ইমন বা জানু বলেই ডাকতাম : সামিরা

আগের সংবাদ

মামলার পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন নভেম্বরে

পরের সংবাদ

অল্প কদিনেই সম্পর্ক আগের রূপ নেয় : মৌসুমী

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ , ১:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮, ১:২২ অপরাহ্ণ

আমরা তখন খুলনায় থাকতাম। ছোটবেলায় ইমন (সালমান শাহ ডাকনাম) আর আমি প্লে গ্রুপ ও নার্সারিতে একসঙ্গে পড়েছি। বাবার চাকরির কারণে ইমনের পরিবার খুলনা সার্কিট হাউসে থাকত। ওই স্কুলে আমার ফুপু ছিলেন টিচার। ফুপুর ছুটি হওয়া পর্যন্ত ইমনদের বাসায় আড্ডা দিতাম। সেও আমাদের বাসায় যাওয়া-আসা করত। ভালো বন্ধুত্ব হয়। এরপর হঠাৎ ওরা ঢাকায় চলে আসে। বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুর দেখা হওয়ার যে আকাক্সক্ষা থাকে, তা ছবিটি করতে গিয়ে নতুন করে টের পাই। ধানমন্ডির ম্যাকডোনাল্ড চায়নিজ রেস্তোরাঁয় সোহান ভাইসহ অপেক্ষা করছি। একটু পর সোহান ভাইকে বললাম, আপনার হিরো কই। এই ছেলেটা আপনার হিরো নাকি? ঘাড় ঘুরিয়ে বললেন, এই ইমন (হাসি)। কী সিকোয়েন্স! ইমন বলল, তুমি আরিফা (মৌসুমীর নাম), তোমাকে কত খুঁজছি। আমিও বললাম, আরে তোমাকে আমিও কত খুঁজছি। আমাদের দেখা হলো। অল্প কদিনেই আমাদের সম্পর্ক আবার আগের রূপ নেয়। নিজেদের সবকিছুই একজন আরেকজনের সঙ্গে শেয়ার করতাম। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে তো পরিচালক সোহান ভাই একপর্যায়ে ভুল বুঝতে শুরু করলেন। তিনি ভাবলেন, আমরা একজোট হয়ে গেছি। আমার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তবে সালমান আর আমার সম্পর্ক গভীর ছিল। অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আমরা শেয়ার করতাম, যা কাউকে বলতে পারতাম না। আমার জ্বর হলে ওর ভালো লাগত না, ওর কোনো অসুখ হলে আমার না। আমাদের আত্মার একটা টান ছিল। দেখা গেল, জ্বরের কারণে আমি শুটিংয়ে যেতে পারিনি, পরিচালকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেখা করতে চলে আসত। ওর কোনো ভালো হলে আমার ভালো লাগত, ওর খারাপ হলে আমার খারাপ লাগত। ছবির শুটিংয়ে সময় রাতে কোনো প্রয়োজনে সোহান ভাই আমার বাসায় ফোন করলেও দেখতেন ব্যস্ত, ইমনের বাসার ফোনও ব্যস্ত। তার সন্দেহ হলো। আবার যখন জানতে পারলেন, আমরা বন্ধু, তখন তিনি আরো সিরিয়াস হয়ে যান। আমাদের কথা আড়ি পেতে শুনতেন। বিষয়টি টের পেয়ে ইমনের মেজাজ খুব খারাপ হয়। মেজাজ ছিল ঠিকই, তবে মনটা খুব ভালো ছিল। সে খুব খোলা মনের মানুষ ছিল।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা