লিটনের চ্যালেঞ্জ

আগের সংবাদ

সেমিফাইনালে সেরেনা-নাদাল

পরের সংবাদ

আগৈলঝাড়ার শাপলার বিলে দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ , ২:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮, ২:৪২ অপরাহ্ণ

আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে ফুটছে নয়নাভিরাম লাল শাপলা। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত বিলাঞ্চলের জলাশয়ে ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায় লাল শাপলা। এই শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায় আবহমানকাল ধরে যুক্ত রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, শাপলা দুই রংয়ের হয়ে থাকে। লাল ও সাদা। এর মধ্যে সাদা ফুলবিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রংয়ের শাপলা ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ থাকে। শাপলা খুব পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি সবজি। সাধারণ শাক-সবজির চেয়ে এর পুষ্টিগুণ অনেকে বেশি থাকে। শাপলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। শাপলায় ক্যালসিয়ামের পরিমাণ আলুর চেয়ে সাতগুণ বেশি। তিনি আরো জানান, লাল শাপলা চুলকানি ও রক্ত আমাশয়ের জন্য বেশ উপকারী। আবার শাপলার ফল দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ ভাজা যায়। এই ফলটি গ্রাম-গঞ্জে ঢ্যাপের খৈ নামে পরিচিত। মাটির নিচের মূল অংশকে (রাউজোম) আঞ্চলিক ভাষায় শালুক বলে। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিল-ঝিল-হাওর-বাঁওড়-পুকুরের পানি যখন কমে যায় তখন গ্রাম-গঞ্জের লোকজন জমি থেকে শালুক তোলে। শালুক খেতেও বেশ সুস্বাদু। গ্রাম-গঞ্জে এক সময় শালুক সিদ্ধ করে খাবার হিসেবেই গ্রহণ করা হতো।
শালুক আমাশয়ের জন্য খুবই উপকারী। সহজলভ্য হওয়ায় গ্রামের মানুষ প্রতিদিনই শাপলা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে আসছেন। আগৈলঝাড়া উপজেলার দক্ষিণ বারপাইকা গ্রামের প্রবীণ বাবু লাল বৈদ্য জানান, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে উপজেলার বারপাইকা, আমবৌলা, কদমবাড়ি, পয়সারহাট, আস্কর, নাঘিরপাড়সহ বিভিন্ন জলাশয়ে শাপলা ফুল ফুটে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে আগের মতো আর লাল শাপলা দেখা যায় না। তবে আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল বিশেষ করে সীমান্তবর্তী সাতলা এলাকায় এখনো ফুটছে নয়নাভিরাম লাল শাপলা। বিলের পর বিল এই শাপলা দেখতে নৌকায় চরে বিলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। অনেকে আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকাও নির্বাহ করে আসছেন। কয়েক বছর আগেও বর্ষা এবং শরতের সকালে দিগন্তজোড়া খাল-বিলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতো লাল শাপলা। সকালের দিকে জলাশয়ে চোখ পড়লে রং-বেরংয়ের শাপলার বাহারি রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। তবে অধিক ফলনের লক্ষ্যে জমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাটের কারণে আগৈলঝাড়া উপজেলার বিলাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে লাল শাপলা।