শিশু আকিফার মৃত্যু : গঞ্জেরাজ বাসের মালিক গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

পাবনায় সাংবাদিক নদী হত্যার আসামি মিলন গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

ঋণ ও আমানতের সুদহার

৯-৬ সুদের নামে ব্যাংকের নয়-ছয়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ১২:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ১২:৫১ অপরাহ্ণ

দেশের তফসিলি ব্যাকগুলোতে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণে এখনো নৈরাজ্য কাটেনি। সর্বশেষ আগস্ট মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করে গত ৯ আগস্ট থেকে সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয় ব্যাংকের মালিক ও প্রধান নির্বাহীরা। দ্বিতীয় দফায় দেয়া প্রতিশ্রুতির এক মাস পেরিয়ে গেলেও তার অধিকাংশই কার্যকর হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণে ব্যাংকগুলো পরিদর্শনে নামছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যাংক ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে আনার কথা থাকলেও সার্বিকভাবে সব গ্রাহকের জন্য কোনো ব্যাংক এটি কার্যকর করেনি। এদিকে ছয় শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহের কথা থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। আমানত সংগ্রহ নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ জন্য পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো।
দেখা যায়, গত বছরে ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থ থাকলেও হঠাৎ করেই চলতি বছরের শুরু থেকে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার টানাটানি শুরু হয়। সংকট থেকে বেড়ে যায় সব ধরনের ঋণ ও আমানতের সুদহার। আমানতকারীকে কোনো কোনো ব্যাংক ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে শুরু করে টাকার টানাটানি দূর করতে। আবার আমানতের উচ্চ সুদহারের কারণে বিনিয়োগের সুদহার ১৭-১৮ শতাংশ দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে ব্যাংকগুলো তথ্য আড়াল করে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর করেছে বলে ঘোষণা পাঠাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে কয়েকজন গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থকেন্দ্রে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। তার সূত্র ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরেজমিন পরিদর্শনের। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলোর দেয়া ঘোষণা যদি নিজেরাই কার্যকর না করে, তবে সেটি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব ব্যাংক খাতের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের। আমাদের পরিদর্শন বিভাগের কয়েকটি টিম এ ব্যাপারে কাজ করছে। অনিয়ম ও ঘোষণা বাস্তবায়নে অনিয়ম পেলে আইন মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে আসছে। তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি ঘটেছে বলে মনে করেন তারা। এমডিদের মতে, আমানত প্রবাহ বাড়িয়ে তারল্য সংকট কাটাতে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমাবে সরকার এমনটাই ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু অর্থমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনের আগে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হবে না। ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্য প্রবাহ নিয়ে খুব বেশি আশা দেখছেন না এমডিরা।
জানা গেছে, তিন মাস মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে ছয় শতাংশ সুদ দিলেও আট দশমিক ৫০ শতাংশ সুদে ছয় মাস মেয়াদি আমানত নিচ্ছে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। এ ছাড়া ব্যাংকটি এক বছর মেয়াদি আমানত নিচ্ছে ৯ শতাংশ সুদে। এতে স্বাভাবিকভাবেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে, ৯ শতাংশ সুদে আমানত নিয়ে ব্যাংকটি কীভাবে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করবে? নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংকও ৯ শতাংশ সুদে এক বছর মেয়াদি আমানত সংগ্রহ করছে। ৬ মাস মেয়াদি আমানতে আট দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে ব্যাংকটি। যদিও অনেক গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না ফারমার্স ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত জুলাইয়ে নতুন প্রজন্মের প্রায় সবগুলো ব্যাংকই সব ধরনের আমানতে গড়ে সাড়ে সাত থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিয়েছে। এ ছাড়া এবি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংকসহ বেশকিছু ব্যাংক উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করেছে।