ছয় উপজেলায় ১০ বছরে গ্রাহক বেড়ে দ্বিগুণ

আগের সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তোলপাড়

পরের সংবাদ

আ.লীগে অর্ধডজন সম্ভাব্য প্রার্থী, সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮ , ২:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ২:০৬ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে নেতাকর্মীদের কোন্দলে অনেকটাই এলোমেলো আওয়ামী লীগ। এখানে বহু ভাগে বিভক্ত আওয়ামী রাজনীতি। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমানে জেলা সভাপতি আলহাজ সদর উদ্দিন খানকে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে এই সাংসদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন অর্ধডজন নেতা। এরা দিন-রাত নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন। ভোটারের কাছে তুলে ধরছেন নিজের যোগ্যতা। আগামী নির্বাচনে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। বিশেষ করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ দুই সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খানের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে বর্তমান এমপি রউফ কিছুটা চাপে রয়েছেন বলে তার বিরোধী পক্ষের দাবি।
এদিকে সরকারি দলের কোন্দলের সুযোগ নিতে চায় বিএনপি। হারানো আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া দলের নেতাকর্মীরা। এ আসনে বিএনপির শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে তৎপর রয়েছেন এ নেতা। এখানে মেহেদী রুমীর পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম প্রামাণিক
আনসারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান তার ঘনিষ্ঠজনরা।
খোকসা ও কুমারখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় আসন। এখানে মোট ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭৮ জন। এর মধ্যে কুমারখালী উপজেলায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ২৩১ এবং খোকসা উপজেলায় ৭৮ হাজার ৬৪৭ জন।
আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি আবদুর রউফ। এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে যুক্ত থাকার পাশাপাশি আগাম নির্বাচনী প্রচারেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। সাংসদ রউফ বলেন, যারা এলাকায় ভালো কাজ করেছেন তারা কেউ-ই আগামী নির্বাচনে মনোননয়ন বঞ্চিত হবেন না। যারা লুটপাট করেছেন তাদের ভাগ্যে সেটাই ঘটবে। আমার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অপবাদ দিতে পারবে না। খোকসা-কুমারখালীর সাধারণ মানুষ জানে গত তিন বছরে আমি কি উন্নয়ন করেছি। আমি প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছি। যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করি। তাতে আমাকে মনোনয়ন পেতেই হবে এমনটা আমি মনে করি না। নেত্রী যাকে নৌকা দেবেন আমি তার পক্ষেই কাজ করব। সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় নেতা কোন্দলে জড়িত। তাদের পাশে কেউ নেই। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সবাই তার পাশেই রয়েছেন বলে দাবি বর্তমান এমপির।
এ আসনের সাবেক সাংসদ সুলতানা তরুণ দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন তিনি।
এই দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান। মনোনয়ন পেতে বেশ আগে থেকেই তৎপর রয়েছেন তিনি। খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক নেতাকর্মীই সদর খানের পক্ষে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের আশীর্বাদও রয়েছে এ নেতার মাথায়। সদর উদ্দিন খান বলেন, যারা দলের সঙ্গে আছেন, দলের জন্য কাজ করেন তারাই মনোনয়ন পাবেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে জেলার সভাপতি হিসেবে সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তার জন্য কাজ করবেন।
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান। কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আব্দুল মান্নান খানের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচনে তারও মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
এর বাইরেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান নেতা জাহিদ হোসেন জাফর। তিনি যুদ্ধকালীন জেলা মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে নৌকার পক্ষে ও সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে গণসংযোগ করছেন।
প্রভাবশালী নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন দলের দুই তরুণ প্রার্থী খোকসা শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বিটু ও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুফী ফারুক ইবনে আবু বকর। মিজানুর রহমান বিটু বলেন, মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া কিছু না। আমি নৌকার পক্ষের মানুষ। নৌকার পক্ষে প্রচারণা করছি। নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাব। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মিছিলে নিজেকে নিয়োজিত করব। এ ছাড়া প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুণ।
এ আসনে ২০ দলীয় জোট থেকে সাবেক এমপি ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী মাঠে রয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হিসেবে দলে তার বিকল্প নেই। নির্বাচনী এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিদিন গণসংযোগ করে যাচ্ছেন সাবেক এ এমপি। তিনি মুঠোফোনে ভোরের কাগজকে বলেন, আমার দল যদি নির্বাচনে আসে তা হলে আমরা শতভাগ প্রস্তুত। তবে নির্বাচনে একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দরকার, যার অস্তিত্ব নেই এলাকায়। আসলে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
মেহেদী রুমীর পাশাপাশি কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম প্রামাণিক আনসারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তিনি চারবারের নির্বাচিত সাবেক পৌর মেয়র।