ভারতজুড়ে ‘বনধ’-এর ডাক কংগ্রেস ও বামদলগুলোর

আগের সংবাদ

মেরিল স্ট্রিপ পুরস্কার পাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া

পরের সংবাদ

ব্যাংক ঋণের সুদ

সিঙ্গেল ডিজিটে নামাতে গড়িমসি কেন?

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ৭:৩৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অনিয়ম-দুর্নীতি তার ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবই ব্যাংকিং খাতকে এই নাজুক অবস্থায় ফেলেছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকারের সামনে। আমরা মনে করি, সরকার যেহেতু ব্যাংকগুলোকে ভালো সুবিধা দিয়েছে, সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন?

ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে ব্যাংকগুলো। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনেনি। সরকারি খাতের চারটিসহ হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক কিছু ঋণের সুদ ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনলেও অন্য ব্যাংকগুলো তা করছে না। দেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণের সুদ হার কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর না হওয়া আর্থিক খাতের জন্য সংকট।

কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১ জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিট তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ছিল; কিন্তু দুই মাস পরও অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকই আদেশটি মানছে না। আগস্ট মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করে সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন ব্যাংকের মালিক ও প্রধান নির্বাহীরা। জানা যায়, দেশে ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩টি ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৯টি ব্যাংক সুদের হার কমিয়েছে। সব ব্যাংকই বেশির ভাগ ঋণের ক্ষেত্রে এই হার ডাবল ডিজিটেই রেখেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়তি চার্জ আরোপের পাশাপাশি এখনো বেশিরভাগ ব্যাংক সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে না আনলেও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রকদের কাছে কিন্তু তারা নিজেদের সুদহার ৯ শতাংশই দেখাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শুভঙ্করের ফাঁকি হিসেবে কৃষি, মসলা, রপ্তানি ও নারী উদ্যোক্তা খাতের ৪ থেকে ৯ শতাংশ আগের ঋণকে গড় হিসাবে দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এদিকে ছয় শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহের কথা থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। আমানত সংগ্রহ নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ জন্য পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এমন অবস্থা চলতে থাকলে কেবল ব্যবসায়ীরাই ব্যাংকবিমুখ হবেন না, উৎপাদন, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখনই সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অনিয়ম-দুর্নীতি তার ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাবই ব্যাংকিং খাতকে এই নাজুক অবস্থায় ফেলেছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকারের সামনে। শক্ত হাতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি ও নজরদারি বাড়াতে হবে। আমরা মনে করি, সরকার যেহেতু ব্যাংকগুলোকে ভালো সুবিধা দিয়েছে, সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়নে বিলম্ব কেন? দেশের উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধির স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন জরুরি।