মুদ্রানীতি মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করবে

আগের সংবাদ

ছেলেকে দিয়ে ৯ বছরের সৎ মেয়েকে ধর্ষণ করালেন মা

পরের সংবাদ

বিএনপি ধ্বংস করছে কে? কোথায় নিতে চায়?

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ , ৭:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮, ৭:৫১ অপরাহ্ণ

শেখর দত্ত

রাজনীতিক, কলাম লেখক

কৃত্রিম ও পশ্চাৎপদ চেতনা নিয়েই জন্ম হয়েছিল বিএনপির। জন্মের ভুল সারা জন্মেও মোচন করা যায় না। বাংলাদেশকে জন্মের উৎসের চেতনা থেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে বিএনপি পাপ করেছে। জাতিসত্তা থেকে উৎসারিত চেতনার শক্তির বিচারের কাঠগড়ায় বিএনপিকে উঠতে হবে। শেষ পর্যন্ত কশাঘাতে বিএনপি দলটি নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না বলেই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। হয় খোল নলচে পাল্টাতে হবে, নতুবা যেতে হবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে নয়াপল্টনে, অফিসের সামনে, অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্যই সরকার চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। প্রধান অতিথির ভাষণে ড. মোশাররফ বলেছেন, সরকার বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে। ইদানীং সরকার ‘দল ধ্বংস’ করতে চায়, সরকার ‘দল ভাঙতে’ চায়- এমন কথা বিএনপি নেতারা প্রায় প্রতিদিন বলে চলেছেন। মনে হচ্ছে, ধ্বংস বা ভাঙন ইত্যাদি নিয়ে বিএনপিকে যেন জুজুর ভয়ে পেয়ে বসেছে, ভূত যেন তাড়া করছে। তাই আতঙ্কে কেবল ধ্বংস আর ভাঙন দেখছে আর যত ভয় ও আতঙ্ক বাড়ছে, ততই যত দোষ নন্দঘোষ সরকারের ওপর দিচ্ছে।

বিএনপি দেশের বড় দলগুলোর একটি। সামরিক শাসনের মধ্যে সামরিক শক্তির জোরে ক্ষমতায় এসে সেনাশাসক জিয়া যে দল করেছিলেন, সেই দল ৪০ বছরের জীবনে প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। ১০ বছর ছিল সংসদে প্রধান বিরোধী দলে। কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে, বিএনপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য ৪০ হাজার কমিটি করবে। এমন একটি দলকে ধ্বংস করে কিংবা ভেঙে দিবে সরকার! শুনতে ভালোই লাগছে!

প্রসঙ্গত ওই একই সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেছেন, বিএনপি একটি ‘জনপ্রিয় দল’, আওয়ামী লীগ ‘দেউলিয়া দল’, খালেদা জিয়া-তারেক জিয়ার ভীতিতে শেখ হাসিনার ‘ঘুম হয় না’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এত ‘জনপ্রিয় ও শক্তিশালী’ একটি দল কীভাবে একটি দেউলিয়া ও ভীত দলের কাছে এত ভয় পাচ্ছে, তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। এদিকে সমাবেশ থেকে বলা হয়েছে, ‘আইনি লড়াইয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। সংগ্রাম করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে’, আওয়ামী লীগকে ‘কেউ রক্ষা করতে পারবে না’। শপথের সঙ্গে হুমকি-ধমকি সবকিছুই দেয়া হয়েছে। কথায় বলে, যত ভয় তত হুমকি-ধমকি। বিষয়টা বুঝানোর জন্য নিম্নে এমন তুলনা দেয়ায় পাঠকরা আমাকে ক্ষমা করবেন। বাস্তবেও আমরা দেখি, পরাজিত কুকুর বাড়ির গেটের কাছে গিয়ে পেছনে ফেরে ঘেউ ঘেউ করে বেশি। আসলেই বিএনপিকে জুজুর ভয়ে পেয়ে বসেছে।

প্রকৃত বিচারে কেউ যদি ঠিক পথে থাকে, কেউ তার ক্ষতি করতে পারে না। গাছের গোড়া যদি নড়চড়ে না থাকে, তবে ঝড় এসে তাকে ধ্বংস করতে পারে না। সংসার যদি দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জর্জরিত থাকে, তবেই কেবল বাইরের লোক এসে সংসার তছনছ করে দিতে পারে। ঝড়ঝাপটা জীবনেই অংশ। নিয়ত ঠিক রেখে এসব যে যত বেশি সহ্য করতে পারে, ততই সে পোক্ত হয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। পোড় খেতে খেতেই মাটি শক্ত হয়। ‘হাঁটিতে শেখে না কেউ না খেয়ে আছাড়।’ আমাদের বাস্তব জীবনে যা সত্য, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তা সত্য। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এই মানচিত্রে রাজনৈতিক দল গঠনের সময় থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা ও গণভিত্তি পাওয়া বড় বড় রাজনৈতিক দলের নাম-নিশানা পর্যন্ত এখন নেই। কোনো কোনো দল নানা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে টিম টিম করে জ্বলছে। ক্ষমতার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মুসলিম লীগ, জাতীয় কংগ্রেস এখন আর নেই। কৃষক প্রজা পার্টি বা কৃষক শ্রমিক পার্টি, তফসিলি ফেডারেশন, গণতন্ত্রী দল, নেজামে ইসলাম প্রভৃতি দলের নাম অনেক সময় মনেও থাকে না। হাল আমলে জাসদ বা কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থা কি হয়েছে, তাও এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া যায়।

কোনো দল যদি জনগণকে বিভ্রান্ত করে জনপ্রিয়তা অর্জন করার চেষ্টা করে, সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে তাল না মিলাতে পারে, দলের উপযোগিতা বা প্রয়োজনীয়তা যদি না থাকে, যদি দেশ ও জাতিবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে; তবে ভেতর থেকে তা ক্ষয়ে তছনছ হয়ে যায়। তখন গণরোষে পড়ুক আর না পড়ুক দল বিলুপ্ত হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির টিকে থাকা কিংবা না থাকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেই হয়তো প্রথম আলোতে ‘বিএনপি দেশকে কোথায় নিতে চায়’ শিরোনামের কলামের শুরুতেই লেখক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ রাজনৈতিক দলের টিকে থাকার প্রশ্নটি টেনে এনেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ টেকসই হয়েছে। মুসলিম লীগ কেন পারল না… এ নিয়ে গবেষণা হতে পারে।’ গবেষণা হতেই পারে। তবে সাধারণ বিবেচনায়ই অনুধাবন করা যায়, কেন মুসলিম লীগ এখন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে আর ‘দশা হবে মুসলিম লীগের মতো’ কথাটার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বড় দল হিসেবে বহাল তবিয়তে টিকে থেকে দেশ চালাচ্ছে। মধ্যযুগীয় কৃত্রিম এক ভাবাদর্শ গ্রহণ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করে জন্ম হয়েছিল মুসলিম লীগের। জাতীয় কবির ভাষায়, ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান’। জাতীয় কংগ্রেসের সীমাবদ্ধতার সুযোগে ঔপনিবেশিক শাসকদের ‘ভাগ কর শাসন কর’ নীতি কার্যকর করতে বিভেদ-বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ওই দল ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা উসকে দিয়েছিল। ভারত বিভক্ত করে সৃষ্টি করেছিল এক কৃত্রিম রাষ্ট্র। কৃত্রিম কিছুকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন হয় বাইরের শক্তির। সেই শক্তি পেতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও মার্কিনিদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছিল মুসলিম লীগ। গণবিরোধী, জাতিবিরোধী, গণবিচ্ছিন্ন স্বৈরাচারী এক জগদ্দল পাথর হিসেবে চেপে বসেছিল এই মানচিত্রের বাঙালি জাতির ওপর। এমন একটি দলের অপমৃত্যু হবে না তো কার হবে!

বিপরীতে এই মানচিত্রের জনগণের হাজার বছরের ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় শ্রমে-মননে, কর্মে-চিন্তায়, জয়ে-পরাজয়ে, গ্রহণে-বর্জনে, বিদ্রোহে-সৃজনে, ত্যাগে-অর্জনে, সাধনায়-স্বপ্নে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক যে চেতনাকে জাগ্রত করে রেখেছিল, সেই চেতনাই পাকিস্তানি আমলে চরম বাধার সম্মুখীন হয়ে জমাট বেঁধে আরো প্রবলতর হয়। সবলতা-দুর্বলতাসহ জাতিসত্তা থেকে উৎসারিত সেই চেতনারই জাতক হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই এই দল যত বাধা পায়, যত আঘাত আসে, ‘চাটার দল’ সুবিধাবাদী, সুযোগসন্ধানীরা যত দলবিরোধী কাজ করে; ততই যেন আরো নতুন রক্ত ও শক্তি নিয়ে দলটি জীবন্ত হয়ে ওঠে।

ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালেই দেখা যাবে, পাকিস্তানে ‘শির কুচল দেঙ্গে’ ধরনের পরিস্থিতিতে ঔপনিবেশিক শাসক শোষকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জনগণের আশা আকাক্সক্ষা ধারণ করে জনগণ থেকে উঠে আসা এই দলটিকে কতভাবেই না বিগত ৭০ বছরে ধ্বংস করা কিংবা ভাঙন ধরানোর প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। তাতে ক্ষতি হয়েছে, মনে হয়েছে দলটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু ওই যে জাতিসত্ত্বা সে তো অমর। যতদিন পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-কর্ণফুলী থাকবে, ততদিন সেই চেতনা থাকবে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে সবলতা-দুর্বলতাসহ প্রবাহমান। আওয়ামী লীগ সেই চেতনা ধারণ-বহন-লালন করছে বলেই ‘মরেও মরে না’।

পঞ্চাশের দশকে প্রথমে দলের দুই প্রধান নেতা মাওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দলটিতে ভাঙন ধরানো হয়। এই অবস্থায়ই আইয়ুবের সামরিক শাসনের মধ্যে ‘এবডো’ করে সোহরাওয়ার্দীকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা আর শেখ মুজিবকে জেলে নিয়ে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা নেয়া হয়। এক পর্যায়ে সোহরাওয়ার্দীকে জেলেও নেয়া হয়। পরে সামরিক আইনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেতর দিয়ে তিনি মুক্তি পেলে এবং সামরিক শাসন উঠে গেলে পাকিস্তানের শাসক শোষক গোষ্ঠী প্রমাদ গোনে। এটাই তো সত্য যে, সোহরাওয়ার্দীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে শেখ মুজিব আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে এবং তদন্ত দাবি করে। কিন্তু সৎসাহস না থাকায় তদন্ত না করে আইয়ুব-মোনায়েম চক্র শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে মামলা দেয়। পিডিএম ইত্যাদির জন্ম দিয়ে কত যে ভাঙার প্রচেষ্টা! নেতৃত্বশূন্য করে কিংবা ভাঙন ধরিয়ে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল পাকিস্তান।

কিন্তু তখনো পারেনি। পরে প্রথমে ষাটের দশকে জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবকে আগরতলা মামলা দিয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানে নিয়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর পরিকল্পনা করেও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারেনি। বাংলাদেশ আমলে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতাকে নিষ্ঠুর ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শেখ মুজিবের নাম নিয়ে দল করা যাবে না বলে সামরিক ফরমান জারি করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ (মালেক), আওয়ামী লীগ (মিজান), আওয়ামী লীগ (ফরিদ গাজী), আওয়ামী লীগ (আওয়াল) প্রভৃতি ব্র্যাকেট দিয়ে দল করার কত যে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত! শেখ হাসিনাকে হত্যার কতটি প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে! ‘মাইনাস টু’ কি সফল হয়েছে! হয় নাই কেন? সেই যে সবলতা-দুর্বলতা নিয়ে সদা চলমান আমাদের মহান জাতিসত্ত্বা দেবতা ও অসুরদের দ্বন্দ্বে সমুদ্র মন্থনে লক্ষ্ণী উঠে এসেছিল অমৃত নিয়ে। দেবতারা পান করে অমর হয়েছিল। জাতিসত্তাই এখানে লক্ষ্ণী, বাঙালি জাতিকে জোগান দিচ্ছে সঞ্জীবনী সুধা। আর তাতেই আওয়ামী লীগ প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক শক্তির এমনই অরি বা শত্রু যে, তাকে ধ্বংস করা বা ভাঙন ধরানো যায় না।

অবস্থা পর্যবেক্ষণে এটা আজ সুস্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগ ‘টেকসই’ থাকলেও বিএনপি দলটি কিন্তু শেষ নিঃশ্বাস নেয়ার দিন গুনছে। নতুবা ওই লেখায় লেখক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন বিএনপির অগণিত নেতাকর্মীকে অভিনন্দন জানিয়েও শেষ প্যারায় লিখবেন কেন, ‘বিএনপি অতীতে ভুল করেছে। ভুল কমবেশি সবাই করে। তবে তা স্বীকার করে না। বিএনপির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো : ১. ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে পাস করিয়ে তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। ২. বিনে পয়সায় সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তারা দেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। ৩. খালেদা জিয়ার মামলার রায় হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে দলের সংবিধান সংশোধন করে ‘দুর্নীতি ও অসদাচরণের’ দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের দলের নেতৃত্বে রাখার ব্যবস্থা জায়েজ করেছে।

প্রশ্ন হলো এই অভিযোগই কি যথেষ্ট, পরিপূর্ণ? জাতিসত্তাকে আঘাত করার ব্যাপারে সেনাশাসক জিয়ার ভুল কি বিএনপির ভুল নয়! মুক্তিযুদ্ধের চার বছরের মধ্যে সামরিক ফরমান বলে কে সংবিধানকে পাকিস্তানের মতো কৃত্রিম পশ্চাৎপদ দ্বিজাতিতত্ত্বের দিকে নিয়ে গিয়েছিল? কে করেছিল আমাদের জাতিসত্তাকে আঘাতে আঘাতে জর্জরিত ও রক্তাক্ত? কে শত-সহস্র শহীদের স্বপ্নজাত জাতীয় চার নীতিকে বদল করেছিল? জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতার স্বঘোষিত খুনিদের কেবল ‘বিচারের পথ বন্ধ’ করা নয়, আশ্রয়-প্রশ্রয় ও সরকারি পদ পদবি দিয়েছিল? মুক্তিযুদ্ধের চেতনামাখা গৌরবমণ্ডিত জাতির ইতিহাস ঐতিহ্যকে কে বিকৃত করেছিল? ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’, ‘রাজনীতিকদের জন্য রাজনীতি ডিফিকাল্ট’ করার ঘোষণা দিয়েছিল কে? প্রশাসনকে পাকিস্তানিকরণ করেছিল কে? কে দিয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন ও জামায়াতকে রাজনীতি করতে? শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করেছিল কে? কৃত্রিম ও পশ্চাৎপদ চেতনা নিয়েই জন্ম হয়েছিল বিএনপির। জন্মের ভুল সারা জন্মেও মোচন করা যায় না। বাংলাদেশকে জন্মের উৎসের চেতনা থেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে বিএনপি পাপ করেছে। এই পাপই অপরাপর পাপের জন্ম দিয়েছে। জন্মই বিএনপির আজন্ম পাপ। কৃত্রিম জন্মের মধ্যেই রয়েছে মৃত্যুবাণ। তাই উৎসে তথা আসল জায়গায় না গিয়ে ভাসাভাসাভাবে ভুল চিহ্নিত করে বিএনপিকে যদি রক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়, তবে ওই টনিক আপাতত পরিত্রাণের পথ সৃষ্টি করে জাতিকে দুর্ভোগ দিতে পারে ঠিকই; কিন্তু ভবিষ্যতে তা হবে গুড়েবালি। জাতিসত্তা থেকে উৎসারিত চেতনার শক্তির বিচারের কাঠগড়ায় বিএনপিকে উঠতে হবে। শেষ পর্যন্ত কশাঘাতে বিএনপি দলটি নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না বলেই ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। হয় খোল নলচে পাল্টাতে হবে, নতুবা যেতে হবে ইতিহাসের আঁস্তকুড়ে।

শেখর দত্ত : রাজনীতিক, কলাম লেখক।