ইন্দোনেশিয়ার জাভায় বাস দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত

আগের সংবাদ

শিশু আকিফার মৃত্যু : গঞ্জেরাজ বাসের মালিক গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে নির্বাচনী সরকার চাইবে বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ১২:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ১২:০৬ অপরাহ্ণ

বিএনপির নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি নতুন নয়। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই দাবি আবারো জোরাল করেছে দলটি। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের হস্তক্ষেপে ‘কারো দলীয় হস্তক্ষেপ মুক্ত, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে’ মূল প্রতিপাদ্য ধরে তিন মাস মেয়াদে নির্বাচনকালীন একটি গ্রহণযোগ্য সহায়ক সরকার চায় দলটি। একই সঙ্গে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নেয়াসহ বেশকিছু এজেন্ডা নিয়ে শিগগিরই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে চিঠি দেবে বিএনপি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি পেলে কী প্রস্তাব দেয়া হবে তার একটি রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার লক্ষ্যে দলীয় প্যাডে চিঠি দেয়া হবে। এই রূপরেখা চলমান রাজনীতিতে একটি আলোচনার ক্ষেত্র করবে বলে মনে করছেন নেতারা। বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম থেকেই নির্বাচন পূর্ববর্তী করণীয় নিয়ে গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়ম করে বৈঠক করছেন নেতারা। গত মঙ্গলবার টানা ৩ ঘণ্টা বৈঠক করেন তারা। গত ২৫ আগস্ট দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে রূপরেখার কিছু বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা নিয়ে আসেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নেতাদের মতামত জানতে দলীয় প্রধানের দেয়া নির্দেশনা সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি। সবার মতামতের সমন্বয়ে সেদিনই রূপরেখার খসড়া চ‚ড়ান্ত করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, যে নামেই হোক না কেনো সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে একটি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার এই মুহূর্তে খুবই জরুরি। তাছাড়া দলীয় প্রধান কারাবন্দি হওয়ার আগে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে যথাসময়ে জাতির সামনে তুলে ধরার কথা বলেছিলেন। এটা নিয়ে এখন ভাববার সময় এসেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের আগেও বিএনপি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে এ ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছিল। একই ভাবে প্রয়োজনে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়েও তার কাছে যাবে বিএনপি।
দলটির একজন সিনিয়র নেতা জানান, রূপরেখা অনুযায়ী সম্ভাব্য সহায়ক সরকার হবে তিন মাস মেয়াদের। রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচনকালীন এই সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্রেট কোটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব থাকছে। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কাঠামো চ‚ড়ান্ত করার প্রস্তাব থাকতে পারে এই রূপরেখায়। তিনি জানান, তখন জাতীয় সংসদ বহাল থাকবে। প্রধানমন্ত্রীও দায়িত্বে থাকবেন। এই রূপরেখায় নির্বাচনকালীন তিন মাস প্রধানমন্ত্রীর ছুটিতে থাকার প্রস্তাব থাকছে। যেখানে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী স্বপদে বহাল থেকে ছুটিতে থাকার মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের এই রূপরেখায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনকালীন সরকারে না রেখে নির্বাচনকালে দলনিরপেক্ষ সহায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হবে। তবে প্রধানের আসনে অন্য কাকে স্থলাভিষিক্ত করা হবে সে কথা সরাসরি উল্লেখ করা হবে না। নির্বাচনকালীন সরকারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার, বিচারক ও আমলাসহ সর্বজন গ্রহণযোগ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে পাঁচটি পদে নিয়োগের প্রস্তাব করা হবে। এ পাঁচজনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের পাঁচজন সদস্যের সমন্বয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হতে পারে। তারা নির্বাচনী যাবতীয় কার্যক্রমে ‘ওয়াচ-ডগ’-এর ভ‚মিকা পালন করবেন এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এই সদস্যদের ভ‚মিকাই হবে মুখ্য। তাদের পরামর্শেই কাজ করতে বাধ্য হবে নির্বাচন কমিশন। এই কাঠামোয় নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে ও সমঝোতার ভিত্তিতে প্রস্তাব করা হতে পারে।
নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়, সংলাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবের পরেও হাল ছাড়বে না বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলমান সংকট থেকে উত্তোরণের জন্য উদ্যোগ নেবেন বলে আশা দলটির। তাই তার সামনে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে অনুরোধ জানালে রাষ্ট্রপতি স্বউদ্যোগেই সংলাপের আয়োজন করবেন বলে ধারণা করছেন নেতারা।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকার এসেছিল সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে। এখন আওয়ামী লীগ যেহেতু এই ব্যবস্থা একাই বাতিল করেছে, তাই নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কী হবে আমরা সে প্রস্তাব দেব। সেক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দেয়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনাসহ অনেকটা তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আদলে সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনায় থাকতে পারে। তিনি বলেন, আমরা প্রস্তাবনা দেব। সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। অন্য কেউ দিলে সেটাও আলোচনায় আসতে পারে। নিরপেক্ষ সরকার প্রধান হিসেবে কোনো দলীয় প্রধান থাকতে পারে না।
আজ ৯ সেপ্টেম্বর শেষবারের মতো বসবে দশম সংসদের শেষ অধিবেশন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকলেও ভোটের আগে অনিবার্য কোনো প্রয়োজন ছাড়া আর অধিবেশন বসবে না। বিএনপি আশা করে, সংসদ অধিবেশন চলাকালেই রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন। সবার সঙ্গে আলোচনায় ঐকমত্য হলে প্রয়োজনে ওই অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধনের ব্যবস্থা করবেন।