শ্রীলঙ্কা-মালদ্বীপ ম্যাচ ড্র, সেমিতে ভারত

আগের সংবাদ

ইতিহাস গড়লেন ২০ বছর বসয়ী নাওমি

পরের সংবাদ

বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ , ৯:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৪৭তম সীমান্ত সম্মেলন ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর আলোচনার মাধ্যমে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সীমান্তে নাগরিক হত্যা, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ, মানবপাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অনুসন্ধান, ভারতীয় জাল মুদ্রাপাচার রোধ, মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণ পাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

অপরদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মার নেতৃত্বে ২০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

শুক্রবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনা রোধে বিএসএফ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বিজিবি মহাপরিচালক ধন্যবাদ জানান। তবে হতাহতের ঘটনা এখনো শূন্যের কোঠায় নেমে না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে হতাহতের ঘটনা এড়াতে বিএসএফ নন-লিথেল অস্ত্র ব্যবহার করছে, এমনকি সশস্ত্র সীমান্ত অপরাধীদের বিপদজনক আক্রমণের শিকার হয়েও বিএসএফ সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা প্রদর্শন ও ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমান্ত অপরাধীদের দ্বারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করাসহ তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে হতাহতের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে উভয়পক্ষ প্রতিরোধমূলক যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

বিএসএফ মহাপরিচালক ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের অনুসন্ধানে বিজিবিসহ বাংলাদেশি অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতার প্রশংসা করে এ বিষয়ে আরও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

এছাড়া ইচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া এবং অসতর্কতাবশত সীমান্ত অতিক্রমকারী নাগরিকদের নিজ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও মানবপাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পাচারের শিকার হওয়া নাগরিকদের দ্রুত উদ্ধার করাসহ তাদের পুনর্বাসনে নিজ নিজ দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়াও সম্মত হয়েছেন উভয়পক্ষ।

বিএসএফ মহাপরিচালক ভারতীয় জাল মুদ্রা পাচার রোধে সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিজিবিসহ বাংলাদেশের অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন।

উভয়পক্ষ মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণ পাচারসহ সবধরনের চোরাচালান বন্ধে একে অপরের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং চোরাচালান রোধের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

সীমান্তে উন্নয়নমূলক অধিকাংশ কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আলোচনার মাধ্যমে উভয়পক্ষ পরস্পরের সম্মতি লাভ করায় নিজেদের সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেছেন।

উভয় বাহিনীর মহাপরিচালক যশোর সীমান্তে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ এর কার্যকারিতার প্রশংসা করেন এবং অন্যান্য সীমান্তে পর্যায়ক্রমে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ ঘোষণা করতে নীতিগতভাবে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।

উভয়পক্ষ পারস্পরিক সুসম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় উভয়পক্ষের সুচিন্তিত মতামতের ফলে সম্মেলন অত্যন্ত অর্থবহ হওয়ায় উভয়পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।

মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন ২০১৯ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে ঢাকায় করার ব্যাপারে উভয়পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।