লামায় শতাধিক পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করেছে দুর্বৃত্তরা

আগের সংবাদ

নজরকাড়া তারকারা

পরের সংবাদ

অতিষ্ঠ গ্রাহক

কমলগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ৩:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) কমলগঞ্জ জোনালের অধীনের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা ভুতুড়ে বিল পাচ্ছেন। এতে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কমলগঞ্জের নজরুল ইসলাম, শমশের নগরের মুহিবুর রহমান, আজিজুর রহমান, মোর্শেদুর রহমান, নিবাস শীল, তোয়াবুর রহমান, পতনঊষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামের মতিউর রহমান, রেজাউল করিম, সিদ্ধেশ্বর ভট্টাচার্য সুমন, শাহাজান রাজুসহ অসংখ্য গ্রাহক অভিযোগ করেন, কমলগঞ্জ জোনাল বিদ্যুৎ অফিস থেকে জুলাই মাসের তৈরিকৃত বিদ্যুৎ বিল অফিসের নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে।
বিল পরিশোধের ১২ থেকে ১৩ দিন পর আগস্ট মাসের বিল তৈরি করা হয়। সে বিলে বকেয়া হিসেবে জুলাই মাসের বিল যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। গ্রাহকরা বলেন, এ অবস্থায় বাড়তি টাকা খরচ করে অফিসে গিয়ে বিল সংশোধন করে আনতে হয়েছে। অফিসের স্টাফদের আচার-আচরণও ভালো নয়। তাছাড়া অনেক স্থানে নিয়মিত মিটার রিডিং না দেখেই বিল তুলে দেয়া হয়। ফলে কোনো মাসে বিদ্যুৎ বিল খুব কম, আবার কোনো মাসে খুব বেশি আসে। বিদ্যুৎ গ্রাহক রফিক মিয়া ও আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কমলগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের অভিযোগ প্রথম নয়। প্রায়ই বিদ্যুৎ বিল দেখে অনেক গ্রাহকের চোখ কপালে উঠে যায়। ব্যবহৃত ইউনিট না দেখেই অতিরিক্ত বিল করা হয়, আবার বিল নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়।
এসব হয়রানির কারণে গ্রাহকরা চরম অতিষ্ঠ। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান চিনুর অভিযোগ, মিটারের ইউনিট না দেখে বিদ্যুৎ কর্মীরা আন্দাজে মনগড়া ইউনিট বসিয়ে দেন। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বাড়িতে গিয়ে মিটার দেখে বিল তৈরি করার আহŸান জানান। বিদ্যুৎ গ্রাহকরা আরো বলেন, সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট ছাড়াও বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে প্রতি মাসে ১০ টাকা হারে মিটার ভাড়াও নেয়া হচ্ছে। অথচ টাকা দিয়ে মিটার কিনে নেয়ার পরও মাসে মাসে মিটার ভাড়া দিতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে সঠিকভাবে তদারকি করারও কেউ নেই।
লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কারণ জানতে চেয়ে প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের মোবাইলে ফোন করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেন না। ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা অফিসে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। একদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল। সব মিলিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে হাজির হচ্ছেন গ্রাহকরা।
অভিযোগ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মোবারক হোসেন সরকার বলেন, এভাবে কোনো সময় এক মাসের পরিশোধিত বিল অন্য মাসের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। দুটি বইয়ে সমস্যা থাকার কারণে সম্প্রতি কয়েকটি বিলে পরিশোধিত আগের বিল যুক্ত করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বিষয়টি আরো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কখনো কোনো খারাপ আচরণ করেননি। যথাসাধ্য আমরা গ্রাহকদের নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছি।