গুলিবিদ্ধ লাশটি বনদস্যু জসিমের

আগের সংবাদ

টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৯ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ

পরের সংবাদ

ভোটের মাঠে প্রস্তুতির ঘটা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ১১:০০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগে ৪ অগ্রাধিকার

মুহাম্মদ রুহুল আমিন : জোট সম্প্রসারণ, দলীয় কোন্দল নিরসন, মনোনয়ন চূড়ান্ত করা ও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন এই চারটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যেটুকু কাজ বাকি আছে, তা এ মাসের মধ্যে গুছিয়ে নিতে কাজ করছেন নেতারা। ১৪ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনও প্রস্তুতি নিচ্ছে সমানতালে। আওয়ামী লীগ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত মাঠে নামার চেষ্টা করলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ীদের গ্রেপ্তারেরও পরিকল্পনা আছে। একই সঙ্গে বিএনপিসহ সরকারবিরোধীরা যেন ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে, সেই চেষ্টাও আছে দলটির পক্ষ থেকে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, দেশ নির্বাচনী মেজাজে। বিভিন্ন দলের জোট গঠনের তৎপরতা, সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, মনোনয়ন চূড়ান্তের প্রক্রিয়াসহ সব প্রস্তুতি শেষের পথে। সেপ্টেম্বরে এই তৎপরতা আরো বাড়বে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে এমন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আগামী মাসে (অক্টোবর) নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সুতরাং বিএনপি-জামায়াত বা অন্য কোনো অপশক্তি কে কি হুমকি দিল, সেটা দেখার সময় নেই। নির্বাচন কেউ ঠেকাতেও পারবে না, ঠেকানোর শক্তিও কারো নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আমাদের কেন্দ্রীয় টিম যাচ্ছে, তারা মাঠে কাজ করছে। দলীয় সভাপতিসহ দলের হাইকমান্ড যেসব এলাকায় কোন্দল আছে, তা নিরসনে কাজও করছে।
ফারুক খান আরো বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, বিএনপিও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের নেতারা নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন। জনসংযোগ করছেন। তিন মাস আগেই লন্ডনে প্রতিটি আসনে ৩ জন করে প্রার্থীরা তালিকা পাঠানো হয়েছে, সেটা তাদের মহাসচিব স্বীকার করেছেন। তবে আমরা সতর্ক আছি। কারণ যারা এখন মাঠ গরমের চেষ্টায় আছে, তাদের অতীত ইতিহাস খুবই খারাপ। আগেও তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেছে। এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর প্রতি আমাদের নির্দেশ আছে, তারা সেই নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচনী মাঠে কাজ করছে। এদিকে মাঠ দখল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে তৃণমূলে আরো সক্রিয় হচ্ছে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। গত ১ সেপ্টেম্বর জোটের বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছাতে ও আগামী নির্বাচনে জোটকে আবারো ক্ষমতায় আনতে আগের চেয়ে বেশি তৎপর এই জোট। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জোট শরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে। ঘন ঘন বৈঠকও করা হচ্ছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করবে ১৪ দল। পাশাপাশি জোটের পরিধি বাড়াতেও চেষ্টা চলছে। ওই দিন সম্পাদকমন্ডলীর বৈঠক শেষে জোটের আকার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরদিন রবিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাও জোট সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেন।
১৪ দলের নেতা ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকেই আমরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছি।
আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোও ভোটের মাঠে সক্রিয়। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, এই মুহূর্তে ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সব কর্মকান্ড হচ্ছে নির্বাচনমূখী। ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করে আমরা ১০ কোটি ভোটারের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরব। ৩শ আসনভিত্তিক এলাকায় সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে লিফলেট তৈরি করছি। যা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। মোটকথা নির্বাচনে ইতিবাচক সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের আছে।
যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে যুবলীগের পক্ষ থেকে জনমত সৃষ্টির কাজ করছি। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি আছে। আমরা এখন নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি করছি।
বাংলাদেশে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। এই ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তৎপর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগ। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন, ইসলামী ছাত্রীসংস্থাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে ধর্মের দোহাই ও ঘরে ঘরে গিয়ে নারী ভোটারদের প্রভাবিত করছে প্রতিপক্ষ নারী সংগঠনের সদস্যরা। এসব মোকাবেলা ও নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম মোকাবেলায় আমাদের সব ধরনের ট্রেনিং আছে। আমাদের ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি অনেকগুলো হয়েছে। ছাত্রীসংস্থার সদস্যরা ধর্মের নামে মা-বোনদের ভুল বার্তা দিচ্ছেন। সেসব বিষয়ে সতর্ক আছি। তাদের মোকাবেলা করেই ঘরে ঘরে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার কর্মীও আমাদের প্রস্তুত।
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার বলেন, বিএনপি-জামায়াত রাজনৈতিক শক্তি নয়, তারা বাংলাদেশবিরোধী শক্তির এজেন্ট। এদের বিষয়ে আমরা সজাগ। ১০ বছরে তারা আন্দোলনের অনেক হুমকি দিয়েছে। সাহস থাকলে এবারও মাঠে নেমে দেখুক, থাকতে পারে কিনা দেখব।

দুই ধরনের কৌশল বিএনপির

রুমানা জামান : বাইরে তর্জন গর্জন ‘নো খালেদা নো ইলেকশন’; কিন্তু ভেতরে ভিন্ন পরিকল্পনা বিএনপির। টানা ১২ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা এ রাজনৈতিক দলটি এখন পুরোদমে ভোটের মাঠে। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে স্বল্পমেয়াদে আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়টিও মাথায় আছে নেতাদের। এমনকি জোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ার চেষ্টায়ও পিছিয়ে নেই। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।
নেতারা জানান, সহসাই খালেদা জিয়ার কারামুক্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না তারা। আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে এই মুহূর্তে মুক্ত করা যাবে সেই সম্ভবনাও কম। তাদের মতে, দলীয় প্রধানের মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি কোনোটাই সহজে মানবে না সরকার। তাই দাবি আদায়ে আন্দোলন ও নির্বাচন দুধরনের প্রস্তুতিই এগিয়ে রাখা ভালো। আন্দোলন সফল হলে ভালো। কিন্তু নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যেন নতুন করে চাপ না আসে। নেতারা জানান, মাঠের আন্দোলন না জমিয়ে সরাসরি নির্বাচনে গিয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় না। এ জন্য ভোটের আগে স্বল্পমেয়াদে আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে চাপে রাখতে চায় বিএনপি।
দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার চূড়ান্ত সংকেত পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেদিন ঘণ্টাখানেক বৈঠকের মূল বিষয়ই ছিল নির্বাচন প্রসঙ্গ। তবে দলটির নির্বাচনী প্রস্তুতির আয়োজন নতুন নয়। যোগ্য প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করতে দেশব্যাপী সিনিয়র নেতারা টিম আকারে জরিপ করেছেন। রাজপথে ত্যাগী ও সৎ নেতাদের বাছাই করে তৃণমূলের প্রস্তাব, অভিমত, দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বিবেচনা করে এরই মধ্যে ৩০০ আসনভিত্তিক তিন স্তরের প্রার্থী তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় মামলাসহ নানা কারণে প্রথম স্তরের প্রার্থী বাদ পড়লে দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তরের প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতেও প্রার্থী তালিকা রয়েছে। তিনি লন্ডন থেকেই সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তার চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়ার পর স্থায়ী কমিটিসহ দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে কারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পাবেন। তবে এ লক্ষ্যে খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’ ও সংগঠন পুনর্গঠনে ৫১টি কমিটি অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতিকেন্দ্রিক কাজ করছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে ভোরের কাগজকে বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমরা নির্বাচনে যাব। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি সব সময়ই রয়েছে। ৩০০ আসনের বিপরীতে সারা দেশে বিএনপির কমপক্ষে তিনগুণ যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের সামনে একমাত্র ইস্যু হচ্ছে চেয়ারপারসনের মুক্তি।
সূত্র জানায়, প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি ভোটার তালিকা তেরির কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তালিকা ধরে নিজেদের সম্ভাব্য ভোটার লিস্ট নিয়ে কাজ শুরু করছে বিএনপি। এমনকি এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনকালীন দায়িত্বপালন করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে সারা দেশ থেকে সাহসী, বিচক্ষণ ও সৎ দলীয় নির্বাচনী পোলিং এজেন্ট বাছাই কাজ চলছে। বাছাই শেষে চূড়ান্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় এনে খুব শিগগিরই বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করা হবে। এমনকি মনোনয়নপত্র ক্রয়-বিক্রয়ের সময় রাজধানীতে শোডাউনের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের আগাম প্রস্তুত রাখাসহ গ্রেপ্তার এড়িয়ে পুরোদমে ভোটের প্রস্তুতি নিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গোপনে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়াও নির্বাচনকেন্দ্রিক দলের গতি ও শৃঙ্খলা আনতে তাদের প্রতি কঠোর হচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। সংশোধীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একাধিক পদধারী নেতাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাদের ডেকে পদ ছাড়তে সতর্ক করে দেয়া হবে। এমনকি মামলা নেই, দলীয় কর্মকাে ও সক্রিয় নয়, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে ‘নিরাপদ’ থাকছেন এমন নেতাদের অন্তর্ভূক্ত করে ‘কালো তালিকা’ তৈরির কাজ চলছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সময় তো বেশি নেই। তাই যিনি নির্বাচন করবেন, তার তো বসে থাকার সুযোগ নেই। সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিজের মাঠ গুছিয়ে রাখতে হবে, আবার না করলেও তাকে প্রতারণার নির্বাচন রুখে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তৈরি রাখতে হবে। সব দিক থেকে চিন্তা করলে এই মুহূর্তে নির্বাচনী প্রস্তুতি রাখাটা জরুরি।
জানা গেছে, ‘ভিশন-২০৩০’ কেন্দ্রে রেখে আগামী নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির কাজও শুরু করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কাজের তত্ত্বাবধান করছেন। এ ছাড়া দলের বিভাগভিত্তিক এক্সপার্টরা ইশতেহারের কাজে যুক্ত হয়েছেন। সাবেক আমলা, সচিব, সাবেক সেনা-নৌ-বিমান ও পুলিশের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা দিয়ে ইশতেহার তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ভিশন ২০৩০’ এর আদলে ও বিগত বছরগুলোতে করা ইশতেহারের সমন্বয়েই হবে আগামী ইশতেহার। সময় ও যুগের চাহিদা ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে সামনে রেখে দেশীয় অর্থনীতি, শিক্ষা, যোগাযোগ সব মিলিয়ে দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই ইশতেহারে থাকবে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের নেতাদের বার্তা পাঠানো হয়েছে। ভোটের মাঠে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে বিএনপির যেসব জেলা ও উপজেলা কমিটি এখনো হয়নি, সেসব কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে বিএনপির ৮ থেকে ১০টি জেলার কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এ ছাড়া যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ চলছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে যার যার এলাকায় কেন্দ্র কমিটি গঠন করতে শুরু করেছেন।
নেতারা জানান, ভোটারদের কাছাকাছি ঘেঁষতে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ জেলা সফর করবেন ঢাকায় অবস্থানরত নেতারা। তৃণমূলের কোন্দল নিরসনের লক্ষ্যে মাস কয়েক আগে যে কর্মী সম্মেলন করেছিলেন তার ফলোআপ করাসহ নির্বাচনী প্রথামিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন তারা। এমনকি নির্বাচনে কাজ করতে জোটের শরিকদের নিয়ে সমন্বয় কমিটিও গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা করতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র অন্য নেতাদের নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে নিয়মিত বৈঠক করছেন।
জানা গেছে, নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি বিএনপির বড় মনোযোগ এখন সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার দিকে। একই সঙ্গে খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে স্বল্পমেয়াদি একটি আন্দোলন গড়ে তোলা। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বৃহত্তর ঐক্য ও যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পাঁচ দফা দাবির একটা খসড়া তৈরি করা হয়। যা পরবর্তীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে। সরকার ২০১৪ সালের মতো এবার বিনা চ্যালেঞ্জে নির্বাচন করতে পারবে না। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হবে। ভারতসহ সারা বিশ্বের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। আর বিএনপি ছাড়া কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিএনপির নির্বাচনী শর্ত মেনে নিতে সরকার বাধ্য।