নাইক্ষ্যংছড়িতে সার খেয়ে মারা গেল চার গরু

আগের সংবাদ

রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে সিঁথি

পরের সংবাদ

রোপা আমনের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ , ১:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮, ১:৫৮ অপরাহ্ণ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষেতগুলোতে বাতাসে দুলছে ধানের শীষ। মাঠে মাঠে রোপা আমন দেখে কৃষকের মুখে ফুটছে উজ্জ্বল হাসি। সরজেমিন উপজেলার বিভিন্ন ধানক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, দিগন্ত জোড়া মাঠ সেজেছে সবুজ ও হলুদ রংয়ে। ধানের গন্ধে ভরে উঠছে গ্রামীণ জনপদ। মাঠজুড়ে কৃষকের ফলানো সোনারং ধানের ছড়াছড়ি। দফায় দফায় বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরও চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় সিরাজদিখানের চাষিরা বেশ খুশি। কৃষক ও মজুররা দলবদ্ধভাবে জমিতে ধান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা বেশ উৎফুল্ল। অনেক জায়গায় আগাম ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজও চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উপজেলায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। ইছাপুরা ইউনিয়নের চন্দধুল গ্রামের মৃত মকবুল হোসেন তালুকদারের ছেলে ধানচাষি মানিক তালুকদার বলেন, বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় অন্যান্য জাতের তুলনায় রোপা আমন ধানও ভালো চাষ হয়েছে। এ জন্য রোপা আমন ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে মাঠ। একই কথা বলেন ইছাপুরা গ্রামের গ্রামের ধানচাষি জাহাঙ্গীর। ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের কৃষক মাঠে ধানক্ষেত পরিচর্যার সময় মৃত হায়দার আলী হাওলাদারের ছেলে মো. দেলোয়ার হাওলাদার জানান, তিনি স্বর্ণা-৫১, ব্রি-ধানসহ এ জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২৩ থেকে ২৫ মণ করে পাচ্ছেন। আর বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা দরে। তিনি আরো জানান, ধানের এমন দাম পাওয়া গেলে তাদের কোনো সমস্যা হবে না।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন জানান, সিরাজদিখান উপজেলায় এবার আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চাষ ভালো হয়েছে। ভালো চারা পাওয়ার জন্য বীজতলায় নিয়মিত সেচ দেয়া, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, আগাছা দমন, সবুজপাতা ফড়িংসহ অন্যান্য আক্রমণ প্রতিহত করার কাজ সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। চারা হলুদ হলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম করে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এরপরও যদি চারা হলুদ থাকে তবে প্রতি বর্গমিটারে ১০ গ্রাম করে জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে। কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল মাড়াইয়ের কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও তিনি মনে করেন। সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর রোপা আমন ধানের মাঠ ভালো অবস্থানে রয়েছে। রোগ-বালাই ও পোকার উপদ্রব প্রতিরোধে কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিতে প্রতিটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন।