বিএনপির ‘ছয় দফা’ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

আগের সংবাদ

শুক্রবার ঢাকায় আসছেন আইডিবির প্রেসিডেন্ট

পরের সংবাদ

বর্তমান আদর্শগত বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ , ৮:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮, ৮:০৯ অপরাহ্ণ

আবুল কাসেম ফজলুল হক

প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদীদের সশস্ত্র আগ্রাসী আক্রমণের বিরুদ্ধে কোনো কথাই উচ্চারিত হচ্ছে না। কোনো প্রচার মাধ্যমও আগ্রাসী সামরিক আক্রমণ ও গণহত্যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছে না, কেবল জঙ্গিবাদীদের নির্মূল করার জন্যই প্রচার চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সৈন্য ও আগ্রাসী যুদ্ধ অব্যাহত রেখে কি জঙ্গিবাদীদের নির্মূল করা যাবে?

এক.
মানুষ জন্মগতভাবে যে জীবন ও জীবন-পরিস্থিতি লাভ করে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে না। সে উন্নততর জীবন ও পরিবেশ আশা করে। অনেকে তাদের চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তি দিয়ে সম্ভবপর সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে সুন্দর ও সবচেয়ে উন্নত অবস্থার রূপ কল্পনা করে। কল্পিত এই উন্নত অবস্থায় মানুষের খাওয়া-পরার বিষয় যেমন থাকে, তেমনি থাকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আনন্দের বিষয়ও। প্রকৃত-বাস্তবে অবস্থান করে চিন্তাশীল কল্পনাপ্রবণ মনীষীরা মনে মনে সৃষ্টি করেন অভিপ্রেত উন্নত কল্পিত-বাস্তব। প্রকৃত-বাস্তবে অবস্থান করে মানুষ কল্পিত এই উন্নত বাস্তবে পৌঁছাতে চায়। কোনো কোনো ঐতিহাসিক পর্যায়ে বহুজনের অভিপ্রেত এই কল্পিত বাস্তব সর্বজনীন কল্যাণকামী উন্নত কোনো কোনো প্রতিভাবান ব্যক্তির প্রচেষ্টায় অধিকাংশ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও কাম্য রূপ লাভ করে। এভাবে মানুষের মনের জগতে যে বাস্তব রূপ নেয়, তাই আদর্শ। মানববাদ, উপযোগবাদ, দৃষ্টবাদ, বিবর্তনবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, উদারতাবাদ, মার্কসবাদ ইত্যাদি এভাবেই সৃষ্ট আদর্শ। বিবর্তনবাদীরা মনে করেন মানুষ তার অনন্য জৈবিক সামর্থ্যরে বলে প্রতিক‚লতা, বাধা-বিপত্তি, ভুলত্রুটি ও ক্ষয়ক্ষতি অতিক্রম করে পর্যায়ক্রমে উন্নতি থেকে উচ্চতর উন্নতির দিকে এগিয়ে চলছে। আদর্শ, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো আদর্শই বাস্তব নয়, সব আদর্শই কল্পিত আদর্শকে মানুষ বাস্তবায়িত করতে চায়। আদর্শ অবলম্বন করে মানুষ পৃথিবীকেই স্বর্গে উন্নীত করতে চায়। আদর্শের অবলম্বন ছাড়া মানুষ এমনটা ভাবতে পারে না। আদর্শ উন্নতির ও ন্যায়বিচারের সহায়ক।

যারা সর্বজনীন আদর্শকে কম গুরুত্ব দিয়ে কেবল নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখে, তারা সর্বজনীন আদর্শের বাস্তবায়নে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করে। তাতে সর্বজনীন আদর্শ ও কল্যাণের পথে অগ্রযাত্রা বিঘ্নসঙ্কুল ও সংঘাতময় হয়। হীন স্বার্থবাদীরা আদর্শকে বিকৃত করে। আর আদর্শের উপলব্ধিতে ভুল-ত্রুটি ও মতপার্থক্যও ঘটে। আদর্শের নামে ন্যায় স্বার্থের সঙ্গে হীনস্বার্থের বিরোধ চলে- তাতে জয়-পরাজয় ঘটে। আদর্শের নামে স্বার্থ নিয়ে যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটে।

আদর্শ প্রতিষ্ঠার সাধনা ও সংগ্রামে নানা জটিলতা আছে, ভুল-ত্রুটি আছে। আদর্শের ক্রমবিকাশ আছে, উত্থান-পতন আছে। আদর্শের অন্তর্গত নানা প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে নতুন ধারণা তার স্থলাভিষিক্ত হয়। আবিষ্কার বিষয়ে উদ্ভাবন আছে। সমাজ পরিবর্তনশীল, প্রকৃতিও পরিবর্তনশীল। এসবের দ্বারা আদর্শ প্রভাবিত হয়। পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। ফলে কোনো আদর্শই চিরন্তন বা শাশ্বত হয় না। তবে আদর্শ দীর্ঘস্থায়ী হয়। আদর্শের পরিবর্তন ঘন ঘন হয় না। শতাব্দীর পর শতাব্দী পার হয়ে যায়। যারা কোনো আদর্শ অবলম্বন করে কাজ করতে করতে অন্ধ বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তারা সাধারণত তাদের বিশ্বাস পরিবর্তন করতে পারেন না। জাতীয় জীবনে আদর্শকে সফল করার জন্য সব সময় দরকার হয় উন্নত চরিত্রের প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব ও জাগ্রত নৈতিক চেতনা আর বিজ্ঞানসম্মত নৈতিক বিবেচনা। নেতৃত্বের সঙ্গে জনগণের মধ্যেও আদর্শ অবলম্বন করে চলার মনোভাব দরকার হয়।

সর্বজনীন কল্যাণের উদ্দেশ্যে মানুষ আদর্শ অবলম্বন করে ঐক্যবদ্ধ হয়। এর বিপরীত দিকও আছে। সর্বজনীন কল্যাণের বিরুদ্ধে হীন স্বার্থবাদীরা কাজ করে। তারা আলাদাভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকে। তারা ভিন্ন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে সচেষ্ট থাকে। তারা সাধারণত আদর্শের কথা বলে প্রতারণা করে। গোটা ইতিহাস জুড়ে দেখা যায়, হীন স্বার্থবাদীরা সংখ্যায় অল্প হয়েও প্রবল আর জনসাধারণ সংখ্যায় অনেক বেশি হয়েও দুর্বল। জনসাধারণের অনৈক্যের কারণেই তারা সংঘবদ্ধ হীন স্বার্থবাদীদের সঙ্গে পারে না। জনসাধারণ প্রবল হয় ঐক্যবদ্ধ হয়ে। জনসাধারণের ঐক্যের জন্য দরকার হয় আদর্শ এবং আদর্শ-অভিমুখী পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও কর্মনীতি- সেইসঙ্গে দরকার হয় মহান নেতৃত্ব। জনসাধারণকে উদ্যোগী হয়ে মহান নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে হয়। দুর্বল হলে বঞ্চনা ভোগ করতে হয়। দুর্বল ও বঞ্চিত থাকা অন্যায়। জনসাধারণের জন্য মহান নেতৃত্ব আপনিতেই দেখা দেয় না। যে জনসাধারণ যখন যেমন নেতৃত্বের যোগ্য হয়, সেই জনসাধারণ তখন সেই রকম নেতৃত্বই তৈরি করে। জনচরিত্র উন্নত হলে নেতৃত্বের চরিত্রও উন্নত হয় আর নেতৃত্বের চরিত্র উন্নত হলে জনচরিত্রও উন্নত হয়।

সব সময় ইতিহাসের চর্চা দরকার হয় এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। ইতিহসের প্রতি হীন স্বার্থবাদীদের দৃষ্টি আর জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন হয়ে থাকে। মহান নতুন যুগ সৃষ্টির জন্য ভবিষ্যতের পরিকল্পনার সঙ্গে অতীত সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকেও পুনর্গঠিত করতে হয়। মনকে প্রচলিত ধারণায় আচ্ছন্ন রেখে নতুন ভবিষ্যৎ সৃষ্টির দিকে এগোনো যায় না। প্রত্যেক জেনারেশনকেই তার ইতিহাস নতুন করে জানতে হয় এবং রচনা করতে হয়। হীন স্বার্থবাদীদের পক্ষে রচিত ইতিহাস আর জনগণের পক্ষে রচিত ইতিহাস এক হয় না। হীন স্বার্থবাদীরা নানাভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করে। উন্নত জীবন ও উন্নত অবস্থার জন্য আদর্শ চর্চার সঙ্গে ইতিহাসের চর্চাও অপরিহার্য। অতীতের মহান দৃষ্টান্ত মানুষকে ভবিষ্যতের নতুন মহান সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করে।

জাতির ভেতরে প্রগতিশীল, রক্ষণশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি থাকে। প্রতিক্রিয়াশীলদের পরাজিত করার ও পরাজিত রাখার জন্য প্রগতিশীল ও রক্ষণশীলদের মধ্যে কর্মসূচিভিত্তিক ঐক্য দরকার হয়।

দুই.
গত চার দশক ধরে পৃথিবীতে বিরাজ করছে আদর্শগত শূন্যতা। সভ্যতা ও প্রগতির ধারণাও হারিয়ে গেছে। পরিবর্তিত বাস্তবতায় সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়েছে (১৯৯১), মার্কসবাদ ও সমাজতন্ত্র আবেদনহীন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গণতন্ত্রকে পরিণত করা হয়েছে নির্বাচনতন্ত্রে। কায়েমি স্বার্থবাদীরা কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনেই গণতন্ত্রের ধারণাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। নির্বাচনের গণ্ডি অতিক্রম করে গণতন্ত্র যাতে বিকশিত হতে না পারে তার জন্য সুশীল সমাজ (civil society organigations) ও এনজিও (non government organizations) প্রবর্তন করা হয়েছে। বাংলাদেশে কথিত সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো ও এনজিওগুলো অত্যন্ত সক্রিয়। বিশ্বায়ন প্রকৃতপক্ষে সাম্রাজবাদেরই উচ্চতর স্তর। বিশ্বায়নের ভেতরে আছে নব্য উদারতাবাদ, অবাধ প্রতিযোগিতাবাদ, বহুত্ববাদ দুর্বল জাতিসমূহের জন্য নিঃরাষ্ট্রবাদ (anarchism) ইত্যাদি। এ সবই গণবিরোধী।

সর্বত্র প্রায় প্রত্যেক জাতির মধ্যে উচ্চ ও মধ্য শ্রেণির লোকদের কেন্দ্রীয় প্রবণতা (central motive) অধিক থেকে অধিকতর সম্পত্তির ও ক্ষমতার মালিক হওয়া এবং ভোগ বিলাসে মত্ত থাকা। এই প্রবণতা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। সংযমের প্রয়োজন নিয়ে কোথাও কোনো আলোচনা নেই। জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদকে বিশ্বায়নের কার্যক্রম দিয়ে নস্যাৎ করা হয়েছে। দুর্বল রাষ্ট্রগুলো তাদের রাষ্ট্রসত্তা হারিয়ে চলছে।

জাতিসংঘ পরিণত হয়ে আছে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলোই দুনিয়াব্যাপী কর্তৃত্ব করছে।

আজকের ভারতও আছে যুক্তরাষ্ট্রেরই বলয়ে। আজকের রাশিয়া, চীন স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আছে বটে, তবে তারা বৈশ্বিক কর্মকাণ্ডে প্রগতিশীল কোনো ভূমিকা পালন করছে না। চলমান ব্যবস্থাকে মেনে নিয়ে চলছে। ইরান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার রাষ্ট্রগুলো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্রগুলো কিছুটা স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আছে, তবে তারা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে ভাবছে না। দুনিয়ায় কর্তৃত্ব করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপান- এই সাত রাষ্ট্রের জোট। ন্যাটো জি-সেভেনের সহযোগী। দুনিয়াব্যাপী সাধারণ মানুষ মনোবলহারা, নির্জীব, নিষ্ক্রিয়, ঘুমন্ত। তারা পরিশ্রম করছে, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে তাদের শ্রমে উৎপাদন ও সম্পদ বাড়ছে। দুনিয়াব্যাপী সম্পদের প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যায়, অবিচার, জুলুম, জবরদস্তি ও অসাম্য বাড়ছে। যারা উৎপাদন করছে তারা বঞ্চিত হচ্ছে, তারাই দুর্বল।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে আগ্রাসী যুদ্ধ চালাচ্ছে। যুদ্ধে ন্যাটো বাহিনীকে এবং কথিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীকে নিয়োজিত করেছে। জনজীবনে দুর্দশার অন্ত নেই। আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, মিসর প্রভৃতি দেশের জনগণ বিদেশি সৈন্য ও বিদেশি আধিপত্য থেকে মুক্তি চায়। আরব জাতিগুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা ছিল, এখনো আছে। কোনো প্রচার মাধ্যমই মধ্যপ্রাচ্যের জনজীবনের অবস্থা তুলে ধরছে না। বিদেশি সৈন্যরা সশস্ত্র উপায়ে জনসাধারণকে দাবিয়ে রাখছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেছে তালেবান, হুজি, হিজবুত তাহরির, বুকোহারাম, আলকায়েদা, আইএস প্রভৃতি জঙ্গিবাদী সংগঠন। জঙ্গিবাদ দমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলো সেনাবাহিনী, পুলিশবাহিনী, আইন-আদালত ইত্যাদিকে ভীষণভাবে সক্রিয় রাখছে। জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা ও ইউরোপের পনেরো-ষোলোটা রাষ্ট্রে। এর মধ্যে কয়েকটি রাষ্ট্র অমুসলিম। তারা মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে সৈন্য পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের আগ্রাসী যুদ্ধে মদদ দিচ্ছে। সে জন্যই জঙ্গিবাদীরা ওইসব অমুসলিম রাষ্ট্রেও আক্রমণ চালাচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শরিক থাকবে বলে। ভারত ও বাংলাদেশেও জঙ্গিবাদ বিস্তৃত হয়েছে। এই অবস্থা বজায় রেখে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাবে?

গত চার দশকের মধ্যে নৈতিক দিক দিয়ে মানব জাতি এতটাই নিচে নেমে গেছে যে, তারা কেবল জঙ্গিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে এবং সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। জঙ্গিবাদের উত্থানের কারণকে আলোচনায় আনতে চাইছে না। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদীদের সশস্ত্র আগ্রাসী আক্রমণের বিরুদ্ধে কোনো কথাই উচ্চারিত হচ্ছে না। কোনো প্রচার মাধ্যমও আগ্রাসী সামরিক আক্রমণ ও গণহত্যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছে না, কেবল জঙ্গিবাদীদের নির্মূল করার জন্যই প্রচার চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সৈন্য ও আগ্রাসী যুদ্ধ অব্যাহত রেখে কি জঙ্গিবাদীদের নির্মূল করা যাবে? প্রায় সব দেশে মানুষ এখন যে আদর্শ নিয়ে চলছে তা হলো সুবিধাবাদ। সংযমের কোনো বিবেচনাই নেই। এই মনোবৃত্তির পরিবর্তন দরকার। গোটা মানবজাতির মধ্যে নৈতিক জাগরণ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার এবং প্রচলিত ব্যবস্থা পরিবর্তন করার চেতনা দরকার। তা যতদিন না হবে ততদিন দুনিয়া এভাবেই চলবে। দিন দিন অবস্থা খারাপ থেকে খারাপতর হবে। সত্যের পক্ষে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসের দারুণ অভাব দেখা যাচ্ছে গোটা পৃথিবীতে। মানুষ মানবিক গুণাবলি হারিয়ে চলছে। সাহস হচ্ছে সেই মানবিক গুণ যা অন্য সব মানবিক গুণকে রক্ষা করে। সাহসের অভাব দেখা দিলে সব মানবিক গুণ লুপ্ত হতে থাকে।

এই অবস্থার মধ্যে একদিকে বিশ্বশান্তির ও বিশ্বব্যবস্থার পুনর্গনের জন্য বৈশ্বিক আন্দোলন দরকার, অপরদিকে প্রতিটি জাতিরাষ্ট্রকে জনগণের গণতান্ত্রিক জাতিরাষ্ট্ররূপে গড়ে তোলার জন্য জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলন দরকার। দরকার জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদের কর্মনীতি।
[বাকি অংশ আগামীকাল পড়ুন]

আবুল কাসেম ফজলুল হক : প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।