আইফোন রিসেট দেয়ার কৌশল

আগের সংবাদ

কিসমিসের উপকারিতা

পরের সংবাদ

আ.লীগে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী, জামায়াতকে নিয়ে বিপাকে বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ , ৩:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮, ৩:২৯ অপরাহ্ণ

পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে রাজশাহী-৩ আসন গঠিত। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্লিন ইমেজ ও তৃণমূলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বতর্মান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনকে আবারো দলীয় মনোনয়ন দেয়া হতে পারে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার জনগণের মাঝে চাউর হচ্ছে। তিনি ছাড়াও প্রায় হাফ ডজনেরও বেশি নেতা মনোনয়ন পেতে এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের এত প্রার্থীর মধ্যে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিও আসনটিতে মনোনয়ন চাচ্ছে। জোটের হয়ে মনোনয়ন না পেলে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে বলে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে প্রার্থিতা নিয়ে বেশ জটিল সমীকরণ দেখা দিয়েছে। বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আসনটিতে নির্বাচন করতে পারেন। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেতে বহিরাগতসহ প্রায় হাফ ডজনেরও বেশি নেতা এলাকায় ভোটের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে আসনটিতে মনোনয়ন পেতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা আয়েন উদ্দিন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মেরাজ উদ্দিন মোল্লাকে প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তৎকালীন রাবি ছাত্রলীগের এই নেতাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল।
মাঠপর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, ৪ বছরে এমপি আয়েন এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করার পাশাপাশি এলাকার তৃণমূল ভোটারদের কাছেও তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাই অনেকটা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেতাকেই এবারো দলীয় প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিচ্ছে এমন আলোচনাই এলাকায় বেশ জোরেশোরেই চাউর হচ্ছে। এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি, সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর আয়েনের অনুরোধে সাড়া দিয়েই প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা পবায় জনসভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই জনসভার পর আয়েনের অবস্থান আরো শক্ত হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।
তবে এখনো হাল ছাড়েননি মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো অন্তত আধা ডজন নেতা। তারাও এরই মধ্যে নিজেদের সাধ্যমতো নির্বাচনী মাঠে পুরোদমে নেমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মনোনয়ন দৌড়ে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন আয়েন উদ্দিন ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক সংসদ সদস্য মেরাজ উদ্দিন মোল্লা, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি রবিউল আলম বাবু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেগম আকতার জাহান। তাদের মধ্যে আয়েন ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশীর দিক থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনিও মনোনয়ন পেতে দলের হাইকমান্ডে তদবির চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকায় ব্যাপক সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন বলেন, আমি এলাকার সন্তান হিসেবে সব সময় মাঠে থেকেছি। পবা-মোহনপুরের উন্নয়নের জন্য তরুণ নেতা হিসেবে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে আবারো প্রার্থী হতে চাই। তিনি বলেন, শুধু রাজশাহীর উন্নয়ন নয়; সারা দেশে আমার সরকার যে অভাবনীয় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করেছে, তা এর আগে কোনো সরকার করতে পারেনি। সেই উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে নৌকার হয়ে জনগণের পাশে যাচ্ছি, ভোট চাচ্ছি। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার হয়ে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে এই আসনটিতে মহাজোট থেকে মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি শাহাবুদ্দিন বাচ্চুও প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। মহাজোট থেকে প্রার্থী হতে না পারলে দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করার পাশাপাশি এলাকার তৃণমূল পর্যায়ে ভোটের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন বাচ্চু।
শাহাবুদ্দিন বাচ্চু বলেন, এই আসনে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এখানে জাতীয় পার্টির যে ভোটব্যাংক রয়েছে তাতে একাই ফাইট করার মতো সামর্থ্য আমাদের আছে। মহাজোটের প্রার্থী হতে না পারলে আসনটি থেকে লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচন করব।
অপরদিকে এই আসনটি থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন করতে পারেন বলে এলাকায় বেশ জোরালোভাবে গুঞ্জন উঠেছে। তিনি ছাড়া সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য কবীর হোসেন, রাজশাহী বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু, যুগ্ম সম্পাদক রায়হানুল আলম রায়হান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. আলমগীর মোস্তাফিজুর রহমান টমি। তাদের মধ্যে শাহীন শওকত এই আসনটি ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ আসন থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। ওই এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তাও রয়েছে বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তিনি ছাড়াও আসনটিতে শফিকুল হক মিলন ও মতিউর রহমান মন্টু মনোনয়ন প্রত্যাশীর দিক থেকে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেন, আমি রাজশাহী-৩ আসনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ জন্য ওই এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে শিবগঞ্জ আমার পৈতৃক এলাকা। সেখানে আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তাও রয়েছে। এ জন্য আমার মেইন টার্গেট শিবগঞ্জ। তবে দলের চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
শফিকুল হক মিলন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতি করে যাচ্ছি। রাজশাহীর মানুষের জন্য এই রাজনীতি করতে একের পর এক অত্যাচার-জুলুমের মুখে পড়তে হয়েছে। তবুও জিয়ার আদর্শ ধারণ করে জনগণের সেবা করার প্রত্যয় নিয়ে রাত-দিন সংগঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনে পবা-মোহনপুর আসনে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে এমনটাই বিশ্বাস করি।
মতিউর রহমান মন্টু বলেন, দলের হাইকমান্ড আমাকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছে। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করার চেষ্টা করছি। আশা করি, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে এই আসনটিতে মনোনয়ন চাইবেন বলে বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পবায় জামায়াতের প্রার্থী জয়লাভ করেন। এ ছাড়া পবা ও মোহনপুরে দলটি স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে ৫টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছে। আসনটিতে জামায়াতের বড় ধরনের ভোটব্যাংক থাকায় দলের এই কেন্দ্রীয় নেতা এখান থেকে নির্বাচন করবেন বলে বিএনপির প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।