মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে আমন রোপণে ব্যস্ত কৃষক

আগের সংবাদ

নীলফামারী শিশু একাডেমি অনিয়মের আখড়া

পরের সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জিআর প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ , ৪:৫৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়াজ মাহফিল ও নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে আসা লোকজন এবং এতিম শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া জেনারেল রিলিফ (জিআর) প্রকল্পের চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও তাদের সহযোগীরা ভুয়া প্রকল্প জমা দিয়ে বেশির ভাগ চালই ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরকারি বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার ঢোলরহাট এলাকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। গত ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরেজমিনে সদর উপজেলার আখানগর, রুহিয়া পশ্চিম, ঢোলরহাট, রাজাগাঁও ইউনিয়নের ৫২টি প্রকল্প যাচাই করে এমন সত্যতা মিলেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাকসুদা আক্তার জানান, জিআরের চাল বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানায়, জিআর প্রকল্পের মাধ্যমে গত ১২, ২১ ও ২৬ জুন জেলার মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, মন্দিরে নামযজ্ঞ ও মাদ্রাসা এতিমখানায় খাবারের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২১৭ টন খাদ্যশস্য (চাল) বরাদ্দ দেয়া হয়। সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহবুদ্দিন আহমদ বলেন, বরাদ্দের সবটুকু চালই গত ৩০ জুনের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উত্তোলন করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েকজন জনপ্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে ইউএনও কার্যালয়ে খাদ্যশস্য সহায়তা পেতে আবেদনপত্র করেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন।
ব্যবসায়ীরা ওই চাহিদাপত্র খাদ্যগুদামে জমা দিয়ে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এসব কাজে ইউএনও ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের সহায়তা করেছেন।
প্রকল্পের তালিকায় দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলরহাট ইউনিয়নের ৩৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১৯টি প্রকল্প দেখানো হয়েছে ওয়াজ মাহফিল বা ইসলামি জলসা। নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান আটটি, মসজিদে উন্নয়ন চারটি ও বিদ্যালয়, মন্দির, ঈদগাঁ ময়দানের নামে একটি করে প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৪ টন চাল। ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সরকারপাড়া জামে মসজিদের জন্য এক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
প্রকল্প সভাপতি হলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজি মো. সামসুল আলম। তাকে আরেকটি প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে একই মসজিদ মাঠে ইসলামি জলসার নামে এক টন চাল বরাদ্দ নেয়া হয়। কিন্তু গত শুক্রবার ওই মসজিদে গিয়ে জানা গেছে, নিজে প্রকল্প সভাপতি হলেও হাজি সামসুল মাধবপুরের বাসিন্দা।
জামায়াতের সদর উপজেলার সাবেক আমির মো. শামসুজ্জামান ওরফে দুলাল তাকে মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু ইসলামি জলসার প্রকল্পে সভাপতি হলেও তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। এ বিষয়ে তিনি জানান, ইসলামি জলসার প্রকল্পে তার যে সই দেয়া আছে তা জাল। তিনি শুধু একটি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে কাগজপত্রে সই করেছেন। তা ছাড়া মসজিদের আয়োজনে কোনো ইসলামি জলসাই করা হয়নি।
তালিকায় মাধবপুর ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় ইসলামি জলসার জন্য এক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ওই গ্রামের বাসিন্দা ও শামসুজ্জামানের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, সারা বছর না চললেও রমজান মাসে মাধবপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদে মাদ্রাসার কার্যক্রম চলে। আর ইসলামি জলসা সম্পর্কে তিনি বলেন, একবার জলসা আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জায়গা সংকটের কারণে আয়োজন করা হয়নি। মাধবপুর গ্রামের একই চত্বরের ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার উচ্চবিদ্যালয়, মাহালিয়াহাট শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠান, মাহালিয়াহাট জামে মসজিদ মাঠে ইসলামি জলসার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, আমি প্রকল্প সভাপতি এটা সত্যি। তবে বরাদ্দের চাল আমি তুলতে যাইনি। বরাদ্দ নেয়ার সব প্রক্রিয়া দুলালই (শামসুজ্জামান) করেছেন। আমি শুধু সই করেছি। গত কয়েকদিন আগে তিনি আমার হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দেন। আর এ মাঠে তো কোনো ইসলামি জলসা হয়নি। জলসার নামে কে চাল তুলেছে, তা বলতেও পারব না।
রুহিয়া ক্যাথেলিক মিশন শিশু সদনের নামে দুই টন চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কিছুই জানে না। মিশন শিশু সদনের সম্পাদক পীযূষ দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকল্প সভাপতি হিসেবে রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গ্যাবরিয়াল দাসের নাম থাকলেও তিনি জানান, তার সই জাল করে বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছে।
আখানগর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পুলেন্দ্র রায় জানান, দুর্গা মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের প্রথা নেই। তবুও বিভিন্ন দুর্গা মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে আসা ভক্তদের জন্য খাবারের বিপরীতে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের সেনিহারি তালতলী দুর্গা মন্দির, ঢোলরহাট ইউনিয়নের মাধবপুর জোতপাড়া দুর্গা মন্দির, গোল্লাল বাবু দুর্গা মন্দির, মাহালিয়াহাট শ্রী শ্রী কালী মন্দির, বড়বাড়ি ধর্মপুর দুর্গা মন্দিরসহ আরো কয়েকটি মন্দিরে নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের নামে এক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব স্থানে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।
এ ছাড়াও ঢোলরহাট ইউনিয়নের মাধবপুর জগন্নাথ মন্দির, রুহিয়া ইউনিয়নের সেনিহারি তালতলি হরিমন্দিরের নামে চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও কমিটির লোকজন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। মাহালিয়াহাট শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেয়া প্রকল্পের সভাপতি শ্রী সাগর রায় নামের এক যুবক। মন্দিরের সভাপতি রাজেন্দ্র নাথ রায় বলেন, সাগর ওরফে কুড়ানু মন্দিরের কেউ না। আমাদের মন্দিরের নামে যে চাল তুলেছেন, তিনি দুলালের বাড়িতে কাজ করেন। আমাদের ধারণা সাগরকে দিয়ে মন্দিরের বরাদ্দের চাল দুলাল তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
একই ইউনিয়নের ঝলঝলিপুকুর জামে মসজিদ, হঠাৎপাড়া জামে মসজিদ, মাধবপুর পশরতেলী জামে মসজিদ, পশরতেলী ঈদগাহ মাঠ, মাহালিয়াহাট জামে মসজিদ, উত্তর বোয়ালিয়া (রাস্তার পশ্চিম) জামে মসজিদ, সন্ন্যাসীপাড়া জামে মসজিদ, হারাগাছপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, কলাবাগান জামে মসজিদ ও রুহিয়া ইউনিয়নের মÐলাদাম সরকারপাড়া জামে মসজিদে ওয়াজ মাহফিলের নামে বরাদ্দ দেয়া চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। \
উত্তর বোয়ালিয়া (রাস্তার পশ্চিম) জামে মসজিদের সভাপতি হাসান মিয়া বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ও সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প তৈরি করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ নেন দুলাল। পরে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। আত্মসাতের খবর ফাঁস হওয়ায় তারা দুজনই এখন কিছু টাকা দিয়ে মসজিদ-মন্দির কমিটির লোকজনকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।
ঢোলরহাট ইউনিয়নে রুহিয়া সড়কের পাশে ঢোলরহাট হাইস্কুল জামে মসজিদ ও ঢোলরহাট জামে মসজিদে মাহফিলের জন্য বরাদ্দ নেয়া হয়েছে দুই টন চাল। কিন্তু ওয়াজ মাহফিল দেখানো হলেও মসজিদ দুটি একই।
\হোসেন আলী নামে এক এলাকাবাসী বলেন, ঢোলরহাট এলাকায় ঢোলরহাট জামে মসজিদ নামে কোনো মসজিদই নেই। আখানগর ইউনিয়নের ঝাড়গাঁও গ্রামের ঝাড়গাঁও রাহমানিয়া মাদ্রাসা, ঝাড়গাঁও রাহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা এতিমখানা বরাদ্দ পেয়েছে দুই টন চাল। মাদ্রাসার সভাপতি মো. এরশাদুল হক জানান, ঝাড়গাঁও রাহমানিয়া নামে ঝাড়গাঁও গ্রামে একটিই মাদ্রাসা রয়েছে। বরাদ্দের চাল আত্মসাতের জন্য একই মাদ্রাসাকে দুটি নামে দেখানো হয়েছে বলে তার ধারণা। এ ছাড়া ওই মাদ্রাসায় জলসার নামেও এক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
পুরাতন ঠাকুরগাঁও ছালেহিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও পুরাতন ঠাকুরগাঁও ছালেহিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা একই প্রতিষ্ঠান হলেও সেখানে আলাদা আলাদা দুটি দেয়া হয়েছে। প্রকল্প সভাপতি পরিচয়ে মাহাবুব আলম নামের এক ব্যক্তি ওই চাল উত্তোলন করেন।
ঢোলরহাট ইউনিয়নে মাধবপুর উন্নয়ন যুব সংঘ নামে মাহালিয়াহাট এলাকায় কোনো ক্লাবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবুও ক্লাবটির মাঠে ইসলামি জলসার আয়োজনের নামে এক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।
বরাদ্দ উত্তোলন করেছেন আইনুল হক নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে আখানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বলেন, আসলে আমাদের ক্লাবের নাম উদয়ন যুব সংঘ। ১৯৯০ সালের দিকে এলাকায় ক্লাবটি ছিল। ইসলামি জলসার বরাদ্দ সদস্যরা মিলে খেয়েছি।
ওয়াজ মাহফিলে আসা লোকজনের খাবারের জন্য এক টন চাল বরাদ্দ পায় বালিয়া ইউনিয়নের ছোট বালিয়া জামে মসজিদ। প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দেখানো হয় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনসারুল হক চৌধুরীর নাম। গত ২৮ আগস্ট দুপুরে ওই মসজিদে গিয়ে জানা যায়, সেখানে কখনই কোনো ওয়াজ মাহফিল হয়নি। বরাদ্দের বিষয়টিও কেউ জানেন না। বিষয়টি জানার পর আনসারুল হক চৌধুরীর ছেলে ফরহাদ আহাম্মেদ চৌধুরীর দাবি, তার বাবা বছর দুয়েক ধরে অসুস্থ। বাড়ি থেকে বের হন না। চাল বরাদ্দের সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।
এরপর তিনি কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে ছুটে যান পিআইও কার্যালয়ে। সেখানে তিনি গিয়ে বরাদ্দের নথিপত্র দেখাতে অনুরোধ করেন। সে সময় পিআইও গোলাম কিবরিয়া বলেন, ছোট বালিয়া মসজিদের নামের প্রকল্পটির সভাপতির নাম ছাড়া আর কোনো কাগজপত্র আমাদের কাছে নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরে জমা দেয়ার কথা বলে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এই নামটা দিয়েছেন।
ওয়াজ মাহফিলের জন্য এক টন চাল বরাদ্দ পায় ঢোলরহাট হাই স্কুল জামে মসজিদ। এই প্রকল্প সভাপতি হলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে কাগজপত্রে সই করতে বলেছেন আমি দিয়ে দিয়েছি।
ঝলঝলিপুকুর জামে মসজিদের সভাপতি ও ওয়াজ মাহফিলের প্রকল্প সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, আমি মসজিদ কমিটির সভাপতি। মসজিদের আয়োজনে কখনো ওয়াজ মাহফিল করিনি। কিন্তু আমাকে প্রকল্পের সভাপতি করে আমার সই জাল করে সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়।
মো. শামসুজ্জামান ওরফে দুলাল বলেন, আমি এলাকায় সামাজিক কাজ করি। সরকারি বরাদ্দ কীভাবে পেতে হয় অনেক প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেটা জানে না। আমি তাদের সেসব বরাদ্দ পাইয়ে দিতে সহায়তা করি। সেটা করতে গিয়ে অনেক সময় ভুলও হয়।
ঢোলরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্মল কুমার বর্মন বলেন, এলাকার কিছু মসজিদ-মন্দিরের সরকারি বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে এটা সত্যি। তবে চাল আত্মসাতের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) গোলাম কিবরিয়া বলেন, বরাদ্দের চাল গত জুন মাসের একেবারে শেষদিকে এসেছে। এ কারণে বরাদ্দের প্রক্রিয়া খুব দ্রæত শেষ করতে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমি সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, বরাদ্দ পেতে আগ্রহীদের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করতে পিআইওকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি ঠিকমতো কাজটি করলে, এমনটি হতো না। আর তার সুপারিশ পেয়েই আমি তালিকা ঊর্ধ্বগামী করেছিলাম।