প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলাকারীকে ছাড়াতে আ.লীগ নেতার তদ্বির

আগের সংবাদ

ডিমলায় মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুর

পরের সংবাদ

খুলছে তিস্তা সড়ক সেতুর দুয়ারও

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরু ১৬ সেপ্টেম্বর

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ২:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ২:৪৮ অপরাহ্ণ

শুরু হচ্ছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম এবং খুলে যাচ্ছে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ৮৫০ মিটার গার্ডার সেতুও।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত গার্ডার সেতুর উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া একই দিন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রমও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত এক স্মারকে জানানো হয়েছে, ওই দিন সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সাড়ে ১১টায় তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধন করবেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেরিত চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদে রংপুর মহানগরী পুলিশ বিল-২০১৮ পাস হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বর্তমান আয়তন ৫১৭ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার। রংপুর সদর, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার কিছু অংশ আরপিএমপি এলাকায় নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেন ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে।
বিভাগ বাস্তবায়নের পর এ অঞ্চলের গুরুত্ব অনুধাবন করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যে কারণে এর লোকবল, অবকাঠামো, কাজের পরিধি ও কর্মএলাকা নিয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা সম্পন্ন হয়। গত ২০১৩ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্ত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কার্যক্রম শুরুর কথা ছিল। এ এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখের ওপর। এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রয়োজনীয়তা ছিল।
সূত্রমতে আরএমপির জনবলের মধ্যে রয়েছে একজন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার একজন, উপপুলিশ কমিশনার ২ জন, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ৬ জন, সহকারী পুলিশ কমিশনার ১২ জন, ইন্সপেক্টর ২০ জন, সাব-ইন্সপেক্টর ১২০ জন, সার্জেন্ট ১০ জন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ১৫০ জন, এটিএসআই ১০ জন, নায়েক ৭০ জন, কনস্টেবল ৭৫০ ও অন্যান্য রয়েছেন (নন-পুলিশ) ৩৩ জন । এ ছাড়া ১০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৮টি পুলিশ বক্স রয়েছে। প্রথমে ১ হাজার ১৫০ জনবল নিয়ে কাজ শুরু হবে। তবে ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাড়াকৃত ভবনে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে।
এদিকে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহীপুর ও লালমনিরহাট জেলার কাকিনায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুটির মূল অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে গত বছরের নভেম্বর মাসে। ৮৫০ মিটার এই সেতু নির্মাণে প্রায় ১২৩ কোটি টাকার ব্যয় হয়েছে। এটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১২ সালের মার্চ মাসে। সেতুটি চালু হওয়ায় লালমনিরহাট সদরসহ আদিতমারী, কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধার সঙ্গে গঙ্গাচড়াসহ বিভাগীয় নগরী রংপুরের দূরত্ব ৩০-৫০ কিলোমিটার কমে এসেছে। সহজতর হয়েছে পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পণ্য পরিবহনও। একই সঙ্গে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতসংক্রান্ত ভোগান্তি বহুলাংশে কমে গেছে।