নজরকাড়া তারকারা

আগের সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধে মাহাবুবের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে

পরের সংবাদ

আলোচিত দশ ফিকশন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ৪:৫৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

ঈদুল আজহায় নাটক প্রচারের ঢল শেষ হতেই শুরু হয় চুলচেরা বিশ্লেষণ। খতিয়ে দেখা হতে থাকে মান বিচারে এগিয়ে আছে কোন কাজগুলো। কমেডি নাটকের দৌড়াত্ম্যে অন্যান্য ঘরানার কাজ চ্যানেলে কোণঠাসা হলেও সমালোচনার পাল্লায় ভিন্নধর্মী কাজেরই কদর বেশি। ইউটিউবে দ্রুত চলে আসায় সেরা কাজগুলো দর্শকদের নজর থেকে লুকিয়ে রাখা আজকাল কষ্টসাধ্যই। ‘মেলা’ যথারীতি এই ঈদের পরেও নজর রেখেছে পর্দায়। আমরা বাছাই করেছি সর্বাধিক আলোচিত দশ ফিকশন

আমার নাম মানুষ
এবারের ঈদে পরিচালকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন শাফায়েত মনসুর রানা। কিছুদিন আগে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনকে উৎসর্গ করে তৈরি এই নাটক। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি, অনাচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ উঠে এসেছে নাটকের গল্পে। চরিত্রগুলোতে অন্যায়ের প্রতিবাদ আর নতুন সম্ভাবনা তুলে এনেছেন রানা। প্রতিবাদের ভাষাটা এখানে স্পষ্ট আর আবেদনটা গভীর। নাটকের শেষটা এক নতুন উদ্যম জাগায়। এই নাটকটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যমে হৈচৈ হচ্ছে। ভাঁড়ামিপূর্ণ নাটকের ভিড়ে অপর্ণা ঘোষ ও জন কবিরের মতো রোমান্টিক জুটি নিয়ে বক্তব্যধর্মী নাটক পরিচালনা করে সাধুবাদ পাচ্ছেন রানা।
আয়েশা
আবেগঘন সব সংলাপে দর্শকরা বুঁদ হয়ে থেকেছেন এই ঈদে। আনিসুল হকের ‘আয়েশামঙ্গল’ থেকে রচিত এই নাটক দিয়ে ৯ বছর পর টিভি নাটকে ফিরলেন মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। আয়েশার স্বামী বিমানবাহিনীর করপোরাল জয়নাল আবেদীন। বিমানবাহিনীর চিফকে বাঁচায় সে। কিন্তু জড়িত সন্দেহে উল্টো তাকেই ধরে নিয়ে আটক করা হয়। স্বামী সে রাতে খেতে বসে আয়েশাকে। সকালের আগেই ফিরবে কথা দিয়েছিল। কিন্তু ফেরেনি। এরপরের গল্প আয়েশার বেদনাকাব্য। তিশার এ যাবৎকালের অন্যতম সেরা অভিনয় বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। ফারুকীও প্রশংসায় ভাসছেন নাটক প্রচারের পর থেকে।
পাতা ঝরার দিন
অ্যালঝেইমার্স রোগে ভোগা বাবা, মেয়ের রাগ ভাঙাতে রসগোল্লা আনতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে ফেরার পথ। বিশাল এ শহরে তিনি বাড়ি ফিরবেন কেমন করে? এমনই হৃদয়গ্রাহী এক গল্প নিয়ে হাজির হয়েছিলেন রেদোয়ান রনি। বাবা ও মেয়ে দুজনের দুদিক থেকে উদ্বিগ্নতা যথেষ্ট দরদ দিয়ে রেদোয়ান রনি তুলে ধরেছেন। গল্প বলার ধাঁচ এবং পরিচালনার প্রশংসা পেয়েছেন রনি। মেয়ের চরিত্রে ঈশিতার অভিনয় প্রশংসিত ইতোমধ্যে। অনেকের মতে, ঈশিতার ক্যারিয়ারে যোগ হলো একটি ভালো কাজ। বাবার চরিত্রে হাসান ইমামের কথাও বলতে হবে জোর দিয়েই।
দ্য অরিজিনাল আর্টিস্ট
কিছুদিন আগেই জাতীয় পুরস্কারে এক বিভাগের পুরস্কার নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়েছিল। এমন একজনকে পুরস্কার দেয়া হয়েছিল যিনি নাকি ওই কাজটাই করেননি! ঠিক এমনই গল্প উঠে এসেছে এই নাটকে। ভুল হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট লোকজন তাদের ভুল স্বীকার করতে রাজি নয় নিজেদের প্রতিষ্ঠানের সম্মানের কথা ভেবে। অন্যদিকে সে আর্টিস্ট এ পুরস্কার নেবেন না কোনো অবস্থাতেই। সম্মান রক্ষার্থে ভুলকে সঠিক বানানোর মন্ত্রে বিদ্রুপ ঢেলে দিয়েছেন পরিচালক মাহমুদুল ইসলাম। পরিচালনার জোর ছাড়াও নাটকে ছিল কামরুজ্জামান কামু ও মুকিতের মজাদার অভিনয়।
কলি ২.০
সেলিম (ইরফান সাজ্জাদ) আর কলির (তিশা) প্রেমের গল্প। তবে আর দশটা প্রেমের গল্প নয়। ড্রাগে আসক্ত কলির চরিত্রটির মধ্য দিয়ে আজকের তরুণ সমাজের অবক্ষয়কে দেখানো হয়েছে। যদিও এ থেকে মুক্তির কোনো বার্তা নাটকে ছিল না। নাটকের সংলাপে ছিল না কোনো রাখঢাক। যথেচ্ছভাবে গালাগালের ব্যবহার করা হয়েছে। ইউটিউবের দর্শকরা এসব গালিগালাজ কোনো বাধা ছাড়াই শুনতে পেয়েছেন। আবরার আতহার পরিচালক হিসেবে চেষ্টা করেছেন নাটকে সিনেমার মেজাজ আনার। এ নাটকের চরিত্রগুলোকে টিভি পর্দায় খুব পাওয়া যায় না বলেই দর্শকরা ব্যতিক্রম কাজের স্বাদ পেয়েছেন।
লালাই
কালু সাদামাটা একদম চুপচাপ সহজ-সরল স্বভাবের কৃষক। দীর্ঘদিন কোমরে ব্যথার কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। কিন্তু তার রোগব্যাধি কিংবা পারিবারিক কোনো মায়া তাকে মোটেও অমনোযোগী হতে দেয়নি তার গরু পালিত লালাইয়ের অমায়িক দেখাশোনার কাছ থেকে। এসবে ভীষণ আপত্তি তার বউ কলির। কালুর মেয়ে খুশি দীর্ঘদিন জ্বরে ভোগে। চিকিৎসার অভাবে বড় রোগ দেখা দেয় বাচ্চাটির। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। এমন গল্পের নাটকটি পরিচালনা করেছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। কালুর চরিত্রে আফরান নিশো এবং তার বউয়ের চরিত্রে তানজিন তিশা। দুজনের রসায়ন দর্শকরা পছন্দ করেছেন।
সোনালী ডানার চিল
গত ঈদে ‘ফেরার পথ নেই’ ছিল আশফাক নিপুণের একটি আলোচিত কাজ। এবার তিনি এলেন সামাজিক বক্তব্যধর্মী গল্প নিয়ে। ভর্তিযুদ্ধের পেছনের এক মানবিক গল্প। প্রশ্নফাঁসের মতো ঘৃণিত কাজের কারণে অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়া প্রতিভার হৃদয়স্পর্শী গল্প ‘সোনালী ডানার চিল’। সরল আঙ্গিকে লেখা চমৎকার এই নাটকের চিত্রনাট্য পছন্দ করেছেন দর্শকরা। মূল চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদকে বহুদিন পর তার চেনা প্রভাবশালী ভঙ্গিতে পাওয়া গেল। অন্য দুটি বিশেষ চরিত্রে মেহজাবীন চৌধুরী ও সাবেরী আলম দুজনের অভিনয় দর্শকরা তৃপ্ত হয়েছেন। তরুণ দর্শকরা মেহজাবিনে মজেছেন এই ঈদে।
জুনিয়র আর্টিস্ট লতিফ
আমাদের নাটক বা সিনেমার জগতে জুনিয়র আর্টিস্ট কতটা নিগৃহীত সে গল্প তুলে ধরা হয়েছে সুমন আনোয়ারের এই টেলিফিল্মে। নাটক, সিনেমার শুটিংয়ের পেছনের নানা অসঙ্গতি আর বিড়ম্বনার গল্পকে যথাযথ হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন ছাড়াও জুনিয়র আর্টিস্টদের প্রতি অবহেলার বাস্তবিক গল্প বলেছেন সুমন আনোয়ার। মূল চরিত্রে আছেন আফরান নিশো। লতিফ চরিত্রে ভালো কাজ দেখিয়েছেন তিনি। ঈদের অন্যতম একটি সেরা কাজ বলে দর্শকরা এটিকে মনে করছেন। তবে টেলিফিল্মের শেষ অংশ নিয়ে তাদের আক্ষেপও রয়েছে।
লায়লা তুমি কি আমাকে মিস করো
এবারের ঈদের অন্যতম সেরা রোমান্টিক নাটক বলা হচ্ছে এই নাটকটিকে। নিশো-মেহজাবীন জুটি এ সময়ের জনপ্রিয় রোমান্টিক জুটি। নাটকের শেষটা রূপকধর্মী হলেও ইতিবাচক আঙ্গিকে সামাজিক বার্তা দারুণভাবে গল্পে বুনে দিয়েছেন নিপুণ। দুর্দান্ত সব সংলাপের গাঁথুনির কারণেও দর্শকরা নাটকটিকে ঈদের শত নাটকের ভিড়ে আলাদা করে রেখেছেন। নাটকটি পরিচালনা করেছেন আশফাক নিপুণ।
কলুর বলদ ২
প্রবাসীরা কি শুধুই টাকার মেশিন? একজন প্রবাসী দেশে ফিরে আসার পর সবাই তাকে জিজ্ঞাসা করে তুমি আবার কবে যাবা? কেউ জিজ্ঞাসা করে না তার কষ্টের কথা! এভাবেই এগোয় টেলিফিল্মের কাহিনী। সবার স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে যেন নিজের সবই বিসর্জন দিতে হয়ে এক প্রবাসীকে। পরিবারে, সমাজ, রাষ্ট্রে সে একজন কলুর বলদই! মেজবাহ উদ্দিন সুমনের গল্পে ‘কলুর বলদ ২’ কেন্দ্রীয় চরিত্রে চিত্রনায়ক রিয়াজ। প্রবাসীদের জীবনের বেদনার প্রতিচ্ছবি দেখানো হয়েছে টেলিফিল্মটিতে। এটি পরিচালনা করেছেন সাজ্জাদ সুমন। গত ঈদের সাফল্য থেকেই মূলত ‘কলুর বলদ’র সিক্যুয়েল তৈরি হয়।