প্রিয়াঙ্কাকে ধন্যবাদ ক্যান্সার আক্রান্ত সোনালির

আগের সংবাদ

মুদ্রানীতি মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করবে

পরের সংবাদ

ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ অনুমোদন

টেকসই দেশ গড়ার প্রত্যাশা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ , ৭:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

টেকসই দেশ গড়ার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা খুবই জরুরি। বিচ্ছিন্নভাবে দেশের বিভিন্ন প্রধান নগরে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এ অবস্থায় ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগে দেশের মানুষ আশান্বিত হবেন। যে কোনো কাজ পূর্বপরিকল্পিত ও টেকসই হলে তা থেকে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যায়।

ব-দ্বীপ হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা পরিপূর্ণরূপে কাজে লাগাতে পরিকল্পনা নিল সরকার। অনুমোদন পেল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্ল্যান’। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্যা, নদীভাঙ্গন, নদীশাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন শুরু হলে প্রথম পর্যায়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টেকসই দেশ গড়তে সরকারের উদ্যোগগুলো নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক ঘটনা। এখন থেকেই যদি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর একটি দেশ উপহার দেয়া সম্ভব হবে।

জানা গেছে, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিল। একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত, কারিগরি ও আর্থসামাজিক দলিল এ পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ, ইচ্ছা ও নির্দেশে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের পক্ষ থেকে এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির কারণে কাক্সিক্ষত উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার এ পরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন এবং পানি, জলবায়ু, পরিবেশ ও ভূমির টেকসই ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলাসহ ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাংলাদেশের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করবে। উন্নত দেশের পথে হাঁটতে হলে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। সে ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

ঝুঁকি বিবেচনায় সারা দেশে ছয়টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে ব-দ্বীপ পরিকল্পনায়। সেই সঙ্গে এসব হটস্পটে ৩৩ ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় হটস্পটগুলোর সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বন্যার ঝুঁকি কমাতে নদী ও পানিপ্রবাহের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা; পানিপ্রবাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নদীগুলোকে স্থিতিশীল রাখা। নেদারল্যান্ডস এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ছয় হাজার বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি পেয়েছে। তাদের সহযোগিতা নিয়ে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার বলছে, পানিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে কৃষিতে দেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। সরকারের এমন জোরালো মনোভাবে আমরাও আশান্বিত হতে চাই। দুনিয়ার যেসব দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। তবে টেকসই দেশ গড়ার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা খুবই জরুরি। বিচ্ছিন্নভাবে দেশের বিভিন্ন প্রধান নগরে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এ অবস্থায় ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগে দেশের মানুষ আশান্বিত হবেন। যে কোনো কাজ পূর্বপরিকল্পিত ও টেকসই হলে তা থেকে দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যায়। আমরা আশা করব সরকারের শত বছরের মহাপরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রকল্পগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবেন। একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।