দুজনের বোঝাপড়াটা ছিল চমৎকার : শাবনূর

আগের সংবাদ

ব্যাহত হচ্ছে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম

পরের সংবাদ

এসপি মীজানের অঢেল সম্পদ : দুদকের দুই মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ , ১:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮, ১:৫০ অপরাহ্ণ

পুলিশ সুপার (এসপি) মীজানুর রহমানের অঢেল সম্পদের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহিভর্‚ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজান ও তার স্ত্রী সালমা আক্তার ওরফে নীপা মীজানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দুটি মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মীজানুর রহমান ঢাকার রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কমান্ড্যান্ট (বদলির আদেশাধীন)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মীজানুর রহমান ১৯৮৯ সালে সার্জেন্ট (এসআই) হিসেবে তৃতীয় শ্রেণির পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। পরে ১৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে যোগ দিয়ে বর্তমানে পুলিশ সুপার পদমর্যাদায় কর্মরত আছেন। এই সময়ে তিনি নিজ নামে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৮ শতাংশ জমিতে ২ তলা বাড়ি ও ১ হাজার ২৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ কৃষিজমি, ঢাকার তেজকুনিপাড়ায় ১ হাজার ৭১৮ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের অর্ধেক অংশ, জুরাইনে একটি দোকান, ঢাকায় ১৫ শতাংশ জমি, রাজউকের উত্তরা তৃতীয় ফেজে ৩ কাঠা জমির মালিক হয়েছেন। এ ছাড়া দুইটি মাইক্রোবাস, আসবাব, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ইলেকট্রনিকস, মেয়ের নামে শেয়ার, হাতে ও নগদে প্রায় দুই কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এজাহারে আরো বলা হয়, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর/রূপান্তর করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। একজন সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হয়ে সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়াই কেরানীগঞ্জে স্ত্রী, মেয়ে ও বাবার নামে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে রেজিস্ট্রিভুক্ত একটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাংক হিসাব আসামি মীজানুর রহমান পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্ব নিজে পালন করেন। এ ছাড়া নামে-বেনামে মেঘনা ফার্টিলাইজার, মেসার্স খোয়াজ ফার্টিলাইজার কোম্পানি ও ফার্ম নেস্ট এন্ড মিল্ক প্রডাক্টস নামে আরো তিনটি কারখানার মালিক।
মীজানুর রহমানের স্ত্রী নীপা মীজানের নামেও রয়েছে অঢেল সম্পদ। এজাহারে বলা হয়, ২০০৩ সালে মীজানুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় নীপার। একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হয়ে স্বামীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে
রেজিস্ট্রিভুক্ত কেরানীগঞ্জে একটি সার কারখানার মালিক হন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার মিরপুর মাজার রোডে ৫ কাঠা জমির ওপর তিন তলা ভবন, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১০ শতাংশ জমিতে ২ তলা বাড়ি, ঢাকা ও কেরানীগঞ্জে ৬৬ শতাংশ জমি, মিরপুর মাজার রোডে ২ কাঠা জমিতে দোকান, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৫৩৮ শতাংশ জমি, তেজকুনিপাড়ায় ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এ ছাড়া ব্যবসায়িক মূলধন, হাতে নগদ অর্থসহ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ।
২০১২ সাল থেকে মীজানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান হলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার পরও তাকে দায়মুক্তি দিয়েছিল সংস্থাটি। দুদক সূত্র জানায়, ২০১৬ সাল থেকে আবারো অনুসন্ধান শুরু হয় তার বিরুদ্ধে। নিজের বাড়ি নির্মাণের সময় পুলিশের ৬০ জন সদস্যকে রাজমিস্ত্রির সহকারী বা জোগালির কাজ করানোর অভিযোগ ওঠে মীজানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, সাভারের হেমায়েতপুরের আলীপুর ব্রিজ-সংলগ্ন ৮৪ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি তৈরি ও ঢাকার মিরপুরের মাজার রোডের আলমাস টাওয়ারের পাশে আরো একটি বাড়ি নির্মাণে জোগালি ও শ্রমিক হিসেবে সাব-ইন্সপেক্টরসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার ৫০ থেকে ৬০ জন পুলিশ সদস্যকে দিয়ে কাজ করান মীজানুর রহমান। সরকারি কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে খাটানোর অভিযোগ এবং জ্ঞাত আয়বহিভর্‚ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামেন দুদকের উপপরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম। এর মধ্যে মীজানের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
পরে অনুসন্ধানের ক্ষেত্র আরো বেড়ে যায়। মীজানের বিরুদ্ধে নকল সার কারখানা পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। এটিও যুক্ত হয় অভিযোগের নথিতে। এর মধ্যে নতুন করে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পান সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মীজান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধ মামলা করেন।