হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

আগের সংবাদ

আফগানিস্তানে স্পোর্টস ক্লাবে বোমা হামলায় দুই সাংবাদিকসহ নিহত ২০

পরের সংবাদ

বাউফলে জনতার আদালতে চীফ হুইপ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ , ১২:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮, ১২:০৩ অপরাহ্ণ

বিগত পাঁচ বছরে বাউফলে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের জন্য কী করেছেন আর কী করতে পারেননি তার জবাব দিতে জনতার আদালতে হাজির হয়েছেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজ এমপি। বাউফলের বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে মটর সাইকেল ড্রাইভার, অটো চালক, রিক্সা-ভ্যান চালক, ব্যাবসায়ি, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবি সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে মত বিনিময় করে সাধারন জনগণের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন চীফ হুইপ। ব্যাতিক্রমী এই মত বিনিময় সভায় শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে তাদের চাওয়া পাওয়ার কথা জানাচ্ছেন।
সরেজমিন বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত এরকম একটি ব্যাতিক্রমী মত বিনিময় সভায় গিয়ে দেখা গেছে, সাধারন মানুষ মাইক হাতে নিয়ে তাদের এলাকার কী উন্নয়ন হয়েছে আর কী হয়নি সেটা সরাসরি বলছেন। জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে বেশিরভাগই হাট বাজারে স্যানিটেশন ব্যাবস্থা, পানীয় জলের ব্যাবস্থা, ঘাটলা নির্মাণ এবং ছোট ছোট রাস্তাঘাট নির্মাণ সহ বড় সড়কের সংস্কারের কথা উঠে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগ আমলে সরকারের গৃহীত নানা কর্মসূচীর অর্ন্তভূক্ত হয়ে যে সুবিধাগুলো জনগণ ভোগ করছেন সেটাও তারা সরাসরি স্বীকার করে নিচ্ছেন।
জনগণের প্রাপ্তি এবং প্রত্যাশার কথাগুলো শুনে চীফ হুইপ বলেন, বাউফলে ৯০ ভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। সারে ৭ শত কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়েছে। কোথাও কোন সাঁকো নেই, ব্রিজ, কালভার্ট হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্বিতল, ত্রিতল ভবন হয়েছে। বিজ্ঞানাগার হয়েছে। কম্পিউটার ল্যাব হয়েছে। খেলার মাঠ হয়েছে। মসজিদ মন্দিরগুলো আধুনিকায়ন করা সহ কবরস্থান, শ^শ্নাণঘাট সংস্কার করা হয়েছে। বাউফলে ৪৭টি কমিউনিটি কিনিক চালু করা হয়েছে। ৩১ শয্যা থেকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাচ্ছে, রপ্তানী বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গড় আয়ুও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সবগুলোই একমাত্র শেখ হাসিনার কারণে সম্ভব হয়েছে। চীফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনা জঙ্গি দমন করেছেন, সন্ত্রাস বন্ধ করেছেন। যার কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৫ সালে জিয়ারউর রহমানের ঈশারায় বঙ্গবন্ধকে স-পরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। ২০০৪ সালে তারেক রহমান, বাবর, ছালাম এবং হারিচ চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মদদে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা করেছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা বেঁচে গেছেন। দেশী ও আর্ন্তজাতিক কারণে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্বত্তায়ন ঘটেছে এবং আওয়ামী লীগকে দুরে সরিয়ে স্বাধীনতা বিরোধিরা দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে কেবল লুট তরাজই করেছেন, উন্নয়ন আর করার সময় পায়নি।
শেখ হাসিনার আমলে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ^বাসির কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ^ নেতৃবৃন্দ হতবাক, কী করে শেখ হাসিনা স্বল্প সম্পদের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
চীফ হুইপ জানান, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হাট বাজারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাথে সাথে উন্নয়নেরও মাত্রা এবং চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের ভাষায় প্রত্যাশার সিংহভাগই পূরণ হয়েছে। এত কিছুর উন্নয়ন বাংলাদেশে অন্য কোন সরকারের আমলেই হয়নি। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়ে বিশ^ দরবারে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ এবং বাঙ্গলিকে উন্নত জাতি হিসেবে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়ার আহবান জানান। আবুল বশার খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মত বিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আ. মোতালেব হাওলাদার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল আলম মিয়া এবং সাংবাদিক নেতা অতুল চন্দ্র পাল।