আওয়ামী লীগ আসন ধরে রাখতে চায়, পুনরুদ্ধারে তৎপর জাপা

আগের সংবাদ

উন্মুক্ত হলো চট্টগ্রামের দৃষ্টিনন্দন জাম্বুরি পার্ক

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আইডিবির সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ৩:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ৩:১২ অপরাহ্ণ

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের বিষয়ে নিরব থাকতে পারে না আইডিবি।

রোববার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল রেডিসনে আইডিবির আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। আর্থ- সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আইডিবি’র পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকায় বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ননীতি বিষয়ক কমিটি আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই উন্নত দেশ হবার এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছি। ২০৪১ সালের মধ্যেই সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ হওয়া আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। অার্থ সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। জিডিপির আকারে বাংলাদেশ বর্তমানে ৪৩তম এবং ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতি।’

তিনি বলেন, ‘একাধিক সমস্যা মোকাবেলা করে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে বাংলাদেশ উন্নয়নে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আমাদের দারিদ্র্য সীমা ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। আমাদের উন্নয়নের লক্ষ্য হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। আমরা গরিব বান্ধব এবং জনমুখী উন্নয়ন গ্রহণ করেছি। যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। জনপ্রতি সুফল ভোগের জন্য আমাদের আরো চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন, হাইটেক পার্ক, সফটওয়ার প্রযুক্তি পার্ক স্থাপনের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগও সহজতর করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবকাঠামো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ধরে রাখতে পেরেছি। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জিডিপি ৭.৭৮ শতাংশে উন্নতি হয়েছে। মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলারে উন্নতি হয়েছে। গেলো ১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতি ১২.০৩ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৫.০৮ শতাংশে আনতে আমরা সক্ষম হয়েছি। সরকারের রাজস্ব জিডিপির অনুপাত ১০.৩ শতাংশ।’

তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আইডিবির সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল মানবিক সংকট মোকাবেলা করছে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়ে তাদের প্রবেশ করতে দিয়েছে। নিজস্ব সম্পদ, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আসতে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চাই। বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও স্বাক্ষর করা হয়েছে। মিয়ানমারকে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’