ভ্রাম্যমাণ আদালতের বৈধতার সিদ্ধান্ত ঝুলছে উচ্চ আদালতে

আগের সংবাদ

ফুলবাড়ীতে জেলা ইজতেমা

পরের সংবাদ

বাকৃবি গবেষকদের ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য উন্মোচন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ৩:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ৩:৫১ অপরাহ্ণ

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক প্রথমবারের মতো ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করলেন।

শনিবার সকালে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন গবেষকরা।

বাকৃবির ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ও তার সহযোগী গবেষকরা দাবি করেছেন ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর দেশি ইলিশের জীবন রহস্য প্রস্তুতকরণ, জিনোমিক ডাটাবেজ স্থাপনে প্রায় দুই বছরের গবেষণায় সাফল্য পেয়েছেন ।

গবেষকরা জানান, প্রায় দুই বছরের গবেষণাকালে তারা দেশের বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা থেকে পূর্ণবয়স্ক ইলিশ সংগ্রহ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিস জেনেটিক্স অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি এবং পোল্ট্রি বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জিনোমি ল্যাবরেটরি থেকে সংগৃহীত ইলিশের উচ্চ গুণগত মানের জিনোমিক ডিএনএ প্রস্তুত করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জিনউইজ’ নামের জিনোম সিকোয়েন্সিং সেন্টার থেকে সংগৃহীত ইলিশের পৃথক প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটারে বিভিন্ন বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য থেকে ইলিশের পূর্ণাঙ্গ ডি-নোভো জিনোম সিকুয়েন্স বা জীবনরহস্য আবিষ্কার করা হয়।

তবে পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ইলিশ জিনোমে জিনের সংখ্যা জানার কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান গবেষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে গবেষক দলের অন্যরা হলেন, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা, বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম ও ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান।

ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের প্রয়োজনীতা সম্পর্কে প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো. সামছুল আলম বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা প্রচুর। যেহেতু ইলিশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে হয়, তাই ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়াতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশ। আর ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আমাদের জানতে হবে এর জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজননসহ বিভিন্ন বিষয়ে। এছাড়া ইলিশ একটি পরিযায়ী মাছ। এরা ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীতে আসে। আর এই পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকুয়েন্স থেকেই জানা যাবে, এরা কখন, কোথায় ডিম দেবে। কারণ জিনোমই জীবের সকল জৈবিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। আর এসব জানা গেলে সরকার খুব সহজেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ইলিশের টেকসই আহরণ এবং উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের পূর্ণাঙ্গ ডি-নোভো জিনোম সিকোয়েন্সিং এর গবেষণা কাজটি গবেষকদের নিজস্ব উদ্যোগ, স্বেচ্ছাশ্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। এ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলদেশের মৎস্য সেক্টর পূর্ণাঙ্গ জিনোম গবেষণার যুগে প্রবেশ করল।