রাউজানে গণপিটুনিতে ২ চোরের মৃত্যু

আগের সংবাদ

ভোটযুদ্ধের আগে জোটযুদ্ধ

পরের সংবাদ

সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে খালেদাকে হত্যার চেষ্টা চলছে : ফখরুল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ , ১২:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে হত্যার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ৫ সেপ্টেেম্বরে যখন জোর করে দেশনেত্রীকে আদালতে আনা হয়েছিল তখন তিনি নিজেও বলেছিলেন, তিনি খুব অসুস্থ, আর আদালতে আসতে পারবেন না।

আইন অনুযায়ী দেশের কোনো অসুস্থ নাগরিক সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিচারকার্য চালানো যায় না উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া এখন যে অবস্থায় আছেন, তাতে তার জীবন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য পরিত্যক্ত নির্জন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্বাস্থ্যকর একটি কক্ষে আবদ্ধ করে রেখেছে। একজন সাধারণ বন্দির সঙ্গেও এ ধরনের আচরণ করা হয় না। সরকার তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে এক তরফা নির্বাচনে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করার নীল নকশা নিয়েই এ অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা বার বার তার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা সরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা দিতে চাই না, তিনিও যেতে চান না। কারণ সরকারের উপর আস্থা রাখা যায় না। বিশ্বাস করা যায় না। আমরা একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের কথা বলেছি। কিন্তু আরো তো বিশেষায়িত হাসপাতাল আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাগারে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। তাকে হত্যা করার হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।

ক্ষমতসীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মুক্ত হলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। আগামী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হতে বাধ্য।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীকে রাজনীতি এবং নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে একতরফাভাবে নিজেদেরকে নির্বাচিত করার নীল নকসার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার।

বিএনপি এ নেতা বলেন, আজ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেবে বিএনপি। একইসঙ্গে তার সুচিকিৎসার দাবি জানানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আদালত কোথায় বসবে সেটা প্রধানমন্ত্রী বললেই তো হবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত জিঘাংসা চরিতার্থ করার জন্য করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত জিঘাংসার কোনো কারণ তো আমরা বুঝতে পারি না।

খালেদা জিয়াকে এতো ভয় কেন। সব কিছু ঠিক থাকলে নির্বাচনটা ঠিক মতো দেন।

দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সকল দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য মিথ্যা মামলায় বেআইনিভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন