সমুদ্রের করাল গ্রাসে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান

আগের সংবাদ

কাউনিয়ায় আপদকালীন ভাসমান বীজতলা

পরের সংবাদ

প্রতিবাদ করায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ভূঁয়া কাগজ বানিয়ে সরকারি জমি আত্মসাতের পায়তারা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ৩:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ

বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর এলাকার সারে চার একরের বেশি সরকারি খাস সম্পত্তি একটি প্রতারক চক্র ভূঁয়া কাগজ বানিয়ে আত্মসাত করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতে পায়তারা করার প্রতিবাদ করায় ওই প্রতারক চক্রটি এলাকার এক যুবলীগ নেতা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করছেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার কেশবপুর ইউপির জেএল ৫৮ এর মমিনপুর মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত ৩৬৪০ নং হালদাগের ৪.৫৮ একর জমি মাহাফুজুর রহমান খান ওরফে খাজা, বাবুল প্যাদা, জামাল হোসেন মুন্সি ও জাহাঙ্গীর হোসেন মিস কেস নং ১০৪ (১) বিপিএল/৮৩-৮৪ দেখিয়ে ৭০৯/৮ খতিয়ান খুলে পর্চা তৈরী করে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মাহাফুজুর রহমান গংদের সৃজনকৃত খতিয়ানের কোন তথ্যই উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নেই এবং কোন প্রকার বন্দোবস্তেরও তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট ধুলিয়া ভূমি অফিসের তহশীলদার মিজানুর রহমান জানান, আমার আগে যারা চাকুরী করেছেন তারাই ভাল বলতে পারেবেন। আমি কেবল খতিয়ান দেখে খাজানা নিয়েছি। এটি ভূঁয়া কিনা জানিনা।
এদিকে কেশবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মো. সোহাগ সিকদার জানান, ওই জমি ভূঁয়া কাগজ বানিয়ে মাহাফুজুর রহমান গংরা দখল করতে গেলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই গংদের মধ্যে বাবুল প্যাদা তার বিরুদ্ধে বাউফল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানা থেকে কেশবপুর ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন লাভলু, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান রব হাওলাদার, জেলা পরিষদের সদস্য জহির উদ্দিন বাবর, সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান এবং ইউপি সদস্য সাইদুর রহামন পলাশকে শালিস করার দায়িত্ব দেন। কিন্তু শালিস করার আগেই বাবুল প্যাদা বাদি হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর তাকে সহ তার বৃদ্ধ পিতা এবং ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, শালিস এবং মামলা দায়ের সম্পর্কে তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলতে পারবো। সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানান, মাহাফুজুর রহমান ওরফে খাজার নেতৃত্বে একটি চক্র ভূমি অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তা নিয়ে ভূঁয়া কাগজপত্র তৈরী করার সুযোগ পায়। চি‎িহ্নত এ সকল চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।
বাউফল উপজেলা ভূমি অফিসের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাউফল উপজেলা ভূমি অফিসের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।