এবার বড় রদবদল!

আগের সংবাদ

আবাসন কেন্দ্রের ১৭ কিশোরীর পলায়ন

পরের সংবাদ

রাজধানীতে লেগুনা-হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ

যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ১:৪০ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ১:৪০ অপরাহ্ণ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্র ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর একের পর এক সিদ্ধান্ত নিলেও তার কোনো কার্যকর প্রভাব পড়েনি রাজধানীর সড়কগুলোতে। সামান্যতম নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়নি যাত্রীদের। উল্টো গত মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়ার রাজধানীতে লেগুনা ও হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধের ঘোষণায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিকল্প ব্যবস্থা না করেই সড়কে শৃঙ্খলার নামে লেগুনা ও হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে পুলিশ ছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্য দপ্তরগুলো লেগুনা ও হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধের ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে। লেগুনা ও হিউম্যান হলার চলাচলের অনুমোদন দেয়া বা বাতিলের ক্ষমতা কেবলমাত্র বিআরটিএর; কিন্তু পুলিশ কেন এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ করেছে তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এ অবস্থায় ৫ হাজারেরও বেশি লেগুনা ও হিউম্যান হলারের ২০ হাজারের বেশি মালিক-শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে তারা আন্দোলনে নামার চিন্তা করছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর ফার্মগেট থেকে ঝিগাতলা, মিরপুর, ৬০ ফিট, মোহাম্মদপুর, কচুক্ষেত, মহাখালী, মোহাম্মদপুর থেকে মহাখালী হয়ে বাড্ডা লিংকরোড, গুলিস্তান থেকে গোরান, খিলগাঁও, মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মিরপুর ১৪ নম্বর, গুলিস্তান থেকে চকবাজার, হাজারীবাগ রুটে চলাচলরত টেম্পু ও হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব রুটের সবগুলোতে বাস বা মিনিবাস চলাচল করে না। সামান্যসংখ্যক বাসে যাত্রীসংকুলান না হওয়ায় টেম্পু ও হিউম্যান হলারের ওপরেই হাজার হাজার যাত্রীকে ভরসা করে থাকতে হতো। পুলিশের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে এসব রুটের যাত্রীরা এখন বিপাকে পড়েছেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে প্রতিদিনই মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। প্রায় ২ কোটি মানুষের চলাচলের ফলে সড়কের ওপরেও চাপ বাড়ছে। অফিস টাইম, স্কুল টাইমসহ সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সড়কে যাত্রীদের অপেক্ষার প্রহর গুনতে দেখা যায়। গতমাসে

শিক্ষার্থীদের অন্দোলনের পর পরিবহন সংকট দেখা দিলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বাড়ে। ওই সময় বাস চলাচল বন্ধ থাকায় টেম্পু ও হিউম্যান হলারের ওপর ভরসা করেই পথে নামতেন যাত্রীরা। কিন্তু ৩ দিন আগে হঠাৎ করেই ডিএমপি কমিশনার টেম্পু ও হিউম্যান হলার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এতে বাস সংকটের চেয়েও বড় সংকটে পড়েছেন যাত্রীরা। কেননা বাস চলাচল করে শুধুমাত্র প্রধান প্রধান সড়কে। রাজধানীর অন্যান্য সড়কে চলাচলের মূল ভরসাই ছিল লেগুনা ও হিউম্যান হলার। অনেকেই বাসা থেকে বেরিয়ে এসব যানবাহনে চড়ে বাসস্ট্যান্ডে আসতেন। এখন সে সুযোগ না থাকায় ৪/৫ গুণ বেশি রিকশা ভাড়া দিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আসতে হচ্ছে তাদের। তা ছাড়া অফিস ও স্কুল টাইমে রিকশার সংকটও দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা না করে লেগুনা ও হিউম্যান হলার বন্ধের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হয়নি বলেও মনে করেন তারা।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম গুলশান লিংকরোডে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বেশির ভাগ সময় হিউম্যান হলারে অফিসে যাতায়াত করেন। তবে গত তিন দিন ধরে তিনি সময়মতো অফিসে পৌঁছতে পারেননি। তিনি জানান, এই রুটে কয়েকটি বিআরটিসির বাস চলাচল করে। কিন্তু যাত্রীর তুলনায় তা অপ্রতুল। বিকল্প ব্যবস্থা না করে টেম্পু ও হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ করায় এই রুটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
ইডেন বিশ^বিদ্যালয় কলেজের ছাত্রী রিনা আক্তার জানান, তিনি মোহাম্মদপুর থেকে আজিমপুরগামী টেম্পুতে উঠে ঝামেলা ছাড়াই যেতে পারতেন। কিন্তু গত তিন দিনে আর সে সুযোগ পাচ্ছেন না। এখন তাকে সাইন্সল্যাবরেটরি নেমে হেঁটে বা রিকশায় যেতে হয়। খরচ ও কষ্ট দুটোই বেড়েছে।
ধানমন্ডি থেকে এয়ারপোর্টগামী যাত্রী মোজাম্মেল হক জানান, তিনি টেম্পুতে মহাখালী গিয়ে বাসে অফিসে যেতেন। এখন টেম্পু না চলায় তাকে ঘুর পথে অনেক সময় নিয়ে অফিসে আসা-যাওয়া করতে হয়।
মধ্য পীরেরবাগের বাসিন্দা শাহনূর আলম জানান, ফার্মগেট থেকে মিরপুরের ৬০ ফিট রুটে চলাচলরত যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। এখন তাদের বেশি ব্যয় করে শ্যামলী, আগারগাঁও হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এদিকে লেগুনা ও হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধের পুলিশের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিআরটিএ কর্মকর্তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তারা জানান, এসব পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন বা রুট পারমিট বাতিল করা হয়নি। এই শ্রেণির ৫ হাজারের বেশি যানবাহন বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে। মুখের কথায় নয়, আইনের মাধ্যমেই এদের চলাচল বন্ধ করা উচিত।
লেগুনা ও হিউম্যান হলারের মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানান, রাজধানীর ১৫৯টি রুটে লেগুনা ও হিউম্যান হলারের চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। এগুলো বন্ধ করা হলে ২০ হাজারের বেশি মালিক-শ্রমিক বিপাকে পড়বেন। অনেকে পথে বসে যাবেন। অন্যদিকে যাত্রীরাও পরিবহন সংকটে পড়বেন।
শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, রাজধানী সব রুটের পরিবহনের পারমিট দেন আরটিসি কমিটির সভাপতি ডিএমপি কমিশনার। তিনিই এসব পরিবহনের রুট পারমিট দিয়েছেন। রুট পারমিটের পর বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে। এখন বন্ধ করা ঠিক হবে না। অনেক মালিক ব্যাংক ঋণ নিয়ে এগুলো কিনেছেন। কিস্তি দিতে না পেরে তারা ঋণখেলাপি হলে ব্যাংক খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর হবে।