বড়পুকুরিয়ায় পরীক্ষামূলক কয়লা উত্তোলন শুরু

আগের সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আইডিবির সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

আওয়ামী লীগ আসন ধরে রাখতে চায়, পুনরুদ্ধারে তৎপর জাপা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮ , ২:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ২:৪৮ অপরাহ্ণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও সরব। মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা শেষ মুহূর্তে তৃণমূল থেকে দলের উচ্চপর্যায়ে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। গাইবান্ধা সদর উপজেলাকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা-২ আসন গঠিত। জেলা সদরের কারণে সব রাজনৈতিক দলের কাছে এ আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ আসনটি নিজেদের দখলে নিতে চায় সব দলই।
আসনটি বর্তমানে আওয়ামী লীগের কব্জায়। জাতীয় সংসদের হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি এ আসনের এমপি। গাইবান্ধার ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী যিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মহাজোট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সর্বাধিক ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমডোর শফিকুর রহমানকে পরাজিত করেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি অংশ না থাকায় সেবার তার সহজ বিজয় হয়। কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা হবে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আসনটি এবারো তাদের ঘরে রাখতে চায়। তাই প্রার্থিতার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য মাহাবুব আরা বেগম গিনি অগ্রগামী অবস্থায় রয়েছেন। একসময়ের জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ মাহাবুব আরা বেগম গিনি বর্তমানে জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহসভাপতি। পর পর দুবার তিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে যথেষ্ট কাজ করেছেন। গাইবান্ধা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার, টেক্সাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটউট প্রতিষ্ঠা এবং জেলা সদর হাসপাতাল ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণে ও এর ৮ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করার পেছনে তার ভ‚মিকা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া অসংখ্য সড়ক উন্নয়ন ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে তিনি জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। তিনি গাইবান্ধা স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত পরিবর্তন এনে সেটিকে আধুনিকায়ন করেছেন। তার প্রচেষ্টায় স্টেডিয়ামে একটি আধুনিক জিমনেশিয়াম প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। হুইপ গিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতো সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তিনি কাজ করার চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিলে এ আসনটি তাকে উপহার দেবেন বলে আশা পোষণ করেন।
এ আসনে হুইপ গিনি ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক এডভোকেট সৈয়দ শামসুল আলম হীরু, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহসভাপতি ফরহাদ আব্দুল্লাহ হারুন বাবলু, যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হক মÐল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর জামান রিংকু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা সদস্য এবং বাংলাদেশের প্রথম স্পিকার শাহ আব্দুল হামিদের নাতি শাহ সারোয়ার কবির এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এডভোকেট মানিক ঘোষ মনোনয়ন প্রত্যাশী।
এর মধ্যে দলের জেলা সভাপতি সৈয়দ শাসুল আলম হীরু ছাত্র জীবনে থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। একাত্তরে স্থানীয় পাবলিক লাইব্রেরি ময়দানে তিনি পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে যেতেন চান। দলের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকের তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, তার দীর্ঘদিনের কর্মকান্ডের মূল্যায়ন করে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর জামান রিংকু মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ব্যাপক কর্মতৎপরতা শুরু করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুর রহমান টুটুলও অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী। জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক এডভোকেট আহসানুল করিম লাছু মনোনয়ন পেতে আগ্রহী।
একসময় জাতীয় পার্টির দুর্গ বলা হতো গোটা গাইবান্ধা জেলাকেই। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাষ্ট্রপতি এরশাদ কারাগারে গেলেও সদর আসনটি ওই দলেরই দখলে ছিল। একানব্বই এবং ছিয়ানব্বইয়ের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এ আসনটি ধরে রাখে। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং জেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার এ আসনে পর পর দুবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পেলেও মহাজোটগত কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অনুক‚লে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পরও দলীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে নিশ্চিত। দলে তার বিকল্প নেই। আর কোনো প্রার্থীও নেই। দলের চেয়ারম্যান এ আসনে ইতোমধ্যে তার নাম ঘোষণা করেছেন। দলটি এবার এ আসনটিতে আর ছাড় দিতে রাজি নয়। আব্দুর রশিদ বলেন, আর ছাড় নয়। ছেড়ে দেয়া আসনটি এবার পুনরুদ্ধার করতে চাই। এরশাদ প্রিয় জনগণও এ আসনটি জাতীয় পার্টির ঘরে এবার পৌঁছে দেবে বলে তিনি নিশ্চিত।
এদিকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকতে হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণের প্রত্যাশায় নেতাকর্মীরা আন্দোলনের পাশাপাশি ঘর গোছানের কাজে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক আনিসুজামান খান বাবু, বর্তমান জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি মাহামুদুন্নবী টিটুল এবং জিয়া পরিষদের জেলা সদস্য সচিব খন্দকার আহাদ আহমেদ। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি, লক্ষ্মীপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল করিম এই আসনে জামায়াত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাসদ তাদের নিজস্ব প্রার্থীর কথা ভাবছে। এ ক্ষেত্রে জাসদের জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহ শরিফুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মারুফ মনা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। অপরদিকে সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ এবং বাসদের (মার্কসবাদী) সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম মিঠু দলীয় মনোনয়ন পেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।