মূলধারা থেকে পিছিয়ে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা

আগের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলাকারীকে ছাড়াতে আ.লীগ নেতার তদ্বির

পরের সংবাদ

ভ্রাম্যমাণ আদালতকে মালিকদের চ্যালেঞ্জ

যানবাহন চলাচল অনেকটা বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ১:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ১:৫৩ অপরাহ্ণ

সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রামে বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে তার প্রতি একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিকরা। তারা অঘোষিতভাবে যানবাহন চলাচল অনেকটা বন্ধ রেখে গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক ধরনের সংকট সৃষ্টি করে সড়ক পরিবহনে উল্টো নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সড়ক পরিবহন মালিকরা বিআরটিএর অভিযানকে হয়রানি হিসেবে আখ্যায়িত করে গাড়ি বন্ধ রেখে যাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছেন। অন্যদিকে বিআরটিএ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতকে স্বাগত জানিয়েছেন যাত্রীসাধারণ ও ক্যাব নেতারা। নতুন লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্স নবায়ন ও গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষাসহ নানা কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে নগরীতে।
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহসভাপতি নাজের হোসাইন ভোরের কাগজকে বলেন, এতদিন বিআরটিএর কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন না। তাই চাইলেও পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্যে ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি বিআরটিএ। এখন দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার ফলে পরিবহন সেক্টরে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তবে পরিবহন সেক্টরে পুরোপুরি শৃঙ্খলা আনতে চাইলে এ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।
এদিকে চট্টগ্রামে যাত্রীদের জিম্মি করে গণপরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা। বিআরটিএ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে পরিবহন ভাড়া নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে নৈরাজ্য চলছে। অভিযানের কারণে বাস-মিনিবাস চলাচল কমে যাওয়ায় নগরজুড়ে গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে অফিসগামী লোকজন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে চালক-হেলপার ও যাত্রীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে পরিবহন মালিকরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো অভিযোগে করছেন, ট্রাফিক পুলিশ ও বিআরটিএর অভিযানে হয়রানি করা হচ্ছে এবং পরিবহনে কোনো বাড়তি ভাড়া নেয়া হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মালিক গ্রæপের যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টলা বাস-মিনিবাস-হিউম্যান হলার পরিবহন মালিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন শরীফ মিজান ভোরের কাগজকে বলেন, দুই সংস্থার একসঙ্গে অভিযান চলার কারণে হয়রানিতে পড়ছে গণপরিবহনগুলো। লাইসেন্স ও ফিটনেস নবায়নসহ নানা কারণে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিলে সেই মামলার কাগজ দেখানোর পরও আমলে নিচ্ছেন না বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেটগণ। তারা আবার নতুন করে হয় জরিমানা করছেন, ৯টি গাড়ি ডাম্পিংয়ের জন্য জব্দ করছেন। এ অবস্থায় অনেক পরিবহনের মালিক গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছেন না। তারপরও আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। আমরাও চাই চট্টগ্রামের পরিবহন সেক্টরে সুশৃঙ্খলা ফিরে আসুক।
এদিকে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক এবং মো. জিয়াউল হক মীর। পরিবহন মালিক গ্রæপের হয়রানির প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক ভোরের কাগজকে বলেন, পুলিশের দেয়া মামলায় কোনো ত্রæটি দেখলে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে পরিবহনের রুট পারমিট, লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, হেলমেট, যানবাহন বিমা, গাড়িতে অনুমোদিত সিট সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত সিট এবং হাইড্রোলিক হর্নসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাইবাছাই করা হয়। এসব বিষয়ে অনিয়ম দেখলে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে চালকদের সচেতন করা হয়। এ ছাড়া স্বাভাবিকভাবেই জরাজীর্ণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ করে ড্যাম্পিংয়ের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউল হক মীর বলেন, নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। যতদিন শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না, ততদিন অভিযান চলবে। অভিযানের সময় শুধু গাড়ির কাগজপত্র চেক নয়, সড়কে যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) মোহাম্মদ আকরামুল হোসেন বলেন, সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ অভিযানের পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপ‚র্ণ মোড়সমূহে জনসাধারণ এবং পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণাও চালাচ্ছে। বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ দিনে তাদের অভিযানে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মামলা এবং প্রায় ১৪ লাখ টাকা জরিমানা ছাড়াও চলাচল অনুপযোগী ৫০টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৮৬ গাড়ির কাগজপত্র। একজনকে কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে চলতি মাসজুড়ে পুলিশের বিশেষ ট্রাফিক সচেতনতা অভিযানের অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মামলা ও ১৩০টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।