২৩৬ কোটি দেনা নিয়ে জিসিসির দায়িত্ব নিলেন মেয়র জাহাঙ্গীর

আগের সংবাদ

অস্ত্র-গুলিসহ ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী’ গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

দালালমুক্ত হলো বেনাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ , ১০:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮, ১০:২৭ অপরাহ্ণ

‘সম্মানিত যাত্রী, বেনাপোল কাস্টম হাউসের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে আপনাকে স্বাগত। চেকপোস্ট ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সরকারের সংরক্ষিত এলাকা। এর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এখানে কেবল পাসপোর্টধারী বৈধ যাত্রী, কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন। আপনার পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখুন। পাসপোর্ট কারো হাতে দেবেন না। চেকপোস্টে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিনামূল্যে সেবা দেয়। কেউ টাকা দাবি করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করুন। অপরিচিত ও সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন। আপনার মালামাল ও ব্যাগেজ নিজ হেফাজতে রাখুন। আপনার জিজ্ঞাসা, সমস্যা ও অভিযোগ কর্তব্যরত রাজস্ব কর্মকর্তাকে জানান। চেকপোস্টের সেবা গ্রহণের জন্য আপনাকে সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ।’

ভারত গমনাগমন পাসপোর্টযাত্রীরা বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এলে এই মাইকিং শুনতে পাবেন। সম্প্রতি বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনে নির্বিঘ্নে যাত্রী পারাপারের জন্য দালালমুক্ত চেকপোস্ট করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ। এর ফলে শৃঙ্খলা ফিরেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পর অবশেষে দালালমুক্ত হলো বেনাপোল কাস্টমস ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। ভারত গমনাগমন পাসপোর্টযাত্রী হয়রানি বন্ধে সম্প্রতি ইমিগ্রেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফলে পাসপোর্টযাত্রী ছাড়া কোন ব্যক্তিকে কাস্টমস ইমিগ্রেশন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বেনাপোলে যোগদানের পর থেকে কাস্টমস হাউস ও চেকপোষ্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনের বিভিন্ন অনিয়ম দূর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনে দালালমুক্ত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ডেপুটি কমিশনার মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম কাজ করছে। পাশাপাশি প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ভেতরে পাসপোর্টযাত্রী ছাড়া বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবে না মর্মে নির্দেশ দেন। টার্মিনালের প্রধান ফটকে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী আনসার সদস্য ও কাস্টমস অফিসারদের সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি করায় প্রবেশ করতে পারছে না দালালচক্র। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের সেবার মান বৃদ্ধি করায় যাত্রীরা দ্রুত ও সুশৃংখলভাবে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় এক শ্রেণীর লোক দুর-দূরান্ত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। তারা বিনা চেকে দ্রুত পার করে দেয়ার নামে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছিল। আর এ কাজটি করার জন্য চেকপোষ্ট এলাকায় গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তাদের অন্যকোন কাজ নেই। দোকানে নেই কোন মালামাল। চেয়ার টেবিল, কোন কোন দোকানে কম্পিউটার রেখে করছে কাজ। আসলে তাদের একটিই কাজ সেটা হলো পাসপোর্ট দালালি ও বিনা চেকে ল্যাগেজ পার করা।
পাসপোর্টযাত্রীরা লোকাল বাসস্ট্যান্ডে, পরিবহন কাউন্টারে ও চেকপোস্টে এসে পৌছালেই শুরু হয়ে যায় টানা হেচড়া। তারা বিভিন্ন ঘরের নাম নিয়ে হাক দেয়। অনেক সময় টেনে-হেছড়ে তাদের ঘরে নিয়ে চালায় দরকষাকষি। অনেকের খোয়া যায় টাকা ডলার।

বিষয়টি পাসপোর্টযাত্রীরা কাস্টমস কমিশনারের কাছে অভিযোগ করলে তিনি চেকপোস্ট কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনে দালালমুক্ত করার ঘোষণা দেন। যাত্রীদের সেবার মান উন্নত করতে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় বহিরাগত কোনও দালাল প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হচ্ছে। দালালদের কাছে পাসপোর্ট না দেয়ার জন্য মাইকে বারবার সতর্কও করা হচ্ছে।

ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত ভারত যাতায়াত করেন এমন একজন আমদানিকারক আ ন ম ফয়সাল রহমান বলেন, যাত্রী সেবার মান অনেক বেড়েছে। প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় বহিরাগত কোনো দালাল যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য প্রতিনিয়ত মাইকিং করা হচ্ছে। দালালদের কাছে পাসপোর্ট না দেওয়ার জন্য মাইকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। কোথায় কীভাবে পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সারবেন তাও মাইকে বলা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরার আওতায় আসায় অবৈধ লেনদেনও বন্ধ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, চেকপোস্টে পাসপোর্টযাত্রীরা যাতে কোনও প্রকার হয়রানি না হয় সে জন্য দালালমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। ঝামেলামুক্ত ভাবে যাত্রীরা যাতে ভারত যাতায়াত করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি যাত্রীকে লাইনে দাঁড় করিয়ে তাদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। দালাল ও বহিরাগতরা যাতে ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য প্রবেশ মুখেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার ফলে আগের তুলনায় এ পথে দ্বিগুন যাত্রী যাতায়াত করায় সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, বর্তমানে চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনকে দালালমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বর্তমানে কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়া নিরাপদে যাত্রীরা ভারত গমনাগমন করতে পারছে।