নির্বাচনের আগে গ্রামীণ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে সরকার

আগের সংবাদ

অপর্ণার ছুটে চলা

পরের সংবাদ

গুণগত মানের অভাব

তামাদি হচ্ছে লাখ লাখ জীবন বিমা পলিসি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ৪:৫৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

গুণগত মান নিশ্চিত না করায় তামাদি হচ্ছে লাখ লাখ জীবন বিমা পলিসি। জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই শুধু ৭ লাখ ৯২ হাজার ৩৩৪টি পলিসি তামাদি হয়েছে। এতে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যা জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তামাদি পলিসির কারণ জানতে ১৯ জীবন বিমা কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইডিআরএ সূত্র জানায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাস অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত, এই তিন মাসের ব্যবধানে বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮০টি পলিসি তামাদি হয়েছে। অন্যদিকে শতাংশের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি পলিসি তামাদি হয়েছে এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সে। কোম্পানিটিতে দ্বিতীয় বর্ষের ৯৮ শতাংশ পলিসি তামাদি হয়েছে এবং তৃতীয় ও তদূর্ধ্ব বর্ষে পলিসি তামাদি হয়েছে ৯৬ শতাংশ। তামাদি পলিসির হার বেশি থাকা ১৯টি বিমা কোম্পানিকে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে এবং তা হ্রাসে গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে ৭ দিনের সময় দিয়ে গত মাসে একটি চিঠিও দিয়েছে আইডিআরএ। আইডিআরএর তথ্য মতে, ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে লাইফ বিমার ৭ লাখ ৯২ হাজার ৩৩৪টি পলিসি তামাদি হয়েছে। এরমধ্যে ৭২.৬৬ শতাংশ অর্থাৎ ৫ লাখ ১০ হাজার ৩৬৩টি তামাদি পলিসি বায়রা ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফের। এ প্রান্তিকে পলিসি তামাদির ক্ষেত্রে কোম্পানি দুটিকে অধিক দায়ী বলছে কর্তৃপক্ষ।
লাইফ বিমায় দ্বিতীয় বর্ষ এবং তৃতীয় ও তদূর্ধ্ব বর্ষের পলিসি তামাদির হার বেশি থাকা ১৯টি কোম্পানির মধ্যে আলফা ইসলামী লাইফে দ্বিতীয় বর্ষের ৬৩ শতাংশ এবং তৃতীয় ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৪৯ শতাংশ পলিসি তামাদি। বেস্ট লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে তামাদির হার ৭২ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৮৬.৫৪ শতাংশ। ফারইস্ট ইসলামী লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৪৭.৫৬ শতাংশ ও তদূর্ধ্বে ২৪.০৮ শতাংশ পলিসি তামাদি। গার্ডিয়ান লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ২৪.৮৪ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৬৩.২৩ শতাংশ, হোমল্যান্ড লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৫৫.৬২ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৫৮.৪৩ শতাংশ, যমুনা লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৮৪.২৩ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৬৯.৮৬ শতাংশ, মেঘনা লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৬৮ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ২.৯০২ শতাংশ পলিসি তামাদি। তবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বলছে, ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এজেন্টদের নতুন পলিসির আন্ডার রাইটিং-এর গুণগত মান ভালো হচ্ছে না। এ ছাড়া নবায়ন কমিশনের হার কম থাকায় এজেন্টের কাছ থেকে গ্রাহকরা পলিসি নবায়ন সম্পর্কিত সেবাও ঠিকভাবে পায় না। এসব কারণে মূলত পলিসি তামাদি হয়। বেশি তামাদি হওয়া কোম্পানিগুলো বিমা আইন ২০১০-এর ৬২ ধারা এবং বিমা বিধিমালা ১৯৫৮-এর ৩৯ বিধিতে নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের অনুমোদিত সীমার চেয়ে অধিক পরিমাণে ব্যয় করে নতুন পলিসি সংগ্রহ করে। তবে নতুন পলিসির দ্বিতীয় বা তদূর্ধ্ব বর্ষে নবায়ন সংগৃহীত না হলে কোম্পানির লাইফ ফান্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সূূত্র আরো জানায়, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৬৫ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৪০ শতাংশ, ন্যাশনাল লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৪৮.২৪ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৫৩.৬৫ শতাংশ, এনআরবি গ্লোবাল লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৯৮ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৯৬ শতাংশ, পপুলার লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৫৯ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ২৬ শতাংশ পলিসি তামাদি।
সানলাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৮৯ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৮২ শতাংশ পলিসি তামাদি। সানফ্লাওয়ার লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৮৯.৬৯ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৩২.১৭ শতাংশ, স্বদেশ লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৭৭.৪৮ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৪৮.৮৮ শতাংশ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৬১ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ১৪ শতাংশ এবং জেনিথ ইসলামী লাইফে দ্বিতীয় বর্ষে ৪৯ শতাংশ ও তদূর্ধ্ব বর্ষে ৭৯ শতাংশ পলিসি তামাদি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ড. চৌধুরী মুহাম্মদ ওয়াসিউদ্দিন ভোরের কাগজকে জানান, প্রতিটি কোম্পানি কোয়ালিফাইড বিজনেসে জোর দেয়া উচিত অর্থাৎ গুণগত মান নিশ্চিত করা। এ ছাড়া প্রতিটি কোম্পানির কমিশনের বিষয়ে একই ইউনিফর্মে নিয়ে আসতে পারলে তামাদি পলিসির হার অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।