জানা গেলো অভিষেক-কারিশমার বিচ্ছেদের কারণ

আগের সংবাদ

অর্থমন্ত্রী ভুল করেছেন: সিইসি

পরের সংবাদ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে নেপাল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ , ৬:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

পাকিস্তানের বিপক্ষে নেপাল খারাপ খেলেনি। গোলও পেয়েছিল একটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হার মানে ২-১ ব্যবধানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে নেপালের কাছে বলের দখল ছিল ৯১ শতাংশেরও বেশি। পুরো ম্যাচে আক্রমণও তারা করেছে বেশি। কিন্তু দিনশেষে বিজিত দলের নাম ছিল নেপাল।

ভুটানের বিপক্ষে অবশ্য ছন্দে ফিরেছে দলটি। দশজনের ভুটানের বিপক্ষে করেছে গোল উৎসব। তুলে নিয়েছে ৪-০ ব্যবধানের জয়। আর এই জয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল হিমালয়ের দেশটি। শেষ ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেলে শেষ চারে খেলার সম্ভাবনা থাকবে তাদের।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেলের এই ম্যাচ দেখতে অনেক নেপালি সমর্থক মাঠে হাজির হন। তাদের হর্ষধ্বনি, ভুভুজেলার শব্দ আর পতাকা হাতে উল্লাস এক টুকরো নেপালে পরিণত করে বিবর্ণ গ্যালারিকে। তাদের সঙ্গে কিছু কিছু বাংলাদেশি সমর্থকও নেপালের পক্ষে গলা ফাটান। সেটা অবশ্য মাঠে নেপালের ফুটবল শৈলী দেখেই। দর্শকদের উল্লাসে ভাসাতে বেশি সময় নেয়নি নেপাল। ম্যাচের ২১ মিনিটেই লিড নেয় তারা। এ সময় কর্নায় পায় নেপাল। কর্নার কিক নেন সুনীল বাল। তার ক্রসে হেড দিয়ে বল জালে পাঠান অনন্ত তামাং। তার গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাল গোপাল মহারাজনের শিষ্যরা।

বিরতির পর ভুটান রক্ষণাত্মক পন্থা অবলম্বন করে খেলতে থাকে। তাতে কিছুটা সফলও হয় তারা। ম্যাচের ৭১ মিনিট পর্যন্ত আর কোনো গোল হজম করেনি তারা। ৬৫ মিনিটে তো ভুটানের সেন্দা দর্জি একটি গোলও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু সেটি অফসাইটের দোষে দুষ্ট হওয়ায় বাতিল হয়। তবে ৬৯ মিনিটের পর থেকে ভুটানকে চেপে ধরে নেপাল। এ সময় দশজনের দলে পরিণত হয় ভুটান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরো তিন-তিনটি গোল করে বাল গোপাল মহারাজনের শিষ্যরা।

৬৫ মিনিটের সময় ডি বক্সের মধ্যে ভুটানের নীমা ওয়াংদি নেপালের মিডফিল্ডার নিরঞ্জন খাদকাকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। নেপাল পায় পেনাল্টি। পেনাল্টি নেন নেপালের বিমল ঘারতি মাগার। তার নেওয়া শট ডানদিকে ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন ভুটানের গোলরক্ষক শেরিং দেনদুপ। কিন্তু বল তালুবন্দি করতে পারেননি। তার গ্লাভস ছুয়ে বেরিয়ে আসা বলে ডান পায়ে শটে জালে পাঠান সুনীল বাল।

৭৯ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করে নেপাল। এ সময় মাঝমাঠ থেকে বল দখলের লড়াইয়ে বল পেয়ে যান নেপালের বদলি ফরোয়ার্ড ভারত খাওয়াজ। সেখান থেকে বল টেনে নিয়ে চলে যান ডি বক্সের মধ্যে। ভুটানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের কাটিয়ে বামপ্রান্ত থেকে আড়াআড়ি শট নেন। বল ভুটানের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে আশ্রয় নেয়। ৮৮ মিনিটে ভুটানের পরাজয়ের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন নিরঞ্জন খাদকা। এ সময় কর্নার পায় নেপাল। কর্নার কিক নেন সুনীল বাল। তার নেওয়া কিক থেকে উড়ে আসা বলে হেড দিয়ে জালে পাঠান নিরঞ্জন খাদকা। এরপর আরো কয়েক দুর্দান্ত গোলের সুযোগ তৈরি করেছে নেপাল। কিন্তু ভুটানের গোলরক্ষকদের দক্ষতায় সেগুলো জালে প্রবেশ করতে পারেনি।

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই ম্যাচে বড় জয় তাদের আত্মবিশ^াস বাড়িয়ে তুলবে কয়েকগুণ।