রাজাকার পরিবারের হাতে মুক্তিযোদ্ধা নির্যাতন!

আগের সংবাদ

নির্বাচনের আগে গ্রামীণ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার

পরের সংবাদ

বিভিন্ন দলের প্রার্থিতা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ৪:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ। চলছে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব-নিকাশ। কে কোন দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
জেলার চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৭ এবং নারী ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৮৫ জন।
আসনটিতে বরাবরই ছিল জাতীয় পার্টির আধিপত্য। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম হোসেন। পরের নির্বাচনেও জয় পায় দলটি। সেবার জামায়াতের প্রার্থীকে হারান সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক গোলাম হাবিব। ২০০৯ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির গোলাম হাবিবকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেন। ২০১৪ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি জেপির দখলে যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া জাপা। এদিকে জোটের কারণে ১৯৯১ থেকে একবারও নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। তবে রাজনৈতিক মেরুকরণে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দলটি। দলীয় প্রার্থীর জয় নিয়েও আশাবাদী দলটি।
আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেনÑ সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে পার্টির চেয়ারম্যানের ক‚টনৈতিক উপদেষ্টার পদ পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রদূত আশরাফ উদ দৌলা তাজ, রাজীবপুর জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মো. ইউনুছ আলী ও রৌমারী জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান। গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জেপি) রুহুল আমিনকে মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করায় অধ্যক্ষ মো.
ইউনুছ আলী (জাতীয় পার্টি) পার্টির সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী এই তিন প্রার্থীর বাইরে জাতীয় পার্টির (জেপি) সংসদ সদস্য রুহুল আমিনকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে দেখা যেতে পারে। সম্প্রতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চিলমারী সফরকালে দেয়া বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত দেখা গেছে। বিভিন্ন সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রাজীবপুর জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ মো. ইউনুছ আলী দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি জানান, তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে জাতীয় পার্টির হারানো এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
এদিকে এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় নেতাকর্মীরা রয়েছেন দ্বিধা-দ্ব›েদ্ব। সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেনÑ চিলমারী উপজেলা আ.লীগ সভাপতি ও চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর-বিক্রম, রৌমারী উপজেলা আ.লীগ সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন, রৌমারী উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মিনু, রৌমারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, চরশৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান কে এম ফজলুল হক, চিলমারী উপজেলা আ.লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক রহিমুজ্জামান সুমন, রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম ও অধ্যক্ষ ফজলুল হক মনি। এদের মধ্যে চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী সরকার বীর-বিক্রম মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আ.লীগ সভাপতি শওকত আলী সরকার বীর-বিক্রম বলেন, চিলমারী উপজেলা আ.লীগ সুসংগঠিত। চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও আমাকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে দেখতে চান। আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে ইনশাল্লাহ নৌকা মার্কা বিপুল ভোটে জয়ী হবে।
রৌমারী উপজেলা আ.লীগ সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারীতে আমার ব্যাপক জনসমর্থন বেড়েছে। এ তিন উপজেলার মানুষ আমাকে নৌকা প্রতীকে দেখতে চান। তিনি আরো জানান, মনোনয়ন পেলে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের চেয়ে লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হব।
এদিকে এ আসনটিতে জামায়াতের ভোটব্যাংক রয়েছে বলে দাবি দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের। বিগত নির্বাচনে জোটগতভাবে এ আসনে বিএনপি জামায়াতকে সমর্থন দেয়। কিন্তু দলটির প্রার্থী একবারও জয়ী হতে পারেনি। তাই এবারের নির্বাচনে বিএনপি কৌশলী হতে পারে। বিভিন্ন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ আসনে জামায়াতের মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাককে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া বিএনপি থেকে নির্বাচনমুখী রয়েছেনÑ নয়ারহাট ইউপি চেয়ারম্যান ও চিলমারী বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আবু হানিফা, রৌমারী বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, রাজীবপুর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান। তবে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজীবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান জানান, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি বিএনপি যেন থেকে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী করা হয়। এবারের নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন। জামায়াতের মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাকও ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইবেন। তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ আসনে ভোটের মাঠের ট্রাম্পকার্ড সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ও সংসদ সদস্য গোলাম হাবিব। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তার প্রাধান্য থাকায় শেষ মুহূর্তে তাকে নৗকা, লাঙ্গল অথবা ধানের শীষ প্রতীকেও নির্বাচনী মাঠে দেখা যেতে পারে। সম্প্রতি তিনি প্রধান দলগুলোর কাছে নিজের শক্তিমত্তা দেখাতে বিশাল শোডাউন করেছেন। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় করছেন নির্বাচনী প্রচারণা। সাধারণ ভোটাররাও চাইছেন, গোলাম হাবিব যেন প্রধান তিন দলের যে কোনো একটির প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে থাকেন। তাহলে তিনি সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবেন।
এ বিষয়ে সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ও সংসদ সদস্য গোলাম হাবিব দুলাল বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের পাশে সব সময় ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমি সব সময় চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুরের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ তিন উপজেলার মানুষের ভালোবাসাও পেয়েছি। আগামী নির্বাচনে আমাকে আবারো সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান এখানকার জনগণ।