বর্তমান সরকারের ‘শেষ’ অধিবেশন বসছে কাল

আগের সংবাদ

জনবিচ্ছিন্ন বিএনপির সঙ্গে ঐক্যে লাভ নেই: অলি আহমদ

পরের সংবাদ

ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী পুলিশকেও ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ৭:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

পুলিশের কোন সদস্য ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে তাকে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে ট্রাফিক সচেতনতামূলক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, পুলিশের প্রতিটি গাড়িতে ব্লু বুক ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া শুধু আইন প্রয়োগ করে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব না। সড়কে ধারণের অতিরিক্ত যানবাহন ও জনগণের আইন না মানার প্রবণতা ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা।

সড়কে বিশৃঙ্খলায় আইন না মানা বড় কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন না মানলে ট্রাফিক সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে না।

গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে মাসব্যাপী ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হয়। এর অংশ হিসেবেই শনিবার শাহবাগ মোড়ে ডিএমপি কমিশনার ট্রাফিক সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করেন ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

পরে ট্রাফিক সচেতনতা মূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, গার্লস গাউড, রেড ক্রিসেন্ট, বিএনসিসি, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি প্রফেসর ড. মো. আক্তারুজ্জামান, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর প্রফেসর গোলাম রব্বানী, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক শামছুল হক, নিরাপদ সড়ক চাই’র চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কাঞ্চন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, কলামিষ্ট সৈয়দ আবুল মকসুদসহ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্য।

ট্রাফিক সচেতনতামূলক এই অনুষ্ঠানের সময়েও শাহবাগ থেকে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত সড়কে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। বাসের চালকরা ওই সড়কের নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়াই যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করাচ্ছিলেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, রাস্তা পারাপারে পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র রাস্তা পারাপার না হয়ে নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে। সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আইন মেনে চলতে হবে। এরইমধ্যে ঢাকা শহরে ১২১টি বাস স্টপেজে পুলিশের পক্ষ থেকে স্টপেজের চিহ্ন বসানো হয়েছে। রাস্তার বাম পাশ ঘেঁষে বাস দাঁড়াবে। বাস স্টপেজ ও বাস-বে তৈরির কাজ চলছে।

ঢাবি ভিসি ড. মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, সড়কের বাস্তবতার নিরিখে ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস নির্মাণ করে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মানতে সবার চেতনাকে জাগ্রত করার কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সড়কের শৃংখলা ফেরাতে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন পরিবহন মালিক নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। তিনি বলেন, চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। তাই তারা সমিতি থেকে চুক্তিভিত্তিক গাড়ি না চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। ডিএমপি যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সহযোগিতা করবে। তিনি চালক-শ্রমিকদের সচেতনতার পাশাপাশি রাস্তা ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ আইন মানে না। পুলিশের একার পক্ষে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। পথচারী ও জনগণদের নিজ থেকেও সচেতন হতে হবে।

কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অনুষ্ঠানে বসেই দেখছিলাম ১১ জন পথচারী মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হচ্ছেন। এটা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। যেসব পথচারী এমনটা করছেন তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।