রোহিঙ্গা সংকটে বেড়েছে মানবিক ব্যবস্থাপনা ব্যয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আগের সংবাদ

বিএনপির ‘ছয় দফা’ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

পরের সংবাদ

সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কি অসম্ভব?

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ , ৭:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

ডিএমপির উদ্যোগগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারবেন কিনা সেটা দেখার বিষয়। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্যক উপলব্ধি করে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর অনুমোদন দিয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরের কথা ন্যূনতম শৃঙ্খলা নেই কোথাও। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সমাধানের অযোগ্য কোনো বিষয় নয়। এ জন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

কোনোভাবেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের পর পর পুলিশের ট্রাফিক সপ্তাহ পালিত হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম। এর মধ্যেও যানবাহন চলছে বেপরোয়াভাবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ ডিএমপি কমিশনারের দফায় দফায় নির্দেশ জারি ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ সত্ত্বেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সাধারণ মানুষই নয় এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বাদ যাচ্ছে না দুর্ঘটনার ছোবল থেকে। দুর্ঘটনার পর জব্দকৃত বাস থানায় নিতে গিয়ে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে রবিবার নিহত হন পুলিশের এক এসআই। জননিরাপত্তার স্বার্থে এই নৈরাজ্য চলতে দেয়া যায় না।

জানা যায়, পুলিশের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার থেকে পুরো সেপ্টেম্বর মাস গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত ট্রাফিক সিগন্যাল বাতির ভিত্তিতে মডেল ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু থাকবে। শুরুর দিন দেখা গেছে ওই সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সিগন্যাল বাতির কারণে কোথাও পুরো সড়ক ফাঁকা। আবার কোথাও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এতে জিরো পয়েন্ট থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত সড়ক ও আশপাশ এলাকায় দিনভর ছিল তীব্র যানজট। মডেল ব্যবস্থার মধ্যেও রাজধানীতে অসহনীয় যানজটের ভোগান্তির সেই পুরনো বৃত্তে বন্দি ছিলেন নগরবাসী। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা হাতের ইশারাতেও সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে মাসব্যাপী ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হলেও গাড়ির বেশিরভাগ চালকই এখনো নতুন অনেক নির্দেশনার বিষয়ে জানেন না। বাসে চালকদের ছবি ও মোবাইল নম্বর ঝোলাতে পুলিশের নির্দেশনা থাকলেও তা কোনো বাসে দেখা যায়নি। নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামাতে কড়াকড়ি থাকলেও সে খবরও পৌঁছেনি চালকদের কাছে। এতে ট্রাফিক সচেতনতা কর্মসূচির প্রথম দিন সড়কে যান চলাচলে বিশৃঙ্খলার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এক মাসের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, রাজধানীতে বাস থামানোর জন্য ১২১টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থানের বাইরে কেউ বাস থামাতে পারবে না। যাত্রীরাও নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে ওঠা-নামা করতে পারবে না। ৪০টি চেকপোস্টে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি চেক করবে। মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রিকশার শৃঙ্খলা আনতে ঢাকায় নিবন্ধন নেই এমন রিকশা চলতে দেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে, মহানগরীর প্রধান সড়কগুলোতে লেগুনা চলবে না। ডিএমপির উদ্যোগগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারবেন কিনা সেটা দেখার বিষয়। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্যক উপলব্ধি করে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর অনুমোদন দিয়েছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরের কথা ন্যূনতম শৃঙ্খলা নেই কোথাও। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সমাধানের অযোগ্য কোনো বিষয় নয়। এ জন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ। এ জন্য পরিবহন মালিক, শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতন হতে হবে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।