বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ট্রান্সমিশন শুরু আজ

আগের সংবাদ

আজ সাফ ফুটবলে সেরার লড়াই শুরু

পরের সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় বিস্মিত-হতাশ নেতারা

নতুন ছক কষছে বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ , ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণায় বিস্মিত-হতাশ বিএনপি। নতুন এই বাস্তবতায় নতুন করে ভাবতে হচ্ছে দলটির নীতিনির্ধারকদের। রাজনীতির ছকও সাজাতে হচ্ছে নতুন করে। নেতারা মনে করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার যে সম্ভাবনা তারা দেখতে পেয়েছিলেন তার দরজা রুদ্ধ হয়ে গেল। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নিজেদের আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের অংশ নেয়া নিশ্চিত করতে সংলাপ হবে এমন ধারণা ছিল তাদের। সরকার আলোচনার সব পথ রুদ্ধ করে দেবে, এমনটি ভাবতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এখন নতুন করে ভাবতে হচ্ছে দলটিকে। কৌশল সাজাতে হচ্ছে নতুন করে। এ নিয়ে সহসাই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন এক নেতা। পাশাপাশি ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি ক‚টনীতিকদের কাছেও দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান ও বিএনপির দাবিসমূহ তুলে ধরা হবে। আজ মঙ্গলবার কোনো এক সময়ে এ বিষয়ে ক‚টনীতিকদের ব্রিফিং করা হবে বলেও জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।
সূত্রমতে, বিবদমান পরিস্থিতিতে ধীরে চল নীতি নিয়েছে বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব। হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে দল ও নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলতে চান না তারা। সরকারকে চাপে রাখতে বিএনপি তার দাবি অব্যাহতভাবে জানাতে থাকবে। এ জন্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনগণকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করতে প্রচারপত্র বিলিসহ জনসম্পৃক্ত কিছু কর্মসূচি হাতে নেবে বিএনপি। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সবার জন্য লেবেল প্লেইং ফিল্ড প্রতিষ্ঠার দাবি অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাবে। এ দাবির সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তি, আটক নেতাকর্মীদের ছেড়ে দেয়ার দাবিও থাকবে। এভাবে রাজনীতিতে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি, যাতে সমঝোতার জন্য এগিয়ে আসতে বাধ্য হয় সরকার পক্ষ।
এসব দাবি আদায়ে ও জনমত তৈরির কাজে পেশাজীবীদের দিয়ে সেমিনার-আলোচনা সভার কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিলের মতো কর্মসূচি আসবে দলটির পক্ষ থেকে। মাঠে নামানো হবে বিএনপির সমমনা রাজনৈতিক দল ও ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যোগ দেয়া রাজনৈতিক দলগুলোকেও। সর্বোপরি প্রতিবেশী দেশসহ আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়াতে লাগাতার কাজ করবে বিএনপি। রাজপথের আন্দোলনের দিকেও এগুবে দলটি। নেতাদের মতে, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন সামনে আগানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই তাদের হাতে। সময় সুযোগমতো ঠিকই রাজপথে নামবে নেতাকর্মীরা।
এ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সামনে এখন একটাই পথ, সেটা হচ্ছে জনগণ। জনগণই এর জবাব দেবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রধান চাওয়া হচ্ছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। যেটা গোটা দেশের মানুষের দাবি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দাবি আদায়ে অতি দ্রæত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে কী ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে, তা এখনই বলতে চাই না।
স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ভোরের কাগজকে বলেন, এ নিয়ে বিএনপি নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণ করবে। তিনি জানান, আন্দোলন ছাড়া কিছু হয় না, বিএনপিতো আন্দোলন বিমুখ দলও নয়, সময়মতো আন্দোলনে যাবে বিএনপি। বিষয়টি নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি। এই নেতা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।