দেশে ৯০ শতাংশ নাগরিক বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন : প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

তার যত ছবি

পরের সংবাদ

রাজপুত্রহীন বাইশ বছর

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ , ১২:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮, ১২:২৮ অপরাহ্ণ

সালমান শাহকে বলা হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা নায়ক। নব্বই দশকে নায়ক হিসেবে এমনই ব্যতিক্রমভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন যে, সালমানকে নায়কদের আদর্শ মনে করা হয়। গত দুই যুগে যত নায়ক সিনেমায় এসেছেন, তাদের সবার মধ্যেই দর্শক থেকে নির্মাতা সবাই সালমানের ছায়া খুঁজেছেন। মৃত্যুর ২২ বছর পর সালমান রাজত্ব করছেন এ দেশের সিনেমায়। তার অভিনীত ছবিগুলোকে এখনো মনে করা তরুণ নায়ক-নায়িকাদের অবশ্য-দর্শনীয়। প্রজন্মের পরিবর্তন হলেও সালমান নতুন প্রজন্মের মধ্যেও বিপুল জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তাই তাকে বাকি নায়কদের চেয়ে আলাদা করেছে। সালমান শাহ কেন এত জনপ্রিয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নির্মাতারা বরাবরই উল্লেখ করেছেন, তার সহজাত সাবলীল অভিনয়ের কথা। পাশের বাড়ির ছেলেটি হয়েও সালমান ছিলেন অতুলনীয়। কারণ তার নায়কোচিত পর্দা উপস্থিতি। পর্দায় নিত্যনতুন রূপে উপস্থিত হয়েছেন সালমান। কখনোই তিনি একঘেয়ে হয়ে যাননি। প্রতিটি ছবিতে নতুন নতুন স্টাইলে উপস্থিত হতেন সালমান। যে কারণে দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন তার পরের ছবির জন্য। এ যাবৎকালের সমস্ত নায়কের চেয়ে সালমান আলাদা হয়েছেন তার অসাধারণ ফ্যাশন ভাবনার জন্য। এরপরই আসবে তার রোমান্টিক ইমেজের কথা। নিজেকে রোমান্টিক পুরুষরূপে দর্শকদের মনে গাঁথতে পেরেছিলেন সালমান। বিশেষত শাবনূরের সঙ্গে তার স্ক্রিন কেমেস্ট্রি রাজ্জাক-কবরীকে মনে করিয়ে দিয়েছে। পর্দায় ও পর্দার বাইরে সালমান-শাবনূর জুটির আবেদন অন্যরকম মাত্রা যোগ করেছিল সিনেমা জগতে। শুধু শাবনূর কেন, যখনই যে নায়িকার বিপরীতে এসেছেন, সালমান নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন প্রেমিক হিসেবে। এ জন্য তার সব ছবির মধ্যে রোমান্টিক ছবিগুলোর কদর কিছুটা হলেও বেশি। প্রতিটি ছবিতেই সালমান নিজেকে ভাঙার চেষ্টা করেছেন, চেষ্টা করেছেন দর্শককে নতুন কিছু উপহার দিতে। এই নিবেদিতপ্রাণ মানসিকতার জন্যই সালমানের বেশির ভাগ ছবিকে সুপারহিট তকমা দিয়েছেন দর্শকরা। জীবদ্দশায় রেকর্ড পরিমাণ পারিশ্রমিক নিয়েছেন সালমান। নিজের একটা আলাদা গন্ডিও তৈরি করে নিয়েছেন সিনেমা জগতে। নিজের চেনা আঙিনায় নিজের মতো করে ছবি করেছেন সালমান। অভিনয় ছাড়াও ছবির পোশাক, গল্প, গান নিয়ে ভাবতেন সালমান। যে জন্য তিনি সমসাময়িকদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সালমান নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার চেষ্টা করেছিলেন। যার ছাপ পড়েছিল তার কাজে। এই কাজ তাকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে পৌঁছে দিয়েছিলেন ঈর্ষণীয় দর্শকপ্রিয় অবস্থানে। যখন সালমান নিজেকেই ক্রমশ ছাড়িয়ে যাচ্ছিলেন তখনই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার অকাল মৃত্যু। এই মৃত্যুতে একজন সালমানেরই জীবননাশ হয়নি, ঢাকার চলচ্চিত্র শিল্প পিছিয়ে গেছে অনেকখানি। সালমানের মতো একটি খুঁটি হারিয়ে ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি হয়ে পড়েছিল নড়বড়ে। যিনি দেশের বাইরেও প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখতেন, তাকে ধরে রাখতে পারেনি দেশের মাটি। জন্মভ‚মি সিলেটের মাটিতে চিরশায়িত সালমান দেশের মানুষকে সব সময় মনে করিয়ে দেন, তার মতো অভিনেতাকে কতটা প্রয়োজন ছিল সিনেমার। এমন ক্ষণজন্মা বিস্ময় প্রতিভারা যুগে যুগে আসেন না। তারা আসেন শতাব্দীকাল অপেক্ষার পর। আরেকজন সালমানের জন্য ঢাকার সিনেমা জগত অপেক্ষা করছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে। সালমানের মৃত্যুবার্ষিকী তাই প্রতি বছর পরিণত হয় বিশাল শোক সম্মেলনে।