দক্ষ জনশক্তি ও রেমিটেন্স প্রবাহ

আগের সংবাদ

নাইজেরিয়ার শিল্প প্রতিমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এর সাক্ষাৎ

পরের সংবাদ

জাতীয় সংসদ ও গণআকাক্সক্ষা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ , ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

রণেশ মৈত্র

রাজনীতিক ও কলাম লেখক

আবারো নির্বাচন এল। এবারেও কি অতীতের পুনরাবৃত্তি হবে? টাকার খেলা, সাম্প্রদায়িক প্রচারণা, প্রকৃত রাজনীতিকদের মনোনয়ন, প্রার্থীর জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা, দুর্নীতিবাজদের সংসদে আসতে না দেয়া- প্রভৃতির সাক্ষাৎ কি পাওয়া যাবে? গণআকাক্সক্ষার সংসদ যদি পেতে চাই এ নির্বাচনে তবে টাকার  খেলা বন্ধ, সাম্প্রদায়িক-দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন বন্ধ করতে হবে।

যুগবার্তা

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। এ দেশের মানুষ আজন্ম গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে এসেছেন- সে সংগ্রাম আজো অব্যাহত। ভোট মানেই নির্বাচন নয়- তেমনি আবার নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র নয়। তবে গণতন্ত্রে যেহেতু জনমতের প্রতিফলন ঘটে- তাই গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য কিন্তু নির্বাচন ও তার তাবৎ প্রক্রিয়াকে হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য। আবার তেমন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হলে সেই নির্বাচনকে অবশ্যই হতে হবে অংশগ্রহণমূলক- অর্থাৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপ এমন হতে হবে এতটাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে যে মতাদর্শ নির্বিশেষে সব বৈধ রাজনৈতিক দলই তাতে স্বেচ্ছায় এবং বিনা দ্বিধায় অংশগ্রহণ করতে এগিয়ে আসেন।

এমন একটি নির্বাচন উপহার দিতে পারলে জনগণের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত যে সংসদ তা বহুলাংশে (সর্বাংশে নাও হতে পারে) গণআকাক্সক্ষার পূরণ করতে পারে। এমন একটি নির্বাচন যেহেতু আজো নিশ্চিত হয়নি। তাই জনগণের আকাক্সিক্ষত ধরনের সংসদও দীর্ঘকাল ধরে জনগণ পায়নি এবং তা থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন আমাদের জীবনেই আমরা অন্তত দুবার প্রত্যক্ষ করেছি। তার একটি ১৯৫৪ সালের যখন হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী লড়াইতে নেমেছিল ক্ষমতাসীন নুরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে। সেবার নির্বাচনে নির্মমভাবে পরাজিত মুসলিম লীগ ওই রায় সম্পর্কে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেনি- করার আদৌ কোনো সুযোগও ছিল না। জনমতের স্বতঃস্ফ‚র্ত অভিব্যক্তি এমন প্রবলভাবে ঘটেছিল যে নির্বাচন নিয়ে কোনো মহলেরই কোনো অভিযোগ উত্থাপন করার ন্যূনতম কারণও ছিল না। এই নির্বাচন ছিল পাকিস্তান আমলের প্রথমবার অনুষ্ঠিত পূর্ববাংলার প্রাদেশিক নির্বাচন।

অপর সুষ্ঠু নির্বাচনটি প্রত্যক্ষ করা গেল ১৯৭১ সালে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র জীবনের সাধনার অসাধারণ পরিণতিতে। ক্ষমতাসীন তখন পাকিস্তানের দ্বিতীয় সেনাশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান। সামরিক বাহিনীর গোপন অর্থাৎ সার্বিক সমর্থন ছিল কনভেনশনপন্থি মুসলিম লীগের প্রতি। তাদের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পেল এক অসাধারণ বিজয়- প্রায় প্রতিটি আসনেই বিপুল ভোটে সেবার বিজয় অর্জন করেছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। সমগ্র বাঙালি জাতি এ বিজয়ে স্বতঃস্ফ‚র্ত আনন্দোল্লাসে মেতে উঠেছিল তাদের ছয় দফা- এগারো দফার বিজয়ে।

তেমনই আবার বুক কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পূর্ববাংলার মুসলিম লীগের নির্মম পরাজয়ে। কারণ তাদের হিসাব-নিকাশ এই নির্বাচনকে ঘিরে ছিল অন্যরকম। তারা ভেবেছিল পূর্ববাংলায় আওয়ামী লীগ বেশি আসন পেয়ে জিতবে তবে প্রায় সবক’টি আসন আওয়ামী লীগ জিতে নেবে এমনটি তারা ভাবতে পারেনি। ভেবেছিল কিছু আসনে মুসলিম লীগের বিজয় ঘটবে পূর্ববাংলায় এবং ব্যাপক সংখ্যায় তারা জিতবে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোতে এই দুই অঞ্চলের নির্বাচনী রায়ের যোগফলে সংখ্যাধিক্য মুসলিম লীগ পেয়ে যাবে এবং তারা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে- পরিণতিতে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে- পরিণতিতে বাঙালির হবে পরাজয় কারণ তাদের ছয় দফা-এগারো দফায় পরাজয় সূচিত হবে।

মুসলিম লীগের স্বপ্ন ১৯৭০-এর নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোতেও প্রতিফলিত হয়নি- তারা চরম পরাজয়বরণ করে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। ওই নির্বাচনে পাঞ্জাবে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), সিন্ধু প্রদেশেও পিপিপি, বেলুচিস্তানে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি এবং উল্টর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশেও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বিজয় অর্জন করে। সমগ্র পাকিস্তানের কোনো প্রদেশেই সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল ভোটে জিততে পারেনি। তবে তারা পাকিস্তানি আবেগ ও সুবিধাবাদের প্রসার ঘটিয়ে পাঞ্জাবে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও তার নেতৃত্বাধীন পিপিপিকে দিয়ে কুৎসিত খেলা শুরু করে। পশ্চিম পাকিস্তানের চারটি প্রদেশে নির্বাচনী রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দলগুলো মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারলেও পাকিস্তানের সামরিক সরকার বাঙালিকে বা পূর্ববাংলাতে মন্ত্রিসভা গঠন করতে দেয়নি এবং কেন্দ্রেও জনমতভিত্তিক রাজনৈতিক সরকারকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি- কারণ হলো পাকিস্তান পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বেরিয়ে এসেছিল আওয়ামী লীগ। তাই বাঙালি ভোটে জিতলেও সংসদ পেল না। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনেও যুক্তফ্রন্ট নেতারা নয়টি বাদে সব আসনে জিতে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে সরকার গঠন করলেও সে সরকার ৫৪ দিন মাত্র ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিল- তারপর মিথ্যা অজুহাতে কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ববাংলার প্রাদেশিক সরকারকে বাতিল করে দেয় এবং গভর্নর শাসন প্রবর্তন করে।

১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দল ভাঙা-গড়ার খেলা দেখিয়ে অবশেষে সরাসরি সামরিক আইন জারি করা হয়, জেনারেল আইয়ুব খানের নেতৃত্বে সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদসমূহ বাতিল করে দেয়া হয়। ফলে বঙ্গবন্ধু আমলের মাত্র সাড়ে তিন বছর বাঙালির ভাগ্যে কিছুটা জনবান্ধব সংসদের সাক্ষাৎ জুটেছিল। কিন্তু সে তো মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের কথা।
পাকিস্তান আমলজুড়ে সর্বদাই সংসদ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বজায় থাকতে আমরা দেখেছি। কখনো বা তার নিয়ন্ত্রণ করেছেন আমলা নিয়ন্ত্রিত বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব- আবার কখনো বা সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রিত চরম গণবিরোধী এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ। বস্তুত সে কারণে ওই আমলের ২৩টি বছরজুড়েই ‘রাবার স্ট্যাম্প’ সংসদ কাজ করেছে- জনগণের স্বার্থে নয়। ফলে ওই আমলের সবটা সময়জুড়েই জনগণ গণতন্ত্র ও সংসদের জন্য লড়াই করেছে।

১৯৭১-এর নয়টি মাস ধরে বাঙালিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করে বাঙালির স্বাধীনতা স্বাধীন দেশ অর্জন করতে হলো। প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকশিত হবে, সার্বভৌম জনবান্ধব সংসদ কাজ করবে, গণতন্ত্র দিনে দিনে সব ক্ষেত্রে শিকড় গাড়বে। কিন্তু দেখা গেল, মুক্তিযুদ্ধ সমাপ্তির মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোর রাতে নিদ্রিত ঢাকা নগরীতে গণতন্ত্রের জন্য আজীবন যোদ্ধা বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সবংশে নির্মমভাবে হত্যা করল চরমতম গণতন্ত্রবিরোধী দেশি-বিদেশি শক্তিসমূহের চক্রান্তে এ দেশেরই সামরিক বাহিনীর কতিপয় কুলাঙ্গার। ক্ষমতা দখল করলেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার মুশতাক সেনাবাহিনীর সমর্থনে। অতঃপর কিছুকালের মধ্যেই জেনারেল জিয়া ক্ষমতা দখল করলেন। তার কয়েক বছর শাসনামলেও সংসদের অস্তিত্ব ছিল- কিন্তু সে সংসদ ও সার্বভৌম ছিল না- ছিল না জনবান্ধব।

অতঃপর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আর এক স্বৈরাচারী সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন- প্রায় দশ বছর রাজত্ব করেন তিনি। তার আমলেও নির্বাচিত (যদিও সে নির্বাচনগুলোও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ)। ওই সব নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদগুলোর সার্বভৌম ক্ষমতা ছিল না- ছিল না জনবান্ধব চরিত্র। তাই সেগুলো দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ একের পর এক হরণ করেছে মাত্র আর সংসদ তাতে রাবার স্ট্যাম্প মেরে বৈধতা দিয়েছে মাত্র।

গণতন্ত্রের সংগ্রাম তাই থাকল অব্যাহত- দেশের রাজপথগুলোতে। বিজয় ঘটল স্বৈরাচারী সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে। পতন ঘটল ১৯৯০-এর ডিসেম্বরের শুরুতেই। ব্যাপক আশাবাদের সৃষ্টি হলো গণতন্ত্র উদ্ধারের সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার।

১৯৯১-এ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। বলা চলে ওই নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ। ফলাফলে দেখা গেল কোনো দলই সরকার গঠনের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে কি আওয়ামী লীগ, কি বিএনপি উভয়কেই মন্ত্রিসভা গঠন করতে অন্য ছোট দলগুলোর সমর্থন পেতেই হবে। বামপন্থি কয়েকজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ওই নির্বাচনে। তারা সহযোগিতার হাত এগিয়ে দিলেও কোনো বড় দলই তাতে সাড়া দিল না। বিএনপি জামায়াতের সমর্থন নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করল। মানুষ আশাহত হলো। সংসদ গণতন্ত্রের চরিত্র পেল না। শুরু হলো পরস্পর দোষারোপের (ব্লেম-গেইম) রাজনীতি। অতি কাছে এলেও গণতন্ত্রের সম্ভাবনা ও কার্যকর সংসদ গড়ার সুযোগ আবারো হাতছাড়া হলো। মানুষের বিজয় ছিনতাই হয়ে গেল আবারো।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলন শুরু হলো ওই সময় থেকে। মাগুরা উপনির্বাচন যেন আগুনে ঘৃতাহুতি ছিল। সংসদ বর্জন, হরতাল-অবরোধ মানুষের জীবন যন্ত্রণা উভয় তরফের ক্রিয়াকলাপই বৃদ্ধি পেতে থাকল। বিএনপি সরকারবিরোধী দলের যৌক্তিক দাবিগুলোও মানতে অস্বীকৃতি জানালে আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী রূপ পায়।

এসে যায় ১৯৯৬-এর নির্বাচন। খুবই সুষ্ঠু হয় সে নির্বাচনও। এ উভয় নির্বাচনই তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে ঘটে। কিন্তু যে পক্ষ হারে সেই পক্ষই কারচুপির নির্বাচন বলে তাকে অভিহিত করে ওই নির্বাচনের রায় প্রত্যাখ্যান করায় রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ- যা বঙ্গবন্ধুর আমল পর্যন্ত (পাকিস্তান আমলেও যার অস্তিত্ব ছিল) বাঙালির অন্যতম অহঙ্কার- তা তিরোহিত হলো। ফলে সংসদও ব্যবহৃত থাকল পরস্পরের নিন্দাবাদের আসর হিসেবে। জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা সংসদে ধ্বনিত হয় না। বিত্তবানের দখলে কোটিপতিদের দখলে চলে যায় সংসদ। ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে আলোচনা স্থান পাওয়া তিরোহিত হয়। সংসদ পরিচালিত হতে থাকে ধনিকদের স্বার্থে।

লক্ষ্য করে দেখলে সহজেই ধরা পড়বে আমাদের কষ্টার্জিত জাতীয় সংসদের নিরাপদ সড়ক নিয়ে, ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি নিয়ে, সাংবাদিক নির্যাতন নিয়ে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে, নারী নির্যাতন নিয়ে, গ্রামের মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে কদাপি কোনো আলোচনা নেই- প্রকৃত অর্থে নিপীড়িত জনগণের স্বার্থে নিবেদিত কোনো বিরোধী দল সংসদে আসতে না পারায় সংসদটি কার্যকর সংসদে পরিণত হতে পারছে না। আর ২০১৪-তে সর্বশেষ যে নির্বাচন হলো তা নিয়ে আলোচনা এতই হয়েছে যে নতুন করে আর বলারও কিছু নেই। বিরোধী দলহীন অবস্থায় ২০১৪ থেকে চলছে সংসদ। সংসদে এমপিদের ৭০ ভাগই ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আইনজীবী, নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা ভয়ানকভাবে কমে গিয়েছে। তাই প্রতিনিধি নির্বাচনে টাকার খেলা বাড়ছে।

আবারো নির্বাচন এল। এবারেও কি অতীতের পুনরাবৃত্তি হবে? টাকার খেলা, সাম্প্রদায়িক প্রচারণা, প্রকৃত রাজনীতিকদের মনোনয়ন, প্রার্থীর জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা, দুর্নীতিবাজদের সংসদে আসতে না দেয়া- প্রভৃতির সাক্ষাৎ কি পাওয়া যাবে?

গণআকাক্সক্ষার সংসদ যদি পেতে চাই এ নির্বাচনে তবে টাকার খেলা বন্ধ, সাম্প্রদায়িক-দুর্নীতিবাজদের মনোনয়ন বন্ধ করতে হবে।

রণেশ মৈত্র : রাজনীতিক ও কলাম লেখক।
raneshmaitra@gmail.com