জন্মাষ্টমীতে স্বপ্নদলের ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ মঞ্চস্থ

আগের সংবাদ

রাজনৈতিক দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে ইভিএমের ব্যবহার : প্রধান নির্বাচন কমিশনার

পরের সংবাদ

সৌদি আরবে নির্যাতিত নারী শ্রমিক

সেফ হোমেও ‘সেফ’ নয়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ , ১২:৩১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮, ১২:৩১ অপরাহ্ণ

সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসেও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন নির্যতানের শিকার নারীরা। কফিলের (নিয়োগকর্তা) নির্যাতনের শিকার হয়ে দূতাবাসে আশ্রয় নেয়া নারী কর্মীদের জোর করে, প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করেন সেখানকার প্রতিনিধিরা।
সেফ হোমে আশ্রয় নেয়া মেয়েদের দুরাবস্থার কথা বলতে গিয়ে ময়মনসিংহের কুসুম বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘সৌদি আছিলাম ১৫ মাস। এর মইধ্যে সেফ হোমে আছিলাম ছয় মাস। এই ছয় মাসে যা দেখছি কী আর বলবো। শুধু একটা কথা কই বুইঝা নিয়েন।
সেফ হোমে মানুষ যায় নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু ওইখানেও নরক যন্ত্রণা। যেসব মাইয়া দেখতে সুন্দর তাগরে জোর কইরা, লোভ দেখাইয়া সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। আর এমন অবস্থা করে যে, ছিঁড়া ফাইরা দেয়। বাইরে নিয়া গিয়া গাড়ির মইধ্যেও হেরা খারাপ কাম করে।’
সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে চলতি বছরের ২ আগস্ট দেশে ফেরত আসেন তিনি। ২০১৭ সালে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদির রিয়াদে যান কুসুম। ১৫ মাস রিয়াদে ছিলেন। এর মধ্যে মালিকের বাসায় কাজ করেছেন ৭ মাস। সেফ হোমে ছিলেন ছয় মাস আর এজেন্সির অফিসে ছিলেন দুই মাস।
কুসুম জানান, দূতাবাসে কর্মরত লোকমান, ফাহাদ, কাউসার, মেহেদী হাসান, গোলাম, রশিদ ও মাইনুদ্দিন সেফ হোমে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশি মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। তিনি বলেন, ‘হেরা ওইখানে কাজ করে না। প্রেম করে। মেয়েদের সর্বনাশ করে। ময়মনসিংহের নাজমা, আমেনা, মিনারার মতো মাইয়াগর লগে হেরা কী করছে তা আমি দেখছি। গোপন রাস্তায় রড ঢুকায়েও হেরা নির্যাতন করে।
২৯ আগস্ট বিমানবন্দর থানাতে দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলরের পিয়ন চট্টগ্রামের লোকমান ও মেহেদী হাসান, ড্রাইভার গোলাম, ফরহাদকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের প্রতারনার শিকার হয়ে ২৮ আগস্ট দেশে আসেন সাভারের জিরানি এলাকার রুনা লায়লা (২৪)। ঢাকায় এসে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেও প্রাণে বেঁচে যান।
২০১৬ সালের ১৭ মার্চ সৌদি আরব যান রুনা। সেখানে এক বাসায় কাজ করে ৮ মাস বেতন না পেয়ে সৌদিতে বাংলাদেশি দূতাবাসের শরণাপন্ন হন। সেখানে লোকমান নামে এক স্টাফ তাকে সহযোগিতা করে। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্নভাবে প্রতারণা ও দৈহিক সম্পর্ক করে।
রুনা জানান, লোকমান, মেহেদী, গোলাম, ফরহাদ তাকে নানাভাবে নির্মম নির্যাতন করে। লোকমান তার সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক করে। তারা অসহায় গৃহকর্মীদের সাহায্যের নামে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে দেহ ব্যবসা করাতো।
দুই কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত তদন্ত কমিটি গঠন : এদিকে গতকাল রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রুনার নির্যাতনের সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক দুজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দূতাবাস এ পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে চ‚ড়ান্ত অপসারণসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং যে কোনো কর্মচারীর অনভিপ্রেত কর্মকানন্ডের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করবে দূতাবাস।