত‚হলের বশে বা অজ্ঞাতসারেই তাদের পা পড়ে যেতে পারে অন্ধকার জগতে। কিশোরদের বেপথু হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ। কিশোররা যেন অপরাধে জড়াতে না পারে এবং কেউ তাদের অসৎ কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। এ জন্য সবার আগে পরিবার তথা বাবা-মাকে এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানরা কী করে, কার সঙ্গে সময় কাটায়- এসব খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানদের অযৌক্তিক আবদার পূরণ করার আগে ভাবতে হবে। গোটা সমাজেই শিশু-কিশোরদের সুস্থ-সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্কুল কারিকুলামের বাইরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট করা এবং যুক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। কিশোর অপরাধ রুখতে ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। যারা ইতোমধ্যে অপরাধ চক্রে জড়িয়ে গেছে, তাদের জন্য উপযুক্ত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।