আ.লীগে অর্ধডজন সম্ভাব্য প্রার্থী, সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি

আগের সংবাদ

পত্নীতলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে বেহাল রাস্তা

পরের সংবাদ

বব উডওয়ার্ডের বইয়ে ট্রাম্পের গোমর ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তোলপাড়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ , ২:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ২:২০ অপরাহ্ণ

কঠিন লড়াই শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ক্ষমতা বলয়ে। এর একদিকে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্ররা, অন্যদিকে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির তথ্য উদ্ঘাটনকারী বব উডওয়ার্ড নামে এক কালজয়ী সাংবাদিক, কয়েকশ ঘণ্টার রেকর্ডকৃত সাক্ষাৎকারের টেপ, কয়েক ডজন সূত্র আর ‘ফিয়ার : ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’ নামে একখানি প্রকাশিতব্য গ্রন্থ, এর লেখক বব, যাতে সবিস্তারে তুলে ধরেছেন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের ১৯ মাস। গত মঙ্গলবার পাল্টা আক্রমণে উডওয়ার্ডের বইটিকে ‘বিশুদ্ধ কল্পনা’ এবং ‘আজগুবি সূত্র থেকে পাওয়ার মিথ্যার সমাহার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। যদিও এসব ‘মিথ্যা’ অভিযোগ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলতে পারেননি তিনি। বইটিকে তিনি ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে তার চিফ অব স্টাফ জন কেলি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাতিসও দুনিয়ার বোদ্ধা পাঠকমহল তোলপাড় করে দেয়া বইটিকে ‘মর্মান্তিক’ এবং ‘কল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে তারা ‘বুদ্ধু’ এবং ‘মিথ্যুক’ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন হতে যাচ্ছে। এর রচয়িতা উডওয়ার্ড ১৯৭০ সালে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের জড়িত থাকার বিষয়টি উন্মোচিত করে দেন।
নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে কেলি ও মাতিসের বরাতে উডওয়ার্ডের বিরুদ্ধাচার করে ট্রাম্প তাকে ‘ডেমোক্র্যাটিক চর’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন। বইটি ইতোমধ্যেই ‘প্রত্যাখ্যাত’ হওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনকে তিনি কখনই ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ এবং ‘বোকা দক্ষিণে’ বলেননি। জেমস মাতিস তার প্রতিক্রিয়ায় বইটিকে কারো ‘উর্বর কল্পনা’ হিসেবে আখ্যা দেন। ওই বইয়ে আমার উপস্থিতির বরাতে যেসব উক্তির কথা উল্লেখ রয়েছে তার কোনোটাই ঘটেনি, নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন মাতিস। অনুরূপ কেলিও বলেন, আমি কখনই প্রেসিডেন্টকে ‘ইডিয়ট’ বলিনি, কিংবা তাকে সে রকম ভাবিনি।
এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসও গতকাল নাম প্রকাশ না করে মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার লেখা এক নিবন্ধ প্রকাশ করে তাদের উপসম্পাদকীয় পাতায়; যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একজন ‘অস্থিরমতি’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়; বলা হয়, তাকে হোয়াইট হাউস থেকে সরাতে কেবিনেট সদস্যদের মধ্যেই একটি ‘নীরব প্রতিরোধ’ চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পাশাপাশি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমেই ওই বেনামা লেখকের নিবন্ধ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ওই নিবন্ধে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘অনৈতিক’ ও ‘আবেগতাড়িত’ আচরণের কারণে অপরিণামদর্শী নানা সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে মার্কিন প্রশাসনকে।
এ বিষয়ে বিবিসি জানায়, ট্রাম্প নাম প্রকাশ না করা ওই কর্মকর্তাকে একজন ‘ভীরু’ লোক হিসেবে বর্ণনা করেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন ‘ভুয়া’। ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি বলেছেন, রহস্যময় ওই লেখক একজন কাপুরুষ, তার পদত্যাগ করা উচিত। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস এ বিষয়ে বলে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে কী ঘটনা ঘটছে তা বুঝতে সাধারণ পাঠকের জন্য এ লেখা সহায়ক হবে।
এই নিবন্ধ প্রকাশের ঠিক আগের দিন ওয়াশিংটন পোস্টের বিখ্যাত সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের প্রকাশিতব্য বইটির অংশবিশেষ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা একটি ‘প্রশাসনিক অভ্যুত্থানচেষ্টায়’ জড়িত, যারা প্রেসিডেন্টের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে চাইছেন। দেশের জন্য ক্ষতিকর দলিলে ট্রাম্প সই করার আগেই তারা টেবিল থেকে জরুরি নথিপত্র সরিয়ে ফেলছেন। বব উডওয়ার্ডের বইয়ের সে খবর যে সঠিক তার সমর্থন পাওয়া গেল নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমালোচনার তালিকায় রয়েছে হ-য-ব-র-ল সভা আয়োজন, অসহিষ্ণু ও নিচু প্রকৃতির আচরণ, সিদ্ধান্তে অটল থাকার অক্ষমতা, মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি বিদ্বেষ ও অগণতান্ত্রিক প্রবৃত্তি।
‘ফিয়ার : ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’ নামে উডওয়ার্ডের বইয়ে উল্লিখিত গোপন সূত্রগুলোর পরিচয় খুঁজে বের করতে ইতোপূর্বেই হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকে কড়া পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। টাইমসের নিবন্ধ যে ওই আগুনে আরো একটু ঘি ঢালবে তাতে সন্দেহ নেই কারো।