নেপালের সঙ্গে হেরে বাংলাদেশের আশাভঙ্গ

আগের সংবাদ

দক্ষ জনশক্তি ও রেমিটেন্স প্রবাহ

পরের সংবাদ

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য

নিরবচ্ছিন্ন, ব্যয় সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ৯:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সরকারের কাজের ধারাবাহিকতা ও গতি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান আমরা আশা করতেই পারি। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা আমদানি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রতিফলন দরকার। সব ক্ষেত্রে যাতে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায় সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। আলোক উৎসবের আলো দিনে দিনে আরো বিস্তৃত ও উজ্জ্বলতর হয়ে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সবার কাছে পৌঁছাক- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হওয়ার সাফল্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড আলোক উৎসবের আয়োজন করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরঝিলসহ তিনটি স্থানে হাজারো মানুষ বর্ণিল এই উৎসব উপভোগ করেন। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট না হলেও বাস্তবতার নিরিখে এ অগ্রগতি আশা জাগানিয়া। বিদ্যুৎ উৎপাদন এই অর্জন যে কোনো দেশের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় সাফল্য।

জানা যায়, দেশে স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা এখন ১৭ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে আরো ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। সে হিসাবে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ২০ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। মাত্র ১০ বছরে এই অগ্রগতি নিঃসন্দেহে একটি বিরল অর্জন। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্যও পেয়েছে। সরকার নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এর সুফল দেখা যাচ্ছে। তারপরও বাস্তবতা হলো, লোডশেডিং নিয়ে মানুষের ভোগান্তি একেবারে দূর হয়নি। শহরে সমস্যাটা প্রকট না হলেও গ্রামের পরিস্থিতি স্থান বিশেষে নাজুক। আবার শিল্প-কারখানায়ও চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য জ্বালানির সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকে ব্যবহার করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। শুরু থেকেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বড় অংশ তেলনির্ভর। অথচ এখন বিশ্বে জ্বালানি তেল দুর্মূল্য। অন্যদিকে দেশে চাহিদার তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদনও পর্যাপ্ত নয়। একদিকে গ্যাস সংকট, তার ওপর সারের জন্য ইউরিয়া সার কারখানায় জরুরি গ্যাস সরবরাহ দিতে গিয়ে গ্যাসভিত্তিক কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র মৌসুমে বন্ধ রাখতে হয়। অর্থাৎ চাহিদানুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না হওয়ায় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারে না। এত প্রতিক‚লতার মধ্যেও সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে আমদানিসহ নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে জরুরিভিত্তিতে চাহিদা মেটাতে গিয়ে সরকারের নেয়া কিছু ব্যবস্থা বিরূপ সমালোচনারও খোরাক হয়েছে। ব্যয় সাশ্রয়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের মনোযোগ সময়োপযোগী। এ ছাড়া ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সরকারের কাজের ধারাবাহিকতা ও গতি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান আমরা আশা করতেই পারি। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা আমদানি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রতিফলন দরকার। সব ক্ষেত্রে যাতে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায় সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। আলোক উৎসবের আলো দিনে দিনে আরো বিস্তৃত ও উজ্জ্বলতর হয়ে গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সবার কাছে পৌঁছাকÑ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।