কাউনিয়ায় আপদকালীন ভাসমান বীজতলা

আগের সংবাদ

কমলগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল

পরের সংবাদ

লামায় শতাধিক পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করেছে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ৩:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ

লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পোপা মৌজার বিভিন্ন পাড়া থেকে শতাধিক উপজাতি ও বাঙালি পরিবারের লোকজনকে পাহাড়ি সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। গত বুধবার সকাল থেকেই ভীতসন্ত্রস্ত পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িঘর ফেলে বলিয়ারচর ও লামা বাজারে আশ্রয় নেয়। এ দিকে পোপা মৌজার গিলাপাড়ায় ও পোপা হেডম্যান পাড়ায় বর্তমানে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে বলে স্থানীয় অধিবাসীরা জানান। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে লামা ইউনিয়নের নকশারঝিরি এলাকায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ৪০ জনের সন্ত্রাসী গ্রুপটি মঙ্গলবার যৌথবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর পোপা হেডম্যান পাড়ার দিকে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বুধবার দিনভর বিভিন্ন জায়গা থেকে আরো সশস্ত্র দুর্বৃত্ত পোপা মৌজায় ৪০ জনের এই গ্রুপের সঙ্গে জড়ো হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নকশারঝিরি এলাকার অধিবাসী মোর্শেদা বেগম জানান, ছয় সন্তান নিয়ে আতঙ্কে আছি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়িঘর ছেড়ে বলিয়ারচরে আশ্রয় নিয়েছি। অপর অধিবাসী মনোয়ারা বেগম জানান, বাড়িঘরে অবস্থান করার মতো নিরাপত্তা আমাদের নেই। পুরো এলাকার অধিবাসীরা দলে দলে উপজেলা সদরের কাছাকাছি অবস্থানের জন্য বাড়িঘর ফেলে চলে আসছে। লামা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন জানান, পাহাড়ি দুর্বৃত্তরা গত ১ মাস যাবত বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ বাড়িঘরে অবস্থান করতে পারছে না। অস্ত্রধারী এই দুর্বৃত্তরা চাঁদাবাজি ও লুটপাট করে যাচ্ছে। তারা জলপাই রংয়ের পোশাক পরা এবং তাদের কাছে ভারী অস্ত্র রয়েছে। মঙ্গলবার ছোট বমু ও মেরাখোলাসহ লামা ইউনিয়নের কয়েকটি পাড়ায় এই সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজিসহ তান্ডব চালিয়েছে। প্রতি পরিবারকে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি মুদি দোকানদার ৩ হাজার টাকা চাঁদা বার্ষিক হারে সন্ত্রাসীদের প্রদান করতে হবে মর্মে তারা আলটিমেটাম দিয়েছে।
অনেক ত্রিপুরা ও ম্রো পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে সন্ত্রাসীদের ভয়ে লামা বাজারে অবস্থান করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে জানান, সন্ত্রাসী গ্রæপের মধ্যে চাকমা, মার্মা ও ত্রিপুরা যুবক রয়েছে। তারা সবাই ভারী অস্ত্র বহন করছে। এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশসহ যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।